ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাংবাদিককে সাজার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
আরিফুল ইসলাম
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২০ | ০০:৩১ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২০ | ০০:৩৮
মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
রোববার বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদের পক্ষে আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ১৭ জনকে রিটে বিবাদী করা হয়।
ইশরাত হাসান বলেন, বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।
রিটে ফৌজদারী কার্যবিধি, ভ্রাম্যমান আদালত আইন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৫ এবং ৩৬ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘণের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আনসার সদস্যদের একটি টিম আরিফুল ইসলামের চড়ুয়াপাড়ার বাড়িতে যায়। এরপর মারধর করতে করতে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তার পোশাক খুলে দুই চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। এসব ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন ডিসি কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন। এরপর আরিফুলকে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ও পরে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠান ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তবে আরিফুলের স্ত্রী মোস্তারিমা সরদার নিতু বলেছেন, 'মধ্যরাতে দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে আরিফকে পেটানো ও জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।'
তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ এবং ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশাসনের লোকজন আরিফুলকে এভাবে তুলে নিয়ে যায়। তিনি স্বামীর মুক্তি এবং এ ঘটনার তদন্ত করে ন্যায়বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনার পর রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলাম এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্তে দোষী প্রমাণ হলে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন দু-এক দিনের মধ্যে প্রত্যাহার হতে পারেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত-সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।
কুড়িগ্রামের ডিসি একটি পুকুরের নামকরণ নিজের নামে করেছিলেন। আরিফুল এ বিষয়ে রিপোর্ট করেছিলেন। এ ছাড়া সম্প্রতি একটি নিয়োগে অনিয়ম নিয়ে ডিসির বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন।
