ঘুরেফিরে কাজ পাচ্ছে গুটিকয়েক ঠিকাদার
শরীফুল ইসলাম ও দেলওয়ার হোসেন
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ১৩:৪৭
সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ২০১১
সালের জুনে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় শুরু হয় ই-টেন্ডারিং। সরকারি
ক্রয় আইন ও বিধির দুর্বলতার কারণে সরকারের সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না
বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, ই-টেন্ডারের আইনি মারপ্যাঁচে
ঘুরেফিরে কাজ পাচ্ছে কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে সরকারি উন্নয়ন কাজে
স্বচ্ছতা আসেনি, কমেনি দুর্নীতি। একই প্রকল্পে বারবার ডিপিপি সংশোধন হচ্ছে।
বাড়ছে প্রকল্প ব্যয়ও। আর একই প্রতিষ্ঠান বেশি কাজ পাওয়ায় সময়মতো শেষ হচ্ছে
না প্রকল্প। ঘটছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো নজিরবিহীন
দুর্নীতির ঘটনা। আবার কোনো কোনো দপ্তর-সংস্থার কেনাকাটা পুরোপুরি
ই-টেন্ডারিংয়ের আওতায় এখনও আসেনি। এক্ষেত্রে ওই সংস্থা কেনাকাটার জন্য
তাদের পছন্দসই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করছে। ফলে এক প্রকার নামেই
থাকছে ই-টেন্ডার। এমতাবস্থায় সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের দাবি উঠেছে। তবে
ই-টেন্ডারিংয়ের ফলে সরকারি অফিসে টেন্ডার নিয়ে সংঘাত কমেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব আবুল
মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ সমকালকে বলেন, সরকারি ক্রয় আইনের দুর্বলতার কারণে বড়
ঠিকাদাররা বেশি কাজ পেয়ে যাচ্ছেন- ঘটনাটি সত্য। তবে বড় ঠিকাদাররা সব কাজ
একাই পেয়ে যাবেন এটা হতে পারে না। এজন্য ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়
রয়েছে। তারা একই প্রতিষ্ঠানকে একাধিক কাজ দিয়েছে। অথচ আমাদের কোনো মতামত
নেওয়া হয়নি। মতামত চাইলে একই প্রতিষ্ঠানকে একাধিক কাজ না দেওয়ার পরামর্শ
দেওয়া হতো। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে ই-টেন্ডারের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা
দ্রুত সমাধানে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি সেমিনার হয়েছে। এ ছাড়া বাস্তবায়ন,
পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট
টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) মহাপরিচালক, পরিচালক এবং ১৫টি সরকারি
সংস্থার প্রধান ও প্রকল্প পরিচালকদের কাছ থেকে এ বিষয়ে মতামত পাওয়া গেছে।
বেশিরভাগ কর্মকর্তা মতামত দিয়েছেন যে, বার্ষিক লেনদেন (টার্নওভার) দেখে কাজ
দেওয়ায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি কাজ পাচ্ছে। তাদের পরামর্শগুলো পর্যালোচনা
করে আগামী মাসের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আইনের কিছু
ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি র্যাবের হাতে আটক হয়ে কারাগারে থাকা যুবলীগ নেতা জি
কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড এককভাবে
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে সরকারের তিন হাজার কোটি টাকার কাজ পাওয়ায় টনক
নড়েছে ই-টেন্ডার পদ্ধতি দেখভালকারী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান
আইএমইডির। এ ঘটনার পর আইএমইডি সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে ক্রয়
আইনের দুর্বলতাসহ নানা বিষয়ে সমস্যা চিহ্নিত করেছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর
রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে বিশ্বব্যাংক ও দরপত্র বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এবং
১৭ অক্টোবর ১৫টি সরকারি সংস্থাপ্রধান ও প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক
করেছে আইএমইডি। বড় বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কীভাবে একসঙ্গে এত প্রকল্পের কাজ
পায়, ছোট প্রতিষ্ঠান কেন কাজ পায় না, সরকারি ক্রয় আইনে কোথায় ত্রুটি আছে
এসব বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দরপত্রের বর্তমান সমস্যা সমাধানের
জন্য আইনের বেশকিছু ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।
বেশিরভাগ উন্নয়ন কাজ করছে যেসব প্রতিষ্ঠান : জি কে শামীমের মতো গুটিকয়েক
ঠিকাদার শুধু গণপূর্ত অধিদপ্তর নয়, সরকারের প্রায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়,
বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থায় কাজ ভাগিয়ে নিচ্ছেন। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ),
শিক্ষা প্রকৌশল (ইইডি), স্বাস্থ্য প্রকৌশল (এইচইডি), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল
(এলজিইডি) অধিদপ্তর এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডসহ
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব ঠিকাদার সবচেয়ে বেশি কাজ ভাগিয়ে
নিয়েছেন। যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের বেশিরভাগ উন্নয়নমূলক
কাজ তার মধ্যে রয়েছে, তমা কনস্ট্রাকশন, বিশ্বাস বিল্ডার্স, ওয়েস্টার্ন
ইঞ্জিনিয়ারিং, হাসান অ্যান্ড কোম্পানি, পদ্মা অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস, সিভিল
ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, মজিদ অ্যান্ড কোম্পানি, আব্দুল মোনেম লিমিটেড, মীর
আখতার ও মাসুদ অ্যান্ড কোম্পানি। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের ৯০ ভাগ কাজ এসব
ঠিকাদারি কোম্পানির কাছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়ক বিভাগে বেশিরভাগ ঠিকাদারি কাজ করছে তমা
কনস্ট্রাকশন ও আব্দুল মোনেম লিমিটেড। স্থানীয় সরকার বিভাগের কাজেরও
বেশিরভাগ করছে এই দুটি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাজের
বেশিরভাগ করছে জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি ও বিশ্বাস বিল্ডার্স। এমনও দেখা
গেছে, কিছু বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে
কাজ দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন সংস্থাকেও কাজ দেওয়ার ঘটনা
বেশি ঘটছে। ওই সংস্থা আবার নিজেরা কাজ না করে আরেক বেসরকারি কোনো ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে। এতে বাড়ছে প্রকল্পের ব্যয়। গুণগত মানও ঠিক
থাকছে না। ওই সব প্রকল্পে প্রাক্কলন পরিবর্তন (এস্টিমেট ভেরিয়েশন) হচ্ছে
বারবার।
বিষয়টি জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন
সমকালকে বলেন, তার দপ্তরে সব কাজই এখন ই-টেন্ডারের মাধ্যমে হয়। যিনি
সর্বনিম্ন দরদাতা হন, তাকেই কাজ দেওয়ার কথা। কিন্তু দরপত্রে প্রাক্কলিত
মূল্যের ১০ শতাংশের মধ্যে দর দেওয়ার বিধান থাকায় সব ঠিকাদারের দর একই হয়ে
যায়। ফলে সর্বনিম্ন দরদাতা একাধিক হওয়ায় যার কাজের অভিজ্ঞতা, বার্ষিক
লেনদেন (টার্নওভার), আর্থিক সক্ষমতা বেশি, সেই কাজ পেয়ে যায়। এক্ষেত্রে বড়
ঠিকাদাররাই প্রাধান্য পাচ্ছেন। এতে ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের করার কিছু নেই।
বরং প্রচলিত ক্রয়বিধির কারণে বড় কোম্পানিকে কাজ দিতে বাধ্য ক্রয়কারী
প্রতিষ্ঠান।
যেভাবে কাজ যাচ্ছে গুটিকয়েক ঠিকাদারের হাতে :বর্তমান সরকারি ক্রয় আইনে
উন্মুক্ত ও সীমিত দুই ধরনের দরপত্র পদ্ধতি রয়েছে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে
(ওটিএম) সরকারি ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য অর্থাৎ,
কত টাকায় কাজ বা সেবা কিনতে আগ্রহী, তা উল্লেখ থাকে না। সীমিত দরপত্র
পদ্ধতিতে (এলটিএম) তা উল্লেখ থাকে এবং তিন কোটি টাকা পর্যন্ত কেনাকাটা করা
যায়। সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে ঠিকাদারের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। উন্মুক্ত
পদ্ধতিতে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে। সব দরদাতা যদি একই দর দেন, তাহলে সীমিত
পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে দরদাতা বেছে নেওয়া যায়। কিন্তু উন্মুক্ত পদ্ধতিতে
দরদাতা একই হলে লটারির মাধ্যমে দরদাতা বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অতীত অভিজ্ঞতা ও বার্ষিক লেনদেন (টার্নওভার) দেখে
কাজ দেওয়া হয়। কিন্তু উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ঠিকাদারি কাজের অভিজ্ঞতা ও
পর্যাপ্ত টাকার জোগান (টার্নওভার) না থাকায় ছোট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ
পাচ্ছে না। এই সুযোগে প্রচলিত আইন ও বিধির মাধ্যমে ই-টেন্ডারে সরকারের কোটি
কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নিচ্ছেন বড় ঠিকাদাররা। এ ছাড়া বড় ঠিকাদারদের অর্থের
জোগান বেশি থাকায় দুই পদ্ধতিতেই অবাধে দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ পাচ্ছে।
আর ছোট ঠিকাদারদের জন্য সীমিত পদ্ধতি চালু করা হলেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকাভুক্তির নিয়ম আছে, ই-টেন্ডারে
তা ব্যবহার করার নিয়ম নেই। ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুটিকয়েক বড়
ঠিকাদার সারাদেশের টেন্ডার প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন এবং একই প্রতিষ্ঠান
একাধিক কাজ ভাগিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া ই-টেন্ডার পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক
ঠিকাদার তালিকাভুক্তির নিয়ম না থাকায় এক টেন্ডারে ৪০০ থেকে ৫০০ ঠিকাদার অংশ
নেন। এতে ছোট ঠিকাদাররা কাজ না পেয়েও জামানতের টাকা পেতে বিলম্ব হয়। কারণ,
কোনো টেন্ডারের চুক্তি প্রক্রিয়া শেষ না হলে জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হয়
না। অথচ ছোট ও নতুন ঠিকাদারদের উৎসাহিত করার জন্যই চালু করা হয়েছিল সীমিত
দরপত্র পদ্ধতি (এলটিএম)। ওটিএম পদ্ধতিতে এখন যে কোনো দরদাতাই দাপ্তরিক
প্রাক্কলিত মূল্যের ১০ শতাংশ কমবেশি দর দিতে পারেন।
সিপিটিইউ সূত্রে জানা গেছে, এই পদ্ধতিতে সিন্ডিকেট করে সব দরদাতা একই দর
দেন, ফলে অতীত অভিজ্ঞতা ও বার্ষিক লেনদেন (টার্নওভার) দেখে দরদাতা বেছে
নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। অভিযোগ রয়েছে, ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ও
মূল্যায়ন কমিটির কর্মকর্তারা দুর্বল আইনের সুযোগে অনেক ক্ষেত্রে কমিশনের
বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেন। যেসব প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে, আগে
থেকেই তাদের নির্ধারণ করে রাখে ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান। ওই ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে ডিপিপি তৈরি করা হয়। এমনকি আগে থেকে ওই
প্রতিষ্ঠানকে দরও জানিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কাজ ভাগিয়ে নেন।
সরকারি ক্রয় পদ্ধতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ :গত ২৯ সেপ্টেম্বর
সরকারি ক্রয় আইন-সংক্রান্ত এক সেমিনারে বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে
বলা হয়, বর্তমান সরকারি ক্রয় আইনের দুর্বলতার কারণে উন্মুক্ত দরপত্র
পদ্ধতিতে (ওটিএম) ৫০ শতাংশ দরপত্রে মাত্র একজন ঠিকাদার অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া
অধিকাংশের বেশি ঠিকাদার ই-টেন্ডারিংয়ে অংশ নিচ্ছেন না। সরকারের ৭০ শতাংশ
কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়। একই সঙ্গে
সেমিনারে দেশের দরপত্র বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছোট ঠিকাদাররা যে হারে কাজ পাওয়ার
কথা, ক্রয় আইনের জটিলতার কারণে সে হারে পাচ্ছেন না। দরপত্র জামানত চুক্তি
সম্পাদন শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামানত ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের কাছে রেখে
দেওয়ার নিয়ম থাকায় ছোট ঠিকাদাররা অন্যান্য দরপত্রে অংশগ্রহণে বাধাগ্রস্ত
হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে অনভিজ্ঞ ঠিকাদারদের
দিয়ে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত কাজ করানোয় মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। দরপত্রের ১০
শতাংশের মধ্যে দর দাখিল করার বিধান থাকায় সবাই একই দর দাখিল করছেন, এতে
দরপত্রে সঠিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া লটারি কোনো
ভালো পদ্ধতি নয় বলে তারা মনে করেন। আন্তর্জাতিকভাবে এ পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয়
বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা।
দরপত্র বিশেষজ্ঞরা এসব সমস্যা সমাধানের জন্য একটি লিখিত সুপারিশ করেন। এতে
বলা হয়, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে প্রাক্কলিত মূল্যের ১০ শতাংশের মধ্যে দর
দাখিলের নিয়ম বাতিল করতে হবে। তবে একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কম দর গ্রহণ
করে ওই দরের ভিত্তিতে জামানতের টাকা বাড়ানো যেতে পারে। দরপত্র বাস্তবায়ন
অগ্রগতিকে কয়েকটি অংশে ভাগ করতে হবে। প্রতিটি অংশ বাস্তবায়নের জন্য
নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে। ঠিকাদার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না
পারলে প্রতি অংশের জন্য জরিমানার প্রস্তাবও করেন তারা। এ ছাড়া সর্বজনীন রেট
শিডিউল তৈরি করে তার ভিত্তিতে প্রাক্কলন তৈরি করতে হবে। সীমিত পদ্ধতির
সমাধানের বিষয়ে বলা হয়, ৫ শতাংশের ওপরে বা নিচে দর দেওয়ার পদ্ধতি বাতিল করা
যেতে পারে। ছোট ঠিকাদারদের পৃথক তালিকা করে তাদের এককভাবে এলটিএমে অংশ
নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এলটিএম দরপত্রের তিন কোটি টাকার যে শর্ত, সেটা
কমানো যেতে পারে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও
একইভাবে ক্রয় আইনের বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব দেন।
