ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা কিউআরে মার্চেন্ট ৩০ লাখ ছাড়াল

বাংলা কিউআরে মার্চেন্ট ৩০ লাখ ছাড়াল
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১১:২৭

বাংলা কিউআর লেনদেনে আগ্রহ বাড়ছে। ন্যূনতম ১ শতাংশ চার্জের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার নির্দেশনার পর মার্চেন্ট ও গ্রাহক সংখ্যা যেন লাফিয়ে বাড়ছে। সব মিলিয়ে এখন বাংলা কিউআরে মার্চেন্ট সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। কোডভিত্তিক লেনদেনে এটি বাধ্যতামূলক হওয়ার প্রথম মাস জুলাই শেষে ছিল ২৪ লাখ। আর গড় লেনদেন বেড়ে গত সপ্তাহে দৈনিক ১১০ কোটি টাকার ওপরে উঠেছে। গত জুলাইতে দৈনিক গড়ে ৪০ কোটি টাকার সামান্য বেশি লেনদেন হয়।

ক্যাশলেস লেনদেন উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। মার্চেন্টদের আকৃষ্ট করতে গত ১০ আগস্ট আলাদা দুটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। একটি নির্দেশনার মাধ্যমে ‘বাংলা কিউআর’ পরিশোধে মার্চেন্ট থেকে সর্বনিম্ন ১ শতাংশ চার্জের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হয়। অপর এক নির্দেশনার মাধ্যমে লেনদেন খরচের একটি অংশ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি দুই হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠান ১০০ টাকায় ১০ পয়সা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ২০ পয়সা হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ভর্তুকি পাবে। এই নির্দেশনা কার্যকর হবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালে আন্তঃব্যাংক কোডভিত্তিক লেনদেন নিষ্পত্তিতে বাংলা কিউআর ব্যবস্থা চালু করে। এতদিন এটা বাধ্যতামূলক ছিল না। ‘এক দেশ এক কিউআর’ এই স্লোগানে গত ১ জুলাই থেকে সব ব্যাংক, এমএফএস ও মোবাইল ওয়ালেটের কোডভিত্তিক লেনদেন বাংলা কিউআরে বাধ্যতামূলক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানো, ছাপানো নোটের ব্যবহার কমানো এবং লেনদেনকে সাশ্রয়ী ও দ্রুত করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এক দেশ এক কিউআর নীতির ফলে গলির দোকান, শপিংমল, ফুটপাত বা অন্য যে কোনো বিল সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানে কোনো একটি ব্যাংক বা এমএফএসের কিউআর থাকলেই যে কোনো ব্যাংক বা এমএফএসের গ্রাহক সেখানে পরিশোধ করতে পারেন। বিক্রেতাকে এখন আর একাধিক কিউআর রাখার ঝামেলা নিতে হচ্ছে না। এ ব্যবস্থা জনপ্রিয় করতে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল করা হয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে মাস শেষে একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠান লেনদেনের শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান লেনদেনের শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন জনপ্রিয় হলে টাকা ছাপানোর প্রয়োজনীয়তা কমবে।

দ্রুত বাড়ছে মার্চেন্ট ও লেনদেন

বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআরে যুক্ত মার্চেন্ট সংখ্যা ও লেনদেনের পরিমাণ সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তদারকি করছে। মার্চেন্ট বৃদ্ধির সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে এ ব্যবস্থায় পরিশোধ বাড়ছে। সর্বশেষ সপ্তাহ গত ১৬ থেকে ২২ আগস্ট এ ব্যবস্থায় মোট ৭৭৩ কোটি টাকা পরিশোধ হয়। দৈনিক গড় পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহ ৯ থেকে ১৫ আগস্ট দৈনিক ৯৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ২ থেকে ৮ আগস্ট গড়ে ৭০ কোটি টাকার কম পরিশোধ হয়। বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক হওয়ার প্রথম মাস গত জুলাইতে মোট এক হাজার ২৫০ কোটি টাকা পরিশোধ হয়। এতে দৈনিক গড় পরিশোধ দাঁড়ায় ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আগের মাস জুনে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৪৫ কোটি টাকা। মে মাসে ৪৭৯ কোটি, গত এপ্রিলে ১৯৯ কোটি মার্চে ২২৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২১৮ কোটি এবং জানুয়ারিতে ২১২ কোটি টাকা পরিশোধ হয়। এর মানে প্রতি মাসেই পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে এখন ৪২টিতে উঠেছে। সারাদেশে মার্চেন্ট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩০ লাখ ৩১ হাজার ৯০৮টি। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার। মোট মার্চেন্টের যা ৬১ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত ১ আগস্ট পর্যন্ত ৩৭টি প্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআরে যুক্ত ছিল। ওই সময় পর্যন্ত সারাদেশে মার্চেন্টের সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ২৫ হাজার ১৩৩টি। চলতি মাসের ২১ দিনে ছয় লাখ ছয় হাজার ৭৭৫টি নতুন মার্চেন্ট যুক্ত হয়েছে। দৈনিক যা প্রায় ২৯ হাজার।

মার্চেন্ট প্রতিস্থাপনে শীর্ষে থাকা বিকাশের গত ২২ আগস্ট পর্যন্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট লাখ তিন হাজার ৪৫৪টি। দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসা পূবালী ব্যাংকের মার্চেন্ট এখন তিন লাখ ৯৪ হাজার ৬২৮টি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংকের মার্চেন্ট দুই লাখ ৬৩ হাজার ২২টি। সোনালী ব্যাংকের মার্চেন্ট সংখ্যা বেড়ে দুই লাখ আট হাজার ৫৫৩টিতে ঠেকেছে। পঞ্চম অবস্থানে থাকা টালিপের মার্চেন্ট এখন দুই লাখ চার হাজার ৩৫৮টি। এর পরই রয়েছে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রকেট। প্রতিষ্ঠানটির মার্চেন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬২ হাজার ৮৮০টি। পর্যায়ক্রমে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে– অগ্রণী ব্যাংকের এক লাখ ৫৩ হাজার ৮৫০টি, সেবা ফিনটেক এক লাখ ১৯ হাজার, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এক লাখ ১১ হাজার ৩৫০ এবং রূপালী ব্যাংকের মার্চেন্ট এখন ৯৭ হাজার ২৫৩টিতে উঠেছে।

আরও পড়ুন

×