সরকারের প্রণোদনা চেয়েছেন কর্মহীন নির্মাণ শ্রমিকরা
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২০ | ০৪:৪৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
প্রানঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ইমারত নির্মাণ শ্রমিকরা সরকারের কাছে প্রনোদনা চেয়েছেন। সম্প্রতি ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) এর পক্ষ থেকে ত্রাণ মন্ত্রণালয়, শ্রম অধিদপ্তর ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে দুই দফায় প্রায় ৫ হাজার কর্মহীন শ্রমিকের জন্য প্রণোদনার আবেদন করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা প্রশাসক, ইউএনও, মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে নির্মাণ শ্রমিকের তালিকা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ইনসাব নেতারা।
কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারণে গত দেড়মাস যাবত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প, কমার্শিয়াল প্রকল্প, মেট্টোরেল নির্মাণ প্রকল্পসহ বেসরকারি ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে সারাদেশে থাকা অত্যন্ত ঝুকিপুর্ণ পেশার সঙ্গে জড়িত ৩৫ লাখের বেশি নির্মাণ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে আছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা কষ্টে জীবন-যাপন করছেন। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।
ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে সাড়ে ৩শ’ নিবন্ধিত ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন রয়েছে। কমিটি রয়েছে প্রায় ৫শ’। এ সংগঠনে শ্রমিকের সংখ্যা ৩৫ লাখের বেশি এরমধ্যে ঢাকায় রয়েছেন প্রায় ১২ লাখ ইমারত নির্মাণ শ্রমিক। এদের মধ্যে রয়েছেন- রাজমিস্ত্রী, ফাইব ফিটার, গ্রীল কাটার, রং মিস্ত্রি ইলেকট্টিশিয়ান, রড মিস্ত্রী, টাইলস মিস্ত্রী, মোজাইক মিস্ত্রী, কাঠ মিস্ত্রী, মাটিকাটা ও ইটভাঙ্গা শ্রমিক প্রমুখ।
ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের (ইনসাব) সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক সমকালকে বলেন, সরকারের কাছে নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য আর্থিক প্রনোদনা চাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও ঘোষণা দিয়েছেন করোনা সংকট মোকাবিলায় সব শ্রমিককে ত্রাণ ও নগদ প্রণোদনা দেয়া হবে। কিন্তু দু:খের বিষয়- শতকরা ৯০ ভাগ ইমারত নির্মাণ শ্রমিক আর্থিক প্রণোদনা পায়নি। করোনাভাইরাসের কারণে সরকার ও ভবন মালিকরা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখায় কর্মহীন শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছেন।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, অঞ্চল-৬ ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সমকালকে জানান, এই ইউনিয়নে নিবন্ধিত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার এবং অনিবন্ধিত শ্রমিক প্রায় ৪ হাজার। করোনাভাইরাসের কারণে এরা সবাই কর্মহীন। এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্যে পাননি। পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে ঝুঁকিপুর্ণ এই পেশার দিন মজুরদের।