ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানে ‘প্রত্যাশী’র ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক

ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানে ‘প্রত্যাশী’র ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক
×

লোগো

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:৪২

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এই উদ্বোধনী আয়োজনে মাঠপর্যায়ে অংশ নেবেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যাশীর ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যালায়েন্স’ (ওয়াইভিএ)-এর ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবক।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় কর্মসূচিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করবেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের (ডিডিএম) সমন্বয়ে প্রত্যাশীর এই ৫০০ জন আরবান ভলান্টিয়ার সরাসরি ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। 

প্রত্যাশী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই স্বেচ্ছাসেবকরা ১০টি দলে বিভক্ত হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ১০টি এলাকায় দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন, ডেঙ্গুর উৎসস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণায় কাজ করবেন। তাদের সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মাঠে থাকবেন।

নির্ধারিত এলাকার মধ্যে রয়েছে মগবাজার মোড়, কুড়িল বিশ্বরোড, ইব্রাহিমপুর খাল (পুলপাড়), লায়ন এ বাদল চক্ষু হাসপাতাল রোড, দক্ষিণ বনশ্রী, মোরাদিয়া এসটিএস–ফরাজী হাসপাতাল–মেইন রোড, মাদারটেক মেইন রোড, কমলাপুর–বৌদ্ধ মন্দির–পদ্মা কানন বা অতীশ দীপঙ্কর সড়ক, কমলাপুর স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশ বা বিশ্বরোড এবং আবদুল্লাহপুর ও দিয়াবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এবারের কার্যক্রমে শুধু মশক নিধনের পরিবর্তে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস বা ‘সোর্স রিডাকশন’-এর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জমে থাকা পানি অপসারণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হবে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হবে।

কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রত্যাশী ইতোমধ্যে নিজেদের স্বেচ্ছাসেবকদের নিবন্ধন, এলাকা পরিদর্শন, দলভিত্তিক প্রস্তুতি এবং মাঠপর্যায়ের প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। মূলত দুর্যোগ প্রস্তুতি, জরুরি সাড়া প্রদান ও সামাজিক স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে তরুণদের সংগঠিত করে থাকে প্রত্যাশীর ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যালায়েন্স।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধের এই কর্মসূচিতে ৫০০ স্বেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহণ প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এক লাখ নগর স্বেচ্ছাসেবক তৈরির জাতীয় উদ্যোগেরই একটি অংশ। প্রশিক্ষিত এই আরবান ভলান্টিয়াররা শুধু দুর্যোগ মোকাবিলায় নয়, বরং জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন জাতীয় কার্যক্রমে সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করার সক্ষমতা রাখেন। 

এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে একটি সুসংগঠিত ও দক্ষ নগর স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। 

আরও পড়ুন

×