'সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার বিচার চলতে বাধা নেই'
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০১৯ | ০৬:৩০
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের সমকালের প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করতে আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চে বুধবার আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, তারা মামলাটি প্রত্যাহার করতে চান। এ পর্যায়ে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি অকার্যকর ঘোষণা করে তা খারিজ করেন।
এর ফলে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ হত্যা মামলার বিচার চলতে আইনগত কোন বাধা নেই বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
এর আগে গত ২৯ আগষ্ট এ হত্যা মামলাটি রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে মামলার কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি বিস্ফোরক মামলার কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়।
তবে এই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন এবং বিষযটি আপিল বিভাগের নিয়মীত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন।
ওই আদেশ অনুযায়ী সোমবার আপিল বিভাগ শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীকে বলেন, মামলা স্থগিতের আবেদনটি সঠিকভাবে করা হয়নি। এ পর্যায়ে আসামিপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে একদিন সময় চান।
বুধবার আসামি পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, যে আবেদনের পরিপ্রক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছিল হাইকোর্ট, সেই মামলাটি তারা চালাবেন না।
এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন অকার্যকর বলে তা খারিজ করেন। ফলে শিমুল হত্যা মামলাটি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালেই যথারীতি চলবে বলে সমকালকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।
আদালতে আসামি পক্ষে ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন আর বাদি পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বর্তমানে শিমুল হত্যা মামলা রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের পর্যায়ে রয়েছে।
২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বিজয় মাহমুদকে অপহরণের পর মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাড়িতে আটকে রেখে তার দুই সহোদরের মারপিটের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়।
ওই সংঘর্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আওয়ামী লীগ নেতা মেয়র মিরুর রাইফেল থেকে ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পরদিন হাসপাতালে মারা যান সাংবাদিক শিমুল। এ ঘটনায় মিরু ও তার সহোদর হাবিবুল হক মিন্টুসহ ৪০ জনকে আসামি করে শাহজাদপুর থানায় মামলা করেন নিহত শিমুলের স্ত্রী।
মামলার ৩ মাস পর ২০১৭ সালের ২ মে শাহজাদপুর আমলী আদালতে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে
অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। আসামিপক্ষের নানা ধরনের টালবাহানার কারণে
চার্জগঠন বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে বাদীপক্ষ দাবি করছে।
