ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

করোনা রোগী আসার খবরে হাসপাতাল ছাড়ছেন সাধারণ রোগীরা

করোনা রোগী আসার খবরে হাসপাতাল ছাড়ছেন সাধারণ রোগীরা
×

লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল -ফাইল ছবি

 লালমনিরহাট ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২০ | ১০:৩১

করোনাভাইরাস আক্রান্তের লক্ষণ নিয়ে রোগী আসার খবরে হাসপাতাল ছাড়ছেন আতঙ্কিত সাধারণ রোগীরা। সৌদিফেরত এক নারী করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন- এমন খবরে এক রাতে ৩৮ জন ভর্তি রোগী পালিয়েছেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ইতালিপ্রবাসী এক যুবকসহ তার পরিবারের তিনজনকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে- এমন খবরে ভর্তি থাকা সাধারণ রোগীরা পালিয়ে গেছেন।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের নিচপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী সৌদিফেরত মোর্শেদা ফেলানী (২৮) করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে জানতে পারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে এ খবর চলে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৮ রোগী তাদের বিছানাপত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা আর ফিরে আসেননি।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মন্‌জুর মোর্শেদ জানান, গত শুক্রবার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ১শ' শয্যার বিপরীতে ১৩৪ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। করোনার লক্ষণযুক্ত রোগী আসার খবরে ওই রাতেই ৩৮ জন কাউকে না বলে চলে যান। যদিও ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেননি।

তিনি আরও জানান, পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সৌদিপ্রবাসী ওই নারী গত মাসের ২০ তারিখে ঢাকায় ও ২৭ তারিখে লালমনিরহাটে আসেন। তিনি কোয়ারেন্টাইন সময় অতিক্রম করেছেন এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন। আইইডিসিআর ও জেলা সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে প্রবাসী ওই নারী চিকিৎসা নিতে আসছেন- এমন তথ্য জানতে পারে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন নির্মলেন্দ রায় সমকালকে জানান, জেলায় ৯১ জন হোম কোয়ারেন্টাইন ও একজন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়সাল আহমেদ বলেন, ৭ দিন আগে রূপসী এলাকার তমিজ উদ্দিনের মেয়ের জামাই ইতালিপ্রবাসী আরিফ হোসেন এয়ারপোর্ট থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে না গিয়ে তার নিজ বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় চলে যান। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে আরিফ দু'দিন আগে শ্বশুরবাড়িতে এসে ওঠেন। এখানে তার অবাধ চলাফেরার বিষয়টি এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি আরিফসহ তার পরিবারের ১৫ জনকে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেন। শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন আরিফ, তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার ও মেয়ে আলিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য নিয়ে আসে। সেখানে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাদের পর্যবেক্ষণ করছেন। এদিকে করোনা আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন- এমন খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে হাসপাতালজুড়ে। হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যেতে থাকেন সাধারণ রোগীরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাঈদ আল মামুন বলেন, প্রবাস থেকে ফিরে আসা বা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহ হয় এমন ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইন হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×