করোনা চিকিৎসার পরিধি বাড়ছে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২০ | ১৪:৪৪ | আপডেট: ২১ মার্চ ২০২০ | ১৪:৫৩
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন করে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত বিদেশফেরত ও তাদের পরিবার এবং স্বজনদের মধ্যে এই সংক্রমণ সীমাবদ্ধ রয়েছে। আবার অনেকে বলেছেন, করোনার সংক্রমণ কমিউনিটি পর্যায়ে অর্থাৎ, সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। গতকাল শনিবার করোনায় যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, তিনি বিদেশফেরত কারও সংস্পর্শে আসেননি। এমনিক বিদেশে তার কোনো স্বজনও নেই। এ ঘটনা দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। চীনে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সরকারিভাবে নানা প্রস্তুতির কথা বলা হলেও এতদিন এসব চিকিৎসাসরঞ্জাম আনা হয়নি। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে সংশ্নিষ্টদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বলে মনে করছেন।
এসব আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা প্রতিরোধ-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক করোনার চিকিৎসার পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দেন। বিকেলে অপর এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, চীন ১০ হাজার টেস্টিং কিট ও ১০ হাজার প্রটেক্টিং ইকুইপমেন্ট তৈরি রেখেছে। যে কোনো সময়ে ভাড়া করা উড়োজাহাজে এসব চলে আসবে। এ ছাড়া অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কিট এবং সুরক্ষা যন্ত্রপাতি আনার চেষ্টা করছে।
দুই মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিয়ে যে সংকট চলছিল, তা দূর হতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসার পরিধি বাড়িয়ে রাজধানী থেকে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বিস্তৃত করার কাজ শুরু করেছে। এতদিন করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা কেবল আইইডিসিআরে করা হতো। এখন তা আরও সাতটি স্থানে করা হবে। রাজধানীর আরও দুটি হাসপাতাল ও দুটি স্থানকে চিকিৎসা এবং কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে রাজধানীর মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং চানখাঁরপুলের শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে যে কোনো সময় এই দুটি হাসপাতালকে গ্রহণ করে রোগীদের চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে। এর আগে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি ও টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় সন্দেহভাজনদের কোয়ারেন্টাইন করা হবে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের এতদিন একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরে পরীক্ষা করা হচ্ছিল। সেখানে আটটি মেশিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কাজ চলছিল। নতুন করে আরও সাতটি মেশিন আনা হয়েছে। এগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হবে। তবে রাতারাতি এসব মেশিন স্থাপন করা সম্ভব নয়। এজন্য কিছুটা সময় লাগবে।
করোনা মোকাবেলায় চীন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে আমরা আরও একটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। চীন থেকে কিছু এক্সপার্ট আনার চিন্তাভাবনা করছি। চীনের ডাক্তার-নার্স যারা উহানে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাদের এনে আমাদের ডাক্তার-নার্সদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন হাসপাতাল দেখে আরও কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, সে বিষয়ে তারা পরামর্শ দেবেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। করোনা মোকাবিলায় চীন সফল হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা কাজ করব।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ এ ভাইরাসকে গুরুত্বসহকারে নেয়নি বলে তাদের অবস্থা খুব খারাপ। আগেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে কোরিয়া, তাইওয়ান তুলনামূলক ভালো আছে। সীমিত সম্পদ নিয়ে দুই মাস ধরে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। এর পরও আমরা ভালো আছি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চীন পিপিই, টেস্টিং কিট, মাস্কসহ কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া কথা জানিয়েছে। সেগুলো চলে আসবে। আরও বেশকিছু উপকরণ আমরা আমদানি করছি।
