১০ টাকার চালে নয়ছয়
বগুড়ায় ১০২ বস্তা চালসহ গ্রেপ্তার একজন-সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:৪৭ | আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ১৫:০৫
করোনাভাইরাসে থমকে আছে গোটা দুনিয়া। কাজ হারিয়েছেন কোটি মানুষ। বাংলাদেশেও অভিন্ন চিত্র। করোনার বিস্তার রোধে সবাই ঘরবন্দি হয়ে থাকায় দিনমজুর, ক্ষুদ্র কৃষক, শ্রমিকসহ গরিব মানুষের একটি বড় অংশ কর্মহীন। রোজগার বন্ধ হয়ে পেটে ভাত জোগানোই মুশকিল। তাদের জন্য ত্রাণ ও ১০ টাকায় চাল দিচ্ছে সরকার। করোনা মহামারির মধ্যে অসাধু জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও ডিলাররা গরিবের চাল আত্মসাৎ করে চলেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০ টাকার চাল নিয়ে নয়ছয় হচ্ছে। এ ছাড়া ত্রাণ বিতরণেও নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
১০ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় লোকের গুদাম থেকে উদ্ধার হয়েছে গরিবের চাল। দুই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি গ্রেপ্তার হয়েছেন। সমকালের প্রতিনিধিদের পাঠানো ও প্রকাশিত খবরের তথ্য থেকে তা বেরিয়ে এসেছে। অপ্রকাশিত আরও কী পরিমাণ খাদ্য আত্মসাৎ করা হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। এসব ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরাই জড়িত।
এদিকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে যেসব জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মী অনিয়মে জড়িয়েছেন, বরখাস্তের পাশাপশি তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করবে সরকার। ত্রাণ বিতরণে অনিয়মে জড়িয়ে পড়া জনপ্রতিনিধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাতে গতকাল শনিবার ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ত্রাণে অনিয়ম সহ্য করা হবে না। দলের নেতাকর্মীদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেছেন, খেটে খাওয়া মানুষের ত্রাণ নিয়ে যারাই ছিনিমিনি খেলবে, তারা যেই হোক তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামও হুঁশিয়ার করেছেন। তিনি বলেছেন, ত্রাণে অনিয়ম করলে জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হবে। ফৌজদারি মামলা করা হবে।
এর আগে শুক্রবার দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সমকালকে বলেন, ত্রাণ আত্মসাৎ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সারাদেশে দুদকের গোয়েন্দারা সরকারের ত্রাণ বিতরণের ওপর নজর রাখছেন। তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। দুর্নীতিবাজদের যে কোনো সময় গ্রেপ্তার করা হবে।
সরকারের মন্ত্রীরা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও খোদ রাজধানী ঢাকায় ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে দুই সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে। উত্তর সিটি করপোরেশন প্রতি ওয়ার্ডে ৬০০ দরিদ্রকে নগদ সহায়তা দিতে টাকা দেয় কাউন্সিলরদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন কয়েকজনকে টাকা দিয়ে বাকিটা তার অ্যাকাউন্টে রেখে দিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, করোনাভাইরাসের মতো এত বড় মহামারির মধ্যেও দুর্নীতিবাজরা ত্রাণসামগ্রী ও স্বল্পমূল্যের চাল আত্মসাতে ব্যস্ত। প্রতিদিন যে পরিমাণ করোনাভাইরাসের রোগীর তালিকা পাচ্ছি, তার চেয়েও বেশি পাচ্ছি চাল চোরের সংখ্যা। জাতির এই ক্রান্তিকালে যারা গরিবের হক মেরে খায়, তাদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত।
স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ডিসিদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের কারণে শহর ও গ্রামে বিপুল সংখ্যক মানুষের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য সহায়তা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব অর্থায়নে ত্রাণ কার্যক্রম যেমন- চাল, নগদ অর্থ, শিশু খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদেরও তৃণমূল পর্যায়ে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোথাও কোথাও জনপ্রতিনিধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলছে, এরূপ অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তকরণ, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ডিসিদের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদেরও এই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তার চাল আত্মসাতের অভিযোগে বরিশাল বিভাগে ১০ দিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন দু'জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, একজন মেম্বরসহ চারজন। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় এক ইউপি সদস্য ও এক চৌকিদারকে ১৫ দিন কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও সদর উপজেলায় জেলেদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফোরকান হোসেনের বিরুদ্ধে ভিজিডির চাল মাথাপিছু পাঁচ কেজি কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জনপ্রতি ৪০ কেজি চাল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও দেওয়া হয়েছে ৩৫ কেজি করে। এ ছাড়া প্রতিজনের কাছ থেকে নগদ ১০০ টাকা করে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
ফোরকান হোসেন বলেছেন, খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলনের পর এলাকায় নিয়ে বিতরণের জন্য কোনো পরিবহন খরচ দেওয়া হয় না। পরিবহন খরচ মেটাতে পাঁচ কেজি করে চাল কম দিয়েছেন এবং জনপ্রতি ১০০ টাকা করে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নে জেলেদের দুই মাসের জন্য ৮০ কেজি করে চাল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ৩০ কেজি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ইউনিয়নে ৭২৩ জন কার্ডধারী জেলের মধ্যে ৩৮৩ জন কার্ডধারীর জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে। আন্ধারমানিক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ইসলাম ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অবশিষ্ট চাল এলাকার গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. ইয়ামিন চৌধুরী বলেছেন, ত্রাণ আত্মসাৎ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
রংপুর অফিস জানায়, টিসিবির পণ্য উদ্ধার করে লুৎফর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশ। শনিবার দুপুরে নগরীর বোতলা এলাকা থেকে তার কাছ থেকে পাঁচ লিটারের সাত কার্টন এবং দুই লিটারের ২৩ কার্টন সয়াবিন তেল, ৫০ কেজির দুই বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (ডিবি) উত্তম প্রসাদ পাঠক জানান, লুৎফর রহমান টিসিবির এক ডিলারের কাছে পণ্যগুলো কিনে তার বাড়িতে মজুদ করেছিলেন।
বগুড়া ব্যুরো জানায়, দুস্থদের জন্য বরাদ্দ ১০ টাকা কেজির চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের গণকপাড়ায় তার বাড়ি থেকে ১০২ বস্তা চাল উদ্ধার করে পুলিশ। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মোস্তাফিজ পুলিশকে জানিয়েছেন, ওএমএসের সাইফুল ইসলাম সাজু তার বাড়িতে এ বস্তাগুলো রেখেছিলেন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে দরিদ্র লোকজনকে ত্রাণ দিতে ডেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার এম জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান তাদের ডেকে এনেও চাল দেননি।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন সমকালকে বলেন, এ বিষয়ে তিনি চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। চেয়ারম্যান জবাব দিয়েছেন, 'তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করছে।'
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, বিধবা নারীদের চাল আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার বাগমারা উপজেলার বড়বিহানালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মিলনকে এক দিন পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাগমারার ওসি আতাউর রহমান জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই চেয়ারম্যানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ বলেন, তালিকার নির্দিষ্ট নারীকেই চেয়ারম্যান চাল দিয়েছেন। তবে প্রক্রিয়ায় কিছু ভুল ছিল। চেয়ারম্যান দরিদ্র পাঁচ নারীর অভাবের কথা শুনে তাদের দাবিতে দায়িত্বরত অফিসারের অনুপস্থিতেই রাতে চাল দেন। ওই চাল ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি তালিকাভুক্ত নারীদেরই চাল দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে মিলন চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানা যায়নি।
রাজশাহীর বাঘা প্রতিনিধি জানান, ১০ টাকা কেজির চালের কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে এক হাজার ১২৯ জন হতদরিদ্রের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির খাদ্য সহায়তার কার্ড রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কার্ড থাকার কথা হতদরিদ্র মানুষের কাছে। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল আলম কার্ড নিজের কাছে রেখেছেন। আনোয়ার হোসেন নামের একজন জানান, নদীভাঙনের শিকার হয়ে যারা এলাকা ছেড়েছেন, তাদের কার্ডও চেয়ারম্যান রেখে দিয়েছেন।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি বাবুল দেওয়ান জানান, কার্ড বিতরণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে তা ঠিক করে দিয়েছেন। তবে চেয়ারম্যান আজিজুল আলমের দাবি, তার কাছে কার্ড নেই।
ডিলার মিজানুর রহমান জানান, নদীভাঙনের কারণে কার্ডধারীদের কেউ কেউ পাশের উপজেলায় রয়েছেন। এ কারণে কিছু কার্ড চেয়ারম্যানের কাছে থাকতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন রেজা বলেন, অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, জেলার সিংড়ায় ১০ টাকা কেজির চাল চুরি অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইউপি সদস্য, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ পাঁচজন। ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে দুস্থদের তালিকা। এতে চাল বিক্রি বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গরিব মানুষ।
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, সাড়ে চার হাজার কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে উপজেলার রোয়াইল বাড়ি বাজার এলাকায় একটি ভাঙাড়ি দোকান থেকে। ১০ টাকা কেজিতে ওই চাল বিক্রি হওয়ার কথা ছিল। ডিলার আমিনুল ইসলাম শাকিল ও ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে গতকাল শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। পেমই তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক খায়রুল বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ডিলার আমিনুল ইসলাম শাকিল রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা জানান, শনিবার ভোরে ২৩ বস্তা চালসহ দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক দুই ভ্যানচালক জানিয়েছেন, সুহলী গ্রামের আব্দুল মালেক এসব চাল বিক্রির উদ্দেশ্যে ভ্যান ভাড়া করেছিলেন। আব্দুল মালেক অভিযোগ স্বীকার করে বলেছেন, তিনি চাল কিনেছিলেন ডিলারের কাছ থেকে।
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি জানান, উপজেলায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় ও কম চাল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ডিলার নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
নুরনাহার বেগম, মাকসুদ কাজী, মো. ইব্রাহীম ও বিবি ছকিনাসহ কয়েকজন সুবিধাভোগী জানিয়েছেন, ডিলার আজিম তাদের কাছ থেকে ৩২০ টাকা করে নিয়েছেন। চালও পাঁচ কেজি কম দেওয়া হয়েছে। তবে ডিলারের দাবি তিনি বাড়তি টাকা নিচ্ছেন না। উঠানো নামানোর সময় বস্তা ফুটো হয়ে কিছু চাল পড়ে গেছে। এ কারণে কেউ কেউ কম চাল পেয়ে থাকতে পারেন।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন সমকালকে জানান, ডিলারকে সতর্ক করা হয়েছে। ফের অনিয়মের অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, রানীনগরে দুই দফায় ওএমএস ও ভিজিডির ছয় হাজার ৪০ কেজি চাল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। শাহীন আলম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাল ব্যবসায়ী আয়েত আলীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় সাড়ে পাঁচ হাজার কেজি চাল। তিনি পলাতক রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন জানিয়েছেন, আয়েত আলীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
