ইরান যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত
শীর্ষ রপ্তানিকারক থেকে এখন এলএনজি কিনতে চায় কাতার
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৫
ইরান যুদ্ধে নিজেদের গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে কাতার। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানিকারক দেশ এখন মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি কেনার আলোচনা করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে চালু থাকা এবং নির্মাণাধীন– উভয় প্রকল্প থেকে এলএনজি কেনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু গোপন আলোচনা ও দরকষাকষি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেল, কাতার পশ্চিম এশিয়ার বাইরে থেকে বিকল্প এলএনজি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত নিজেদের পোর্টফোলিও সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে করা অঙ্গীকার রক্ষায় এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করত কাতার। তবে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশটির এলএনজি রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে কাতারের পরিকল্পনা ছিল, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করা। ২০৩০ সালের মধ্যে রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করার একটি মেগা প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছিল দোহা। তবে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস লাফান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই হামলার জন্য সেই সময় ইরানকে দায়ী করা হয়েছিল। কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ মেরামত ও পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করতে অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে থেকে সরবরাহ নিশ্চিতের কৌশল
যেহেতু চলমান যুদ্ধ শিগগিরই বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তাই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশলে হাঁটছে কাতার। দোহা এখন তাদের এলএনজি বাণিজ্য শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে থেকে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গোল্ডেন পাস এলএনজি টার্মিনালের মালিকানায় কাতারের অংশীদারিত্ব রয়েছে। ফলে আগে থেকেই মার্কিন গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ তাদের হাতে ছিল। গত এপ্রিলে টেক্সাসের এই টার্মিনালটি থেকে বাণিজ্যিক রপ্তানি শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে।
পাশাপাশি কাতারএনার্জির বাণিজ্যিক শাখা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত এলএনজি বাজারজাত ও পরিবহনের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এতদিন স্বল্পমেয়াদি স্পট মার্কেটের চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত গ্যাস সংগ্রহ করত কাতার। তবে বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে গ্রাহক ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তির দিকেই এগোচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ।
- বিষয় :
- ইরান যুদ্ধ
- কাতার
- এলএনজি