সাজা দেখার অপেক্ষায় ৯ বছর কাটল খুরশিদার
পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া ইশতিয়াক হোসেন জনি
ইন্দ্রজিৎ সরকার
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ০৪:৪৮
রাজধানীর পল্লবীতে পুলিশ হেফাজতে জনি হত্যার পর ৯ বছর ধরে এভাবেই অপেক্ষার প্রহর গুনছে ভুক্তভোগী পরিবার। নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের প্রথম এ মামলায় প্রায় আড়াই বছর আগে তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের সাজার রায় দেন আদালত। তবে গ্রেপ্তার চার আসামি আপিল করায় থেমে গেছে রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া। আবার রায়ের পেপারবুক এখনও তৈরি না হওয়ায় আপিলের শুনানিও শুরু হয়নি। ফলে খুরশিদা বেগমের অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, দণ্ডিতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু এখনও পলাতক। আর দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর পুলিশের সোর্স রাসেল গত বছর গ্রেপ্তার হলেও এখন জামিনে রয়েছে। আমরা তার জামিন বাতিলের আবেদন করব। এ ছাড়া চার আসামির আপিল শুনানি এক আদালতে একসঙ্গে করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। এতে বিচারপ্রার্থীর পক্ষে আইনি লড়াই চালানো সহজ হবে।
এদিকে দ্রুত রায় কার্যকরের পাশাপাশি পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছে লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ দাবি জানায়।
পল্লবী-১১ নম্বর সেকশনের ইরানি ক্যাম্পে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গাড়িচালক জনি ও তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকিকে আটক করে পুলিশ। তাদের পল্লবী থানায় নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে পরদিন জনির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ৭ আগস্ট হেফাজতে মৃত্যু আইনে মামলা করেন রকি। বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেন।
২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এ মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তাঁরা হলেন- পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই রাশেদুল হাসান ও কামরুজ্জামান মিন্টু, পুলিশের সোর্স সুমন ও রাসেল।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। এতে তিন পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন এবং দুই সোর্স সুমন ও রাসেলকে সাত বছরের কারাদ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে দণ্ডিত প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তাকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়।
নিহতের ছোট ভাই ও মামলার বাদী ইমতিয়াজ হোসেন রকি সমকালকে বলেন, সবার সহযোগিতায় দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি। তবে আমাদের অপেক্ষা শেষ হয়নি। আমি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমার ভাইয়ের দুই সন্তানের দায়িত্ব নেওয়া, যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পলাতক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
এ মামলায় বাদীকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে ব্লাস্ট। ব্লাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না বলেন, মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে পরিবার যে ভোগান্তির শিকার হয়, তা থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট নীতিমালা ও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির পদক্ষেপ থাকা প্রয়োজন। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি বা তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে কল্যাণ তহবিল গঠন করা দরকার।
- বিষয় :
- জনি হত্যা
- পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু
