সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড
কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন প্রতারণার শিকার আরও ১০৯ জন
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ১১:১৭
উচ্চ বেতনের প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় গিয়ে সাইবার স্ক্যাম চক্রের ফাঁদে পড়া আরও ১০৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে (TG-339) তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর মাধ্যমে গত চার দিনে মোট ৩৬২ জন এবং শুধু জুন মাসেই কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ভুক্তভোগী দেশে ফিরলেন।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে তাদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
দেশে ফেরা ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ প্রতারণা ও নির্যাতনের চিত্র। লক্ষ্মীপুর জেলার এক ভুক্তভোগী জানান, একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে কম্বোডিয়ায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তার জন্য বিএমইটির ছাড়পত্রও সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর এক মাসের ভিজিট ভিসা দিয়ে তাকে দালালদের কাছে তুলে দেওয়া হয় এবং টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয় একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে।
আরেক ভুক্তভোগী জানান, বিদেশি নাগরিকদের টার্গেট করে তাদের দিয়ে অনলাইনে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত টার্গেট পূরণ করতে না পারলে স্ক্যাম কম্পাউন্ডের ভেতরের আলাদা টর্চার সেলে আটকে মারধর, শারীরিক নির্যাতন এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময় স্ক্যাম চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলে এসব ভুক্তভোগী মুক্তি পান।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জুন মাসে ৫৮৩ জনের দেশে ফেরার ঘটনাই প্রমাণ করে কী বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এই চক্রের শিকার হয়েছেন। ইতোমধ্যেই ফিরে আসা বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী মামলা করেছেন।
পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক পাচারচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
ব্র্যাক জানিয়েছে, কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদের ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হচ্ছে। এ কারণে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে যাওয়ার আগে চাকরির সত্যতা ও ভিসার ধরন ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে ব্র্যাক।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, হাজার হাজার বাংলাদেশি এখনো সেখানে প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, জুন মাসে দেশে ফিরে আসা ৫৮৩ জনের অনেকের কাছেই বিএমইটির বৈধ ছাড়পত্র ছিল। এর আগে একই প্রক্রিয়ায় প্রতারণার শিকার হয়ে মিয়ানমারের সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের থাইল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে পাচার করা হয়েছিল।
এ কারণে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে চাকরির সত্যতা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভিসার ধরন সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ব্র্যাক।
- বিষয় :
- কম্বোডিয়া
- প্রতারণা চক্র
- প্রতারণা
