সীমান্তে ভুল করে প্রবেশ
নৌকাবোঝাই পাটসহ বিএসএফের হাতে আটক ৫ বাংলাদেশি
মোশাররফ হোসেন, সাহাবুল আলী ও বাবর আলী
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:০০
রাজশাহীর বাঘায় পাট কিনে নদীপথে ফেরার সময় ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে পড়ায় পাঁচ বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এদের মধ্যে তিনজন পাট ব্যবসায়ী এবং দুজন নৌকার মাঝিমাল্লা। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বাংলাবাজার‑সংলগ্ন পদ্মা নদী এলাকা থেকে পাটবোঝাই নৌকাসহ তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন– উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন, সাহাবুল আলী, বাবর আলী (৪০) এবং নৌকার দুই মাঝি সাইফুল ইসলাম ও আশাদুল ইসলাম (৩৮)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা পাট কিনে নৌকায় নদীপথে ফিরছিলেন। রাতে নদীতে তীব্র স্রোতের বিপরীতে নৌকা চালাতে গিয়ে মাঝিরা দিক ভুল করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার ভেতরে চলে যান। এ সময় বিএসএফের টহল দল তাদের পাটবোঝাই নৌকাসহ আটক করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর আটকদের পরিবার বিজিবির আলাইপুর বিওপি ক্যাম্পে যোগাযোগ করলে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও স্বজনদের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো। গতকাল শুক্রবার সরেজমিন আটকদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারি।
আটক মাঝি আশাদুল ইসলামের মেয়ে বৈশাখী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাবাকে ফেরত এনে দিন। বাবা ছাড়া আমাদের সংসার চালানোর কেউ নেই। ধারদেনা করে দিন চলছে।’
আটক কলেজছাত্র মোশাররফের বাবা গোলাম মোস্তফা জানান, অভাবের সংসারে লেখাপড়ার পাশাপাশি মোশাররফ অংশীদারিত্বে পাট কেনাবেচার কাজ করছিল।
স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আটক ব্যক্তিরা এলাকার সুপরিচিত ব্যবসায়ী ও সাধারণ শ্রমজীবী। তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালানের কোনো ইতিহাস নেই। সম্পূর্ণ ভুলবশত তারা ভারতে প্রবেশ করেছেন।
পাকুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু বলেন, ‘আটক ব্যক্তিরা অত্যন্ত দরিদ্র ও নিরপরাধ। ভুলবশত সীমান্তে চলে যাওয়ায় তাদের আটক করা হয়েছে। দ্রুত তাদের ফেরত আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে আলাইপুর বিওপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মাকসুদুর রহমান জানান, বিএসএফের সদরের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিষয়টি কূটনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রসেসে নেওয়ার নির্দেশ পাওয়ায় দ্রুত সমাধান হয়নি।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবহিত হয়েছি। বিজিবির সঙ্গে কথা বলে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।’