ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাত সেমিনারে বক্তারা

আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে সমাজে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ছিল নারীদের

আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে সমাজে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ছিল নারীদের
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০০:২৬

আঁধার রাতের বুক চিরে কালো জুলমতের পর্দা সরিয়ে বিশ্বমানবতার মুক্তি ও কল্যাণের দিশারি হিসেবে পৃথিবীতে এসেছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। বিশ্বনবী হচ্ছেন ইসলামের প্রধান ও পবিত্রতম মুখপাত্র। আর সংক্ষেপে ইসলাম হচ্ছে কোরআন ও সুন্নাহর সমাহার। এমন একটা সময়ে, এমন একটা সমাজে রাসুল করিম (সা.) এসেছিলেন, যে সময়কে বলা হয় আইয়ামে জাহেলিয়াত। আর এ সমাজে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ছিল নারীদের।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘কর্মজীবী নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ ও নীতি’ শীর্ষক সিরাত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে লেখিকা ও নারী সংগঠক কামরুন নেছা মাকসুদা বলেন, পুরুষ ছিল প্রভু আর নারীরা ছিল তাদের দাসী। মনে করা হতো পুরুষের সেবা ও তার জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্যই নারীর পৃথিবীতে আগমন। তাদের পণ্য ব্যতীত অন্য কিছু মনে করা হতো না। নারীদের ছিল না কোনো অর্থনৈতিক অধিকার কিংবা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এমন একটা সমাজে রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুয়ত লাভের পর যখন ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করলেন, তখন সে সমাজে নারীদের অবস্থার পরিবর্তন হলো। নারীদের এমন সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হলো, যা একজন মানুষের প্রাপ্য।

তিনি আরও বলেন, সেই ১৪০০ বছর আগেই রাসুল করিম (সা.) নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। যেসব নারী অর্থের বিনিময়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট কোনো কর্মক্ষেত্রে শ্রম, মেধা ও মনন ব্যয় করে পেশাগত কাজে যুক্ত থাকেন, তারাই কর্মজীবী নারী। কর্মজীবী নারীদের মধ্যে আছেন পেশাজীবী ও শ্রমজীবী নারী। বর্তমানে বাংলাদেশে শ্রমজীবী ও পেশাজীবী নারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার, যা মোট শ্রমশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ জেন্ডার ডেটা পোর্টাল অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণের হার ৩৮.৬ শতাংশ। ২০২৩ সালে যেখানে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫৩ লাখ, সাম্প্রতিক সময়ে তা কিছুটা কমে ২ কোটি ২৮ লাখে দাঁড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, ডা. আমেনা বেগম প্রমুখ। 

আরও পড়ুন

×