মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক ও অধ্যক্ষ আটক
ম্যাপ
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:০৮
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে পিটুনি দিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক। পরে পুলিশ তাকে ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে মনিরুজ্জামান ওই আবাসিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে নাজেরা বিভাগে এক শিক্ষার্থী (১০) ভর্তি হয়। শিক্ষক আল আমিন একদিন ওই শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মারার হুমকি দেন তিনি। এক দিন পর আবার শিশুটিকে ধর্ষণ করেন আল আমিন। এভাবে প্রায় এক মাস চলে। এরই মধ্যে শিশুটির মলদ্বার ও পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। ব্যথার কথা শিশুটি তার মাকে জানায়। তবে শিক্ষকের ভয়ে সে প্রকৃত ঘটনা লুকিয়ে রাখে। তার মা তাকে বাড়িতে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শে পরে কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথার ওষুধ খেয়ে শিশুটি কিছুটা সুস্থ হলে তার মা আবার তাকে মাদ্রাসায় রেখে যান। কয়েক দিন পর সে আবার ব্যথা অনুভব করলে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। পরে কিছুটা সুস্থ হলে শিশুটিকে তার মা আবার মাদ্রাসায় রেখে যান।
শিশুটি সপ্তাহখানেক আগে তার মাকে ফোন করে তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যেতে বলে। শিশুটির মা জানান, হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষার পর গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসক তার সন্তানকে ওই মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে ও অধ্যক্ষকে জানাতে শিশুটির মা ও নানা মাদ্রাসায় যান। অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তখন পাশে থাকা কয়েকজন অভিভাবকও বিষয়টি জানতে পারেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে অভিভাবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে আল আমিনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ গিয়ে আল আমিন ও অধ্যক্ষকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে শিক্ষক আল আমিনকে আসামি করে মির্জাপুর থানায় মামলা করেছেন।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করছেন। ওই মামলায় আল আমিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
- বিষয় :
- ধর্ষণ
- মাদ্রাসা ছাত্র