ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুইক রেন্টালের দুর্নীতির তদন্ত হওয়া উচিত: বিইআরসি চেয়ারম্যান

কুইক রেন্টালের দুর্নীতির তদন্ত হওয়া উচিত: বিইআরসি চেয়ারম্যান
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫৩

কুইক রেন্টালের নামে অতীতে কিছু ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে অনিয়ম করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেছেন, কুইক রেন্টালের মেয়াদ তিন বছর হওয়ার কথা ছিল। বিনিয়োগের অর্থ উঠে যাওয়ার পরও নবায়নের সময় শুধু পরিচালন ব্যয়ের ভিত্তিতে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ না করে প্রায় আগের দামেই বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে। ফলে কুইক রেন্টাল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

শুক্রবার রাজধানীর এফডিসিতে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জালাল আহমেদ এসব কথা বলেন। বিতর্কের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের চলমান জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসনের সম্ভাবনা নেই। তবে সরকারের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটানো সম্ভব। এ জন্য সরকারকে নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকসহ অনেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহিত হবেন।

জালাল আহমেদ বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিশ্র জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, অতীতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছিল। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবর্তে কমিশনের স্বার্থে এলএনজি আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত সরকারের সময় জ্বালানি নীতি ছিল বিভ্রান্তিকর, বিতর্কিত ও তোষণমূলক। ওই সময়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এর প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদনে। এ পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করা হলে তা তাদের প্রতি অবিচার হবে।

তিনি আরও বলেন, বাপেক্সকে কার্যত অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। আমদানিনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে বাপেক্স কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তার ভাষ্য, অতীতে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ‘ভয়াবহ দুর্নীতির আখড়া’। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিপুল অর্থ নেওয়া হয়েছে।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দ্রুত সমাধান করে শিল্পকারখানাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। জ্বালানি সমস্যা সমাধান করা না গেলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে, রপ্তানি আয় কমবে, খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এবং পরিবহন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়বে। একই সঙ্গে বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগই বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (নিটার) পরাজিত করে সরকারি বাঙলা কলেজ বিজয়ী হয়েছে।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সাংবাদিক সদরুল হাসান, রিশান নসরুল্লাহ, সাজ্জাদ হোসেন, রফিকুল বাসার ও আতিকুর রহমান। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×