ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অধিকার রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:১১
কারিগরি শিক্ষা ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এফডিইবি) নেতারা। একই সঙ্গে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নির্ধারিত পদ ও কর্মক্ষেত্র সংরক্ষণ, ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বিদ্যমান নিয়োগ কাঠামো অনুসরণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এফডিইবি আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়। বৈঠকের শিরোনাম ছিল ‘কারিগরি শিক্ষা ধ্বংসের চক্রান্ত, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ন্যায্য অধিকার হরণের অপচেষ্টা এবং দেশের প্রকৌশল খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির অপতৎপরতা বন্ধে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা’।
বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও এফডিইবির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা সাইফুল আলম খান মিলন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও আইডিইবির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুছ ছাত্তার শাহ। সঞ্চালনা করেন এফডিইবির সাধারণ সম্পাদক ও আইডিইবির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী জয়নুল আবেদীন।
আলোচনায় কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, নেসকো ডিপ্রকৌস, রাজশাহীর উপদেষ্টা প্রকৌশলী ড. দেওয়ান মো. শাহ আলম এবং এফডিইবির সহসভাপতি মির্জা মিজানুর রহমান বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথি সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এতে প্রকৌশল খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। সব শূন্য পদে নিয়োগ দিয়ে বেকারত্ব কমানো এবং প্রকৌশল খাতে গতিশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বক্তারা বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, পানি, সড়ক, রেল, স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলসহ বিভিন্ন কারিগরি ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা দীর্ঘদিন ধরে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের দাবি, এই পদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ কোনো অনুকম্পা নয়; বরং সরকারি জনবল কাঠামো ও বিদ্যমান বিধিবিধানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।
বক্তারা আরও বলেন, ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য উন্মুক্ত করার কোনো উদ্যোগ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থান, পদোন্নতি ও পেশাগত অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
বৈঠকে বক্তারা ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালের সরকারি আদেশ (জিও) অনুযায়ী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ১০ম গ্রেড ও ৩৩ শতাংশ পদোন্নতিসহ প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাঁদের মতে, ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা-উভয় পর্যায়ের প্রকৌশলীরাই দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। তাই শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ, কর্মপরিধি ও সরকারি জনবল কাঠামোর সমন্বয়ে সুস্পষ্ট নিয়োগব্যবস্থা প্রয়োজন।
সমাপনী বক্তব্যে এফডিইবির সভাপতি প্রকৌশলী মো. আব্দুছ ছাত্তার শাহ বলেন, কারিগরি শিক্ষা ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় নিয়মতান্ত্রিক ও সাংগঠনিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এফডিইবি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও নেসকোর বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘনের অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যার গঠনমূলক সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
- বিষয় :
- কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
- ইঞ্জিনিয়ার