ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেশি শক সিনড্রোমে

ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেশি শক সিনড্রোমে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৩ | ০৩:৫৮ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৩ | ০৪:৩১

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শক সিনড্রোমে এবার বেশি মৃত্যু হচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ২২ জন, তাদের অধিকাংশই ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে ভুগছিল এবং শক সিনড্রোমে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া এ বছর দেশের তিন বিভাগে সর্বোচ্চ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, এর পরই রয়েছে চট্টগ্রাম ও বরিশাল।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর শক সিনড্রোমের লক্ষণ হচ্ছে রক্তক্ষরণ ও শরীরের পানিশূন্যতার কারণে রোগীর অচেতন হয়ে পড়া। অনেক রোগী স্পষ্ট করে কথা বলতে পারেন না। গত দুই দশকের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি ছিল ২০১৯ সালে। ওই বছরও শক সিনড্রোমে বেশি মৃত্যু হয়েছিল। তবে এবার কেন রোগীর মধ্যে ডেঙ্গুর শক সিনড্রোম বেশি দেখা যাচ্ছে জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন বা সেরোটাইপ আছে। ডেনভি-১, ডেনভি-২, ডেনভি-৩ ও ডেনভি-৪। এবার ডেনভি-৩-এর প্রকোপ বেশি। এর উপসর্গ ও জটিলতা অনেক বেশি মারাত্মক।

এদিকে এবার বর্ষা মৌসুমের আগেই ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। জুনের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর বিস্তার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এই রোগীদের

এক-তৃতীয়াংশই ভর্তি হয়েছে জুনের প্রথম ১০ দিনে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত ২২ রোগীর ৯ জনই এ সময়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৫৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে এই বছর ৩ হাজার ২১ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯৯৯ জনই জুন মাসে। গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫৪৯ জন। মাসের হিসাবে আক্রান্তদের সংখ্যা জানুয়ারিতে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬, মার্চে ১১১, এপ্রিলে ১৪৩ এবং মে মাসে ১০৩৬ জন।

গতকাল ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক এক বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে এবার শক সিনড্রোমে বেশি মৃত্যু হয়েছে। এরা হাসপাতালে এসেছে প্রায় শেষ সময়ে। আমরা ক্লিনিক্যালি তাদের মৃত্যুর

কারণ জানার চেষ্টা করেছি। সেই তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মৃতদের প্রায় প্রত্যেকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে ভুগছিল এবং শক সিনড্রোমে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কারণও থাকতে পারে, যা জানার জন্য অটোপসি করা প্রয়োজন।

খুরশীদ আলম আরও বলেন, অন্য বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এ বছর শীত ও গ্রীষ্মে হাসপাতালে রোগীর ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য

বিভাগ পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ঢাকাতে ৫৩ হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীর তথ্য দিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন করে আরও ৩২টি হাসপাতাল যুক্ত করা হচ্ছে। প্রতিটি হাসপাতালে আলাদা করে ডেঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ সমকালকে বলেন, এবার ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির এক-দু’দিনের মধ্যে অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাই জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে এসে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রথম থেকে ঠিকমতো চিকিৎসা করালে এবং সঠিক পরিমাপে তরল পদার্থ দিতে পারলে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করে না। একই সঙ্গে মশা নিধনে সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।

আরও পড়ুন

×