বকেয়া বিল পেতে তথ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইল নোয়াব
এ. কে. আজাদের নেতৃত্বে নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ - সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:০১
করোনা দুর্যোগের মধ্যে সংবাদপত্রের বকেয়া বিজ্ঞাপন বিল পেতে তথ্যমন্ত্রীর
সহযোগিতা চেয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তথ্যমন্ত্রী ড.
হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নোয়াব প্রতিনিধিরা এ সহায়তা কামনা করেন।
সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কাছে সংবাদপত্রগুলোর বকেয়া পাওনার বিশদ
তথ্য আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নোয়াবের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে
দেওয়া হবে বলে সভা সূত্র জানিয়েছে। নোয়াব প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে
করোনা দুর্যোগের মধ্যে আশা জাগানিয়া সংবাদ পরিবেশন করে মানুষকে জীবন
সংগ্রামে টিকিয়ে রাখার মনোবল জোগাতে সংবাদপত্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন
তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'আশাই মানুষকে ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যায়, জীবন সংগ্রামে টিকিয়ে
রাখে। সে জন্যই আমি সেই সংবাদগুলো প্রকাশের অনুরোধ জানাব, যেগুলো মানুষের
মাঝে আশা জাগাবে; মানুষকে জানাবে যে, সমস্ত অন্ধকার কেটে গিয়ে সুদিন আসবে।'
সভায় তথ্য সচিব কামরুন নাহার, নোয়াব সভাপতি এ. কে. আজাদ এবং অ্যাসোসিয়েশনের
সদস্যদের মধ্যে মতিউর রহমান, মাহফুজ আনাম, তারিক সুজাত, শাহ হোসেন ইমাম,
নঈম নিজাম, আলতামাশ কবির মিশু ও সাইফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদপত্র মালিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা চেষ্টা করবেন যাতে
ইতিবাচক সংবাদগুলো বেশি করে আসে। এই সময়ে ইতিবাচক সংবাদ খুব জরুরি। কারণ
হতাশাগ্রস্ত, শঙ্কিত মানুষেরা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীষণভাবে চিন্তিত। এই সময়ে
মানুষকে আশাবাদী করে তোলা আমাদের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক মাধ্যমেও অনেক সময়
নেতিবাচক সংবাদ আসে, যেগুলো বাস্তবচিত্রের পরিস্ম্ফুটন নয়। আমি দেখেছি,
গতকাল বিদেশি গণমাধ্যমে এমন একটি সংবাদ এসেছে, যেটি এখানে অনেক পত্রিকায়
ছাপা হয়নি। এ জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।'
তিনি আরও বলেন, 'সংবাদপত্র ও সরকার- আমরা আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব। যেহেতু
আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, সুতরাং সেই লক্ষ্যেই আমরা
সবাই একযোগে কাজ করব।'
নোয়াব সভাপতি এ. কে. আজাদ তার বক্তব্যে সরকারি ক্রোড়পত্রসহ বিভিন্ন
বিজ্ঞাপনের বকেয়া বিল যাতে সংবাদপত্রগুলো দ্রুত পেতে পারে, সে জন্য তথ্য
মন্ত্রণালয়কে আরও জোরালো ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের
জন্য ব্যাংক ঋণ সুবিধা ও সংবাদপত্রের হকার, পরিবহন শ্রমিক ও এজেন্টদের
জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়গুলো সুবিবেচনার দাবি জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সংবাদপত্রের
যে বকেয়াগুলো আছে, সেগুলো পরিশোধের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে
চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা আগামী সপ্তাহে প্রয়োজনে আরেকটা তাগিদপত্র সব
মন্ত্রণালয়ে দেব।'
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'আপনারা সংবাদপত্র পরিচালনা করার জন্য যে ঋণের কথা
বলেছেন, সে বিষয়েও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলব। যেহেতু সংবাদপত্র
আমার দৃষ্টিতে একটি সার্ভিস সেক্টর- আপনারা শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে শিল্প
হিসেবেও কিছু সুবিধা পান, পাশাপাশি সার্ভিস সেক্টর হিসেবেও আমি মনে করি
এখানে সুযোগ রয়েছে।'
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সঙ্গে মতবিনিময় : একই দিনে ঢাকা রিপোর্টার্স
ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রতিনিধিরা তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন।
ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী ও সদস্য
মোতাহার হোসেন মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রয়াত সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর
খোকনের পরিবারের জন্য সাহায্য কামনা করেন। করোনায় আক্রান্ত সাংবাদিকদের
সুচিকিৎসা ও ডিআরইউ সদস্যদের জন্য সম্ভাব্য সরকারি সহায়তারও আবেদন জানান
তারা।
- বিষয় :
- নোয়াব