ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিপক্ষে ডাকসু

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিপক্ষে ডাকসু
×

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২:০৪ | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫:১২

সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। 

শনিবার বিকেলে ডাকসুর নির্বাহী সভায় এসব সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া হলে প্রশাসনের মাধ্যমে সিট বণ্টন, কয়েকটি হলে পরীক্ষামূলকভাবে বাঙ্ক বেড বসানো, ক্যাম্পাসের যানজট নিরসনে নীলক্ষেত থেকে টিএসসি পর্যন্ত একমুখী লেন নির্মাণসহ কয়েক দফা সুপারিশ করা হয়েছে। 

সভা শেষে সন্ধ্যায় ডাকসু জিএস গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এসময় সেখানে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনসহ ডাকসুর অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাবির ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে আমরা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিপক্ষে রায় দিয়েছি। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বতন্ত্র ভর্তি প্রক্রিয়া পদ্ধতি অব্যাহত রাখবে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভাতেও আমরা এই কথা জানিয়েছি।

রব্বানী আরও জানান, হল প্রশাসনের মাধ্যমে সিট বরাদ্দ দেয়া হয়। এজন্য ইতোমধ্যে হল প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিকক্ষদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করি এ নিয়ম ব্যতিক্রম কিছু ঘটবে না। 

তিনি বলেন, আবাসিক হলে যেসব ছাত্রের স্নাতকোত্তর শেষ হয়েছে তাদের ১৫ দিনের মধ্যে হল ছাড়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে সেটা অযৌক্তিক হওয়ায় আমরা নূন্যতম তিন মাস সময় দিয়েছি। তিন থেকে ৬ মাসের মধ্যে তারা যেন হল ছেড়ে চলে যায়। 

গোলাম রব্বানী বলেন, পাঁচটি হলে বাঙ্ক বেডের ব্যবস্থা করা হবে। সেগুলো হলো- কবি জসীম উদদীন হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, স্যার এ এফ রহমান হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং আরেকটি পরে বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের ভ্রাম্যমাণ দোকান নীতিমালা গ্রহণ করা হবে। নির্দিষ্ট দোকানদারকে আইডেন্টিটি কার্ড দেওয়া হবে এর বাইরে কেউ দোকান দিতে পারবে না। ১৫ থেকে ২০টিরও বেশি দোকান থাকবে না। ক্যাম্পাসের যানজট হয় সেজন্য নীলক্ষেত থেকে টিএসসি পর্যন্ত একমুখী লেন তৈরি তৈরি করা হবে। সিটি করপোরেশনকে এ ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এই ব্যবস্থা করা হবে।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম রব্বানী বলেন, ২২ মার্চ ডাকসুর ক্যালেন্ডার সময় শেষ হবে। আমরাও চাই সময়মত নির্বাচন হয়ে যাক। এই ব্যাপারে স্যার পরবর্তীতে মিটিংয়ে জানিয়ে দিবেন। 

তবে এ বিষয়ে সেখানে উপস্থিত ভিপি নুর বলেন, ভিসি স্যার এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পর নির্বাচন হয়েছে। অনেক প্রতিক‚লতা কাটাতে হয়েছে। বিভিন্ন কারণে ডাকসুতে সমন্বয়হীনতা এবং প্রতিক‚লতা ছিল। কিন্তু আজকে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে। তাতে শিক্ষার্থীবান্ধব অনেক উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সব পেমেন্ট অনলাইনে আসার কথা বলা হয়েছে এবং নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য নবীন বরণ করা হবে। এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তাদেরকে দিকনির্দেশনামূলক কথা বলা হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই সরকারের ছাত্র সংগঠন হলগুলোতে দখলদারিত্ব রাখে। এ ব্যাপারে ভিসি স্যার বলেছেন হলের প্রাধ্যক্ষদের নির্দেশ দেবেন যাতে করে প্রথম বর্ষ থেকে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে সিট প্রদান করা হয়। ঢাবির স্বাতন্ত্র ও ৭৩-এর অরডিন্যান্স রক্ষার জন্য সবাই গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বিরোধিতা করেছেন।

এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষের ধারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে এবং সেটাকে ধারণ করার জন্য মল চত্বরে একটি ল্যান্ডমার্ক টাওয়ার তৈরি করা হবে।

এদিকে সভা শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর পদত্যাগ চেয়েছেন ভিপি নুরুল হক নুর। সেখানে তিনি বলেন, সভায় প্রক্টরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে শুধু ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ নয়, ছাত্রলীগের অনেকেও প্রক্টরে পদত্যাগ চেয়েছেন।

তিনি বলেন, সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে গেলে অনেক সময়ই তিনি নেতিবাচক ও রূঢ় আচরণ করে থাকেন। প্রক্টর হিসেবে তিনি এই আচরণ করতে পারেন না। এছাড়াও বিভিন্ন ঘটনায় নীরবতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করে থাকেন। এটি নিয়েও কথা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি কোন সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণই হবে।

লাইভে নুর বলেন, আমার দাবি ছিল, প্রশাসনের মাধ্যমে সিট বণ্টণ করা। অনেকের আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত এজেন্ডাটি রাখা হয়। সব হলে যেন প্রশাসনের মাধ্যমে সিট বণ্টন করা হয়, সে বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এছাড়াও সভায় বিভিন্ন বিভাগে নামে-বেনামের ফি আদায়ের বিষয়ের কথা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×