তৃতীয় দফায় বাংলাদেশকে চিকিৎসাসামগ্রী দিল ভারত
বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে চিকিৎসাসামগ্রী তুলে দেন ভারতীয় হাইকমিশনার। ছবি: সমকাল
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২০ | ০৮:১২ | আপডেট: ০৬ মে ২০২০ | ০৮:২৪
বাংলাদেশকে তৃতীয় দফায় জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী হিসেবে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) শনাক্তকরণ কিট দিয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ এসব চিকিৎসাসামগ্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের কাছে হস্তান্তর করেন।
ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া এসব কিট দিয়ে ৩০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।
হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি জানান, এই আরটি-পিসিআর শনাক্তকরণ কিটগুলো ভারতের 'মাই ল্যাব ডিসকভারি সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেড'-এর উৎপাদিত এবং কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের জন্য ভারতে বহুল ব্যবহৃত।
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ অগ্রাধিকারভিত্তিতে এই শনাক্তকরণ কিট পাওয়া প্রথম অংশীদার দেশ, যা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি ভারতের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।'
চিকিৎসাসামগ্রী গ্রহণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, 'এ মহামারি সংক্রমণের পর তিন দফায় বাংলাদেশকে ভারতের সহায়তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং শনাক্তকরণ কিটগুলো বাংলাদেশে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়ে দেবে, যা এই মুহূর্তে খুব প্রয়োজন।'
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে একটি সহযোগিতামূলক আঞ্চলিক প্রচেষ্টার লক্ষ্যে গত ১৫ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদদি সার্ক নেতাদের নিয়ে একটি ভিডিও সম্মেলন করেছিলেন। ওই ভিডিও সম্মেলনে তার আহ্বানে কভিড-১৯ মোকাবেলায় একটি সমন্বিত তহবিল গঠনেও একমত হন সার্ক শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া গত ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে এই মহামারির প্রভাব হ্রাসকল্পে সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে ভারত থেকে আসা ৩০ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক এবং ১৫ হাজার হেড-কাভার সমন্বিত জরুরি চিকিৎসা সহায়তার প্রথম চালান ২৫ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনকে হস্তান্তর করা হয়। ২৬ এপ্রিল এক লাখ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট এবং ৫০ হাজার সার্জিক্যাল ল্যাটেক্স গ্লাভসের দ্বিতীয় চালানটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।