মৎস্যজীবীর অর্ধেকেরই নেই জেলে কার্ড
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ০০:০৬
দেশে অর্ধেকের বেশি সামুদ্রিক মৎস্যজীবীর 'জেলে কার্ড' নেই। এতে সরকারের দেওয়া নানা সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির (সিডা) আর্থিক সহায়তা এবং ড্যানিশ ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান রাইটসের (ডিআইএইচআর) তত্ত্বাবধানে সহযোগী সংগঠন বিল?স ও কোস্ট ফাউন্ডেশনকে নিয়ে 'মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন' এ গবেষণাভিত্তিক জরিপ চালায়। ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মানিক মিয়া মিলনায়তনে 'জেলে কার্ড পাওয়া বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ও কিছু সুপারিশ' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাভিত্তিক জরিপের ফল তুলে ধরা হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি পরিচালক বনশ্রী মিত্রের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সমাজকল্যাণ সম্পাদক জাকির হোসেন এবং চট্টগ্রাম ফিশিং ট্রলার অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান বাহাদুর। জরিপের ফল তুলে ধরেন বেসরকারি সংস্থাটির সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ।
জরিপে দেখা গেছে, মৎস্যজীবীদের মধ্যে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ জেলে কার্ডধারী। তবে এ হারে এলাকাভেদে ভিন্নতা রয়েছে। বরগুনা জেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নে ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে ৩০ দশমিক ১ শতাংশ মৎস্যজীবী জেলে কার্ডধারী। ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ জেলে পরিবার একমাত্র উপার্জনকারীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল।
৮ হাজার ৬৪৪টি পরিবারের ১০ হাজার ৮২ জন মৎস্যকেন্দ্রিক পেশায় জড়িত মানুষের ওপর এ জরিপ চালানো হয়। মৎস্যকেন্দ্রিক এ পরিবারগুলোর প্রায় সবারই (৯৯ দশমিক ২৭ শতাংশ) প্রধান পেশা মৎস্য আহরণ। এর বাইরেও কিছু পরিবার আছে যাদের আয়ের প্রধান উৎস দিনমজুরি (দশমিক ৩৪ শতাংশ), পাইকারি ব্যবসা (দশমিক ১৩ শতাংশ), শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ (দশমিক ৯ শতাংশ) ইত্যাদি। এ ছাড়া অল্পসংখ্যক পরিবার রিকশা বা অটোরিকশা চালানো, জাল মেরামত, কৃষিকাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদি প্রধান পেশা হিসেবে নিয়েছে।
এতে বলা হয়, মাছ ধরার বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার সময় মৎস্য শ্রমিকরা একদিকে যেমন সরকারের বরাদ্দকৃত চাল সঠিক পরিমাণে পান না, তেমনি প্রদত্ত খাদ্য সহায়তা তাঁদের প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ ছাড়া তাঁরা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার সময় আর্থিক সংকটে দিন পার করেন। এ সংকট পাথরঘাটার (৬৬ শতাংশ) তুলনায় কুতুবজোমে (৮১ শতাংশ) অনেক বেশি।
এতে কয়েক দফা সুপারিশ করা হয়। সেগুলো হলো- অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকৃত 'জেলে' নির্ধারণের জন্য যথাযথভাবে সংজ্ঞায়িত করা, দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তত্ত্বাবধানে গ্রহণযোগ্য ও নির্ভুল জেলে তালিকা প্রণয়ন করা, দুই বছর অন্তর এ তালিকা হালনাগাদ করা, প্রকৃত মৎস্য শ্রমিকদের পরিচয়পত্র দেওয়া, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় প্রতিটি মৎস্য শ্রমিকের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা সঠিকভাবে প্রদান নিশ্চিত করা, খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি দৈনন্দিন নানা ব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কালে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় মৎস্য শ্রমিকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং জরুরি প্রয়োজনে মৎস্য শ্রমিকদের জন্য সহজ শর্তে ও নামমাত্র সুদে ঋণের বন্দোবস্ত করা।
প্রকল্পভুক্ত বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা এবং কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় সরকারি হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৎস্য শ্রমিকের বাস। সে হিসাবে জরিপটি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন এবং মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে চালানো হয়। জরিপে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নে ৩ হাজার ১৪১ পরিবার এবং কুতুবজোম ইউনিয়নে ৫ হাজার ৫০৩টি পরিবার অংশ নিয়েছে।
- বিষয় :
- মৎস্যজীবী
- জেলে কার্ড
