ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের অর্ধেক টিউশন ফি মওকুফের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২০ | ০৪:৫৫
করোনাকালীন সময়ে সারাদেশের সব ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ৫০ ভাগ টিউশন ফি মওকুফ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের পক্ষে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার দিল্লি পাবলিক স্কুল (ডিপিএস) ঢাকা প্যারেন্টস ফোরামের সভাপতি ব্যরিস্টার ওমর ফারুক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ চিঠি দেন।
এ বিষয়ে ব্যরিস্টার ওমর ফারুক সমকালকে রোববার বলেন, ডিপিএস-এসটিএসসহ সারাদেশের সব ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ৫০ শতাংশ মওকুফ চেয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি। আমরা মনে করি, করোনাকালীন সময়ে সারাদেশের অভিভাবকরা আর্থিক টানাপড়েনে পড়েছেন। এ ছাড়া সব বিদ্যালয়ের টিউশন ফিও অন্যান্য বিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক বেশি। ৫০ শতাংশ টিউশন ফি নিলেও বিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভালভাবেই দিতে পারবেন। কোনো সমস্যা হবে না।
তিনি বলেন, এ সব বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তাদের বাসার কাজের লোক, ড্রাইভারসহ পার্সোনাল স্টাফদেরও এই দুর্দিনে সহায়তা দিয়ে যেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা ৫০ শতাংশ টিউশন ফি ওয়েভারের এই সুবিধা ফুলটাইমের জন্য ফুল অ্যামাউন্ট কিন্তু চাইছি না। করোনাকালীন সময়ের জন্যই শুধু চাইছি।
ডিপিএস-এসটিএস প্যারেন্টস ফোরামের সহ-সভাপতি সালমা মমতাজ সমকালকে বলেন, এতোদিন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলো চুটিয়ে ব্যবসা করেছে। এখন করোনার দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য তারা ৫০ শতাংশ ছাড় দিলে তাদের কোনো সমস্যাই হওয়ার কথা নয়।
ডিপিএস-এসটিএস স্কুলের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তরায় অবস্থিত এ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি অভিভাবকদের ইমেইল করে অনলাইনে তিন মাসের টিউশন ফি পরিশোধের জন্য তাগাদা দেয়। বন্ধের মধ্যেই স্কুল কর্তৃপক্ষ একবার টিউশন ফি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে অভিভাবকদের প্রতিবাদের মুখে পিছিয়ে যায়। এখন তারা বন্ধের মধ্যে অভিভাবকদের থেকে পরিবহন ফি আদায়ের চেষ্টা করছে। অথচ স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পরিবহন ব্যবহার করছে না।
অভিভাবকরা জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ নানা ফাঁকফোকর ব্যবহার করে প্রতি বছর এই টিউশন ফি ফি ১০% বৃদ্ধি করে।
এসব বিষয়ে ডিপিএস-এসটিএস এর অধ্যক্ষ হর্ষ ওয়াল জানান, তারা অভিভাবকদের সময় দিয়েছেন টিউশন ফি পরিশোধের জন। তাদের সুবিধার জন্য সময় বাড়িয়ে ইমেইলে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তাদের সাপোর্ট দেওয়ার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ২০২০-২০২১ সালে কোনও টিউশন ফি বাড়ানো হবে না। পাশাপাশি বার্ষিক টিউশন ফি দেওয়ার জন্য ৪ কিস্তির পরিবর্তে ১০ কিস্তিতে ভাগ করা হয়েছে। আমরা ক্রেডিট কার্ড সংস্থাগুলির সাথে সুদমুক্ত টিউশন ফি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছি, যা অভিভাবকদের জন্য সুবিধা হবে।’
পরিবহন ফি’র বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, সরকারি ছুটির দিনগুলোর জন্য কোনো পরিবহন ফি টাকা হবে না। ইতিমধ্যে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, পরিবহন পুনরায় চালু হলে তার থেকে সমন্বয় হবে।
অভিভাবকরা জানান, ডিপিএস-এসটিএস স্কুলের শিক্ষার্থীদের এ লেভেল শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং ও লেভেল থেকে জুনিয়র ক্লাসগুলোর জন্য প্রতি মাসে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। আর নার্সারি স্তরের শিক্ষার্থীদের স্কুলে টিউশন ফি হিসাবে দিতে হয় ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা করে।
এ ছাড়া পরিবহন ফি বাবদ উত্তরার ভেতরে হলে ফি বাৎসরিক ৪৮ হাজার টাকা, বসুন্ধরার বাসিন্দাদের পরিবহণ সুবিধা ব্যবহারের জন্য ৭২ হাজার টাকা দিতে হয়। এ বছর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মিরপুর, এবং বারিধারার (ডিওএইচএস) বাসিন্দাদের জন্য ৯০ হাজার টাকা পরিবহন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।