করোনা চিকিৎসা
বেসরকারি মেডিকেলের দাবি আকাশচুম্বী!
×
রাজবংশী রায়
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ইচ্ছা প্রকাশ করে গত মাসের মাঝামাঝিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখায় একটি প্রস্তাব পাঠায়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. ইহতেশামুল হক স্বাক্ষরিত ওই প্রস্তাবে ২০০ শয্যার হাসপাতালটির পরিচালন ব্যয় হিসেবে প্রতি মাসে ১৭ কোটি ২৭ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৫ টাকা চাওয়া হয়। প্রস্তাবনায় ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়। সেখানে মেডিকেল কলেজের বেতন বাবদ এক কোটি ২৫ লাখ ৬৮ হাজার ৭১৫ টাকা, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্মীদের বেতন বাবদ চার কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা, হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ২ কোটি ৮৩ লাখ ২২ হাজার টাকা, যন্ত্রপাতি বাবদ ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৫৫ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় বাবদ আরও ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। হাসপাতালটির এই প্রস্তাব অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেছেন স্বাস্থ্য
খাতের সংশ্নিষ্টরা। তারা বলেছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মানদণ্ড পূরণ করে হাসপাতালটি পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ ব্যয় তিন কোটি টাকা হতে পারে। অথচ এর থেকে পাঁচ গুণেরও বেশি টাকা দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি অযৌক্তিক। রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের মালিক আনোয়ার হোসেন এমপি। তিনি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনেরও সাধারণ সম্পাদক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের পদত্যাগের পর তিনি এই পদে আসেন। আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষকে সহায়তা করার জন্য তারা এগিয়ে এসেছেন। এখানে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই।
পরিচালন ব্যয় বাবদ ১৭ কোটি টাকা চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, এ তথ্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, পরিচালন ব্যয়ের ওই প্রস্তাব শুরুর দিকে দেওয়া হতে পারে। এরপর আরও তিন দফায় তা পরিবর্তন করে অনেক কমে গেছে। এটি নিউজের বিষয় নয়। আমরা পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধার একটি হাসপাতাল প্রস্তুত করে দিয়েছি। এগুলোর জন্য সরকারের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ীই হাসপাতাল পরিচালনা করছি।
সরকারের দেওয়া টাকার পরিমাণ জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, এটি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। সরকার পিপিই সরবরাহ করেছে। সুতরাং আমরা পিপিই ক্রয় করব না। এভাবে অন্যান্য যন্ত্রপাতিসহ যেসব সামগ্রী সরকার থেকে সরবরাহ করা হবে, সেগুলো আমরা ক্রয় করব না। এই দুর্যোগের সময়ে মানুষের সেবা করাই আমার উদ্দেশ্য। করোনা নিয়ে বাণিজ্য করার অভিপ্রায় নেই বলে জানান তিনি।
সাড়া দিচ্ছেন না হাসপাতাল মালিকরা : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, করোনার চিকিৎসা দিতে বেসরকারি হাসপাতালের মালিকরা সরকারের সঙ্গে দর কষাকষি করছেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পাওয়ায় কেউই করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে রাজি হচ্ছেন না। সংশ্নিষ্টদের মতে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর দাবি আকাশচুম্বী। স্বাস্থ্য বিভাগ মনে করছে, তারা ৫ থেকে ১০ গুণ বাড়তি অর্থ দাবি করছে। এ কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে করোনা চিকিৎসায় যুক্ত করার প্রক্রিয়া থমকে আছে।
আনোয়ার খান মডার্নসহ দেশের সাতটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এর বাইরে ক্রিসেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা, সাজেদা ফাউন্ডেশন ও স্কয়ার হাসপাতাল করোনা চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছে। অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সাড়া দিচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, হাসপাতালগুলোর পরিচালনায় প্রতি মাসে ৩০০ শয্যার জন্য প্রায় ২৫ কোটি, ৪০০ শয্যার জন্য প্রায় ৩২ কোটি এবং ৫০০ শয্যার জন্য প্রায় ৪০ কোটি চাওয়া হয়েছে। এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ দুটি প্রতিষ্ঠানে করোনা চিকিৎসা কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। তবে হাসপাতাল দুটির পরিচালন ব্যয়ের জন্য প্রতি মাসে কত টাকা দেওয়া হবে তা জানা যায়নি। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মুবিন খান সমকালকে বলেন, বাণিজ্যিক কোনো উদ্দেশ্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মালিকদের নেই। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আমরা সাতটি মেডিকেল কলেজের নাম প্রস্তাব করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের পরিচালন ব্যয়ের প্রসঙ্গে এমএ মুবিন খান বলেন, বেসরকারি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের থেকে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি। অন্য কোনো বেসরকারি হাসপাতাল চেয়ে থাকতে পারে। এটি তার জানা নেই। তবে হাসপাতাল পরিচালনার একটি ব্যয় আছে। এ ছাড়া অন্যান্য রোগের তুলনায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সমকালকে বলেন, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মালিকদের একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে তিনি ও বিএমএ মহাসচিব উপস্থিত ছিলেন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মালিকরা ব্যয়ের বিভিন্ন হিসাব দিয়েছেন। ওই ব্যয় মেটানো ছাড়া চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলেও তারা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা অন্য কর্মকর্তারা পরিচালন ব্যয় নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে করোনা চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে চিকিৎসার ব্যয়ের কথা যতটুকু জানা গেছে, তা অস্বাভাবিক। আড়াই থেকে তিন গুণ বাড়তি টাকা চাওয়া হয়েছে। এই দুর্যোগের সময় এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আশা করি, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে করোনা আক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত হবে।
বাণিজ্যের ছক :স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা চিকিৎসার জন্য অস্বাভাবিক অর্থ চেয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয়ের চেয়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা চাওয়া হয়েছে। এরপরও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখা টাকার নির্দিষ্ট কোনো হিসাব না করেই দুটি প্রতিষ্ঠানকে চিকিৎসার দায়িত্ব দিয়েছে। এ কাজে হাসপাতাল শাখার এক কর্মকর্তার হাত রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আঁতাত করে ওই কর্মকর্তা পরিচালন ব্যয় নির্দিষ্ট না করেই করোনা চিকিৎসার অনুমতি দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত ব্যয়ের বাইরে একটি কমিশন ওই কর্মকর্তার পকেটে যাবে। এ কারণেই ব্যয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়াও ওই কর্মকর্তা অন্যদের অন্ধকারে রেখে হাসপাতালগুলোর সঙ্গে রফা করছেন। এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল শাখা) ডা. আমিনুল হাসানকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।
সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন :২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল পরিচালনায় প্রতি মাসে কত ব্যয় হতে পারে, এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরীর কাছে। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন)। সর্বশেষ অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে প্রায় তিন বছর আগে তিনি অবসরে যান। ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাইডলাইন অনুযায়ী প্রতি ১০ শয্যার বিপরীতে তিনজন চিকিৎসক, ছয়জন নার্স এবং অন্যান্য ৯ জন কর্মী থাকবেন। এ হিসাবে ২০০ শয্যার জন্য ৬০ চিকিৎসক, ১২০ নার্স এবং ১৮০ জন কর্মচারী লাগবে। মোট জনবল হবে ৩৬০ জন। গড়ে বেতন বাবদ ৫০ হাজার টাকা করে ধরা হলে মোট এক কোটি ৮০ লাখ টাকা হবে। পরিচালনা ব্যয় আরও এক কোটি টাকা ধরলে মোট তিন কোটি টাকার বেশি লাগার কথা নয়। তাহলে কেন ১৭ কোটি টাকা চাওয়া হচ্ছে? এটি পুরোপুরি অনৈতিক। এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মালিক সমকালকে বলেন, তার পাঁচশ' শয্যার হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ পরিচালনায় বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে ৪০ লাখ এবং অন্যান্য খাতে আরও ১০ লাখ টাকা ব্যায় হয়। ২০০ শয্যার একটি হাসপাতালের পরিচালন ব্যয় তাহলে কীভাবে এত হবে? এটি অবাস্তব। যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বের কোনো নামিদামি হাসপাতালেরও পরিচালনা ব্যয় এত নয় বলে জানান তিনি।
ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা করোনার চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে দরকষাকষি করেছেন। এ ধরনের একাধিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। দুর্যোগকালে তাদের এ ধরনের মনোভাব কাম্য নয়- এটি বৈঠকের সময়ও বলেছি। এখনও তাদের প্রতি আহ্বান জানাব, বাণিজ্যিক মনোভাব বাদ দিয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হোন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পারসন ও অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান সমকালকে বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো পরিচালন ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত টাকা দাবি করার বিষয়টি তার কানে এসেছে। এ কারণে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে করোনা চিকিৎসায় যুক্ত করার বিষয়টি নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া এখনই সব বেসরকারি হাসপাতালকে যুক্ত করার প্রয়োজন পড়ছে না। প্রয়োজন হলে নতুন নতুন হাসপাতালকে যুক্ত করা হবে এবং এ জন্য যৌক্তিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।
হাবিবুর রহমান খান আরও বলেন, সরকার চাইলে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে রিকুইজিশন করতে পারে। প্রয়োজন হলে সেটিও করা হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে সেবা মিলছে না :দেশে করোনা সংক্রমণের পরপরই অনেক বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান লকডাউন করা হয়। চিকিৎসক, নার্সসহ অন্য কর্মকর্তাদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালে সেবা চালু না রাখলে নিবন্ধন বাতিলের হুমকি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরপরও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া রোগী ভর্তি করছে না। এতে করে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে অনেক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের রোগীর সেবা দিতে হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দিয়ে একটি আদেশ জারি করে। ওই আদেশে বলা হয়, সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিবন্ধন বাতিল ও জরিমানা করা হবে। এরপরও অবস্থার উন্নতি হয়নি।
করোনা প্রতিরোধে সরকারের গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান সমকালকে বলেন, ছোট একেকটি ক্লিনিক থেকে বর্তমানে মেডিকেল কলেজ, হাসপাতালসহ বড় বড় হাসপাতালের মালিক হয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ একাধিক হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। ব্যবসা না হলে এগুলো গড়ে তুলতে পারতেন না। সেই ব্যবসার কিছু টাকা দিয়ে এই দুর্যোগে তারা মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু সেবার পরিবর্তে তারা ব্যবসায়িক হিসাব কষে এগোচ্ছেন। এটি অনৈতিক। সরকারের উচিত দ্রুত রিকুইজিশন করে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা হাতে নিয়ে নেওয়া। তাহলেই মানুষের সেবা নিশ্চিত হবে।
খাতের সংশ্নিষ্টরা। তারা বলেছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মানদণ্ড পূরণ করে হাসপাতালটি পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ ব্যয় তিন কোটি টাকা হতে পারে। অথচ এর থেকে পাঁচ গুণেরও বেশি টাকা দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি অযৌক্তিক। রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের মালিক আনোয়ার হোসেন এমপি। তিনি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনেরও সাধারণ সম্পাদক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের পদত্যাগের পর তিনি এই পদে আসেন। আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষকে সহায়তা করার জন্য তারা এগিয়ে এসেছেন। এখানে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই।
পরিচালন ব্যয় বাবদ ১৭ কোটি টাকা চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, এ তথ্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, পরিচালন ব্যয়ের ওই প্রস্তাব শুরুর দিকে দেওয়া হতে পারে। এরপর আরও তিন দফায় তা পরিবর্তন করে অনেক কমে গেছে। এটি নিউজের বিষয় নয়। আমরা পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধার একটি হাসপাতাল প্রস্তুত করে দিয়েছি। এগুলোর জন্য সরকারের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ীই হাসপাতাল পরিচালনা করছি।
সরকারের দেওয়া টাকার পরিমাণ জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, এটি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। সরকার পিপিই সরবরাহ করেছে। সুতরাং আমরা পিপিই ক্রয় করব না। এভাবে অন্যান্য যন্ত্রপাতিসহ যেসব সামগ্রী সরকার থেকে সরবরাহ করা হবে, সেগুলো আমরা ক্রয় করব না। এই দুর্যোগের সময়ে মানুষের সেবা করাই আমার উদ্দেশ্য। করোনা নিয়ে বাণিজ্য করার অভিপ্রায় নেই বলে জানান তিনি।
সাড়া দিচ্ছেন না হাসপাতাল মালিকরা : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, করোনার চিকিৎসা দিতে বেসরকারি হাসপাতালের মালিকরা সরকারের সঙ্গে দর কষাকষি করছেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পাওয়ায় কেউই করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে রাজি হচ্ছেন না। সংশ্নিষ্টদের মতে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর দাবি আকাশচুম্বী। স্বাস্থ্য বিভাগ মনে করছে, তারা ৫ থেকে ১০ গুণ বাড়তি অর্থ দাবি করছে। এ কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে করোনা চিকিৎসায় যুক্ত করার প্রক্রিয়া থমকে আছে।
আনোয়ার খান মডার্নসহ দেশের সাতটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এর বাইরে ক্রিসেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা, সাজেদা ফাউন্ডেশন ও স্কয়ার হাসপাতাল করোনা চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছে। অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সাড়া দিচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, হাসপাতালগুলোর পরিচালনায় প্রতি মাসে ৩০০ শয্যার জন্য প্রায় ২৫ কোটি, ৪০০ শয্যার জন্য প্রায় ৩২ কোটি এবং ৫০০ শয্যার জন্য প্রায় ৪০ কোটি চাওয়া হয়েছে। এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ দুটি প্রতিষ্ঠানে করোনা চিকিৎসা কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। তবে হাসপাতাল দুটির পরিচালন ব্যয়ের জন্য প্রতি মাসে কত টাকা দেওয়া হবে তা জানা যায়নি। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মুবিন খান সমকালকে বলেন, বাণিজ্যিক কোনো উদ্দেশ্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মালিকদের নেই। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আমরা সাতটি মেডিকেল কলেজের নাম প্রস্তাব করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের পরিচালন ব্যয়ের প্রসঙ্গে এমএ মুবিন খান বলেন, বেসরকারি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের থেকে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি। অন্য কোনো বেসরকারি হাসপাতাল চেয়ে থাকতে পারে। এটি তার জানা নেই। তবে হাসপাতাল পরিচালনার একটি ব্যয় আছে। এ ছাড়া অন্যান্য রোগের তুলনায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সমকালকে বলেন, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মালিকদের একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে তিনি ও বিএমএ মহাসচিব উপস্থিত ছিলেন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মালিকরা ব্যয়ের বিভিন্ন হিসাব দিয়েছেন। ওই ব্যয় মেটানো ছাড়া চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলেও তারা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা অন্য কর্মকর্তারা পরিচালন ব্যয় নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে করোনা চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে চিকিৎসার ব্যয়ের কথা যতটুকু জানা গেছে, তা অস্বাভাবিক। আড়াই থেকে তিন গুণ বাড়তি টাকা চাওয়া হয়েছে। এই দুর্যোগের সময় এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আশা করি, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে করোনা আক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত হবে।
বাণিজ্যের ছক :স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা চিকিৎসার জন্য অস্বাভাবিক অর্থ চেয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয়ের চেয়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা চাওয়া হয়েছে। এরপরও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখা টাকার নির্দিষ্ট কোনো হিসাব না করেই দুটি প্রতিষ্ঠানকে চিকিৎসার দায়িত্ব দিয়েছে। এ কাজে হাসপাতাল শাখার এক কর্মকর্তার হাত রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আঁতাত করে ওই কর্মকর্তা পরিচালন ব্যয় নির্দিষ্ট না করেই করোনা চিকিৎসার অনুমতি দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত ব্যয়ের বাইরে একটি কমিশন ওই কর্মকর্তার পকেটে যাবে। এ কারণেই ব্যয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়াও ওই কর্মকর্তা অন্যদের অন্ধকারে রেখে হাসপাতালগুলোর সঙ্গে রফা করছেন। এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল শাখা) ডা. আমিনুল হাসানকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।
সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন :২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল পরিচালনায় প্রতি মাসে কত ব্যয় হতে পারে, এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরীর কাছে। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন)। সর্বশেষ অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে প্রায় তিন বছর আগে তিনি অবসরে যান। ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাইডলাইন অনুযায়ী প্রতি ১০ শয্যার বিপরীতে তিনজন চিকিৎসক, ছয়জন নার্স এবং অন্যান্য ৯ জন কর্মী থাকবেন। এ হিসাবে ২০০ শয্যার জন্য ৬০ চিকিৎসক, ১২০ নার্স এবং ১৮০ জন কর্মচারী লাগবে। মোট জনবল হবে ৩৬০ জন। গড়ে বেতন বাবদ ৫০ হাজার টাকা করে ধরা হলে মোট এক কোটি ৮০ লাখ টাকা হবে। পরিচালনা ব্যয় আরও এক কোটি টাকা ধরলে মোট তিন কোটি টাকার বেশি লাগার কথা নয়। তাহলে কেন ১৭ কোটি টাকা চাওয়া হচ্ছে? এটি পুরোপুরি অনৈতিক। এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মালিক সমকালকে বলেন, তার পাঁচশ' শয্যার হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ পরিচালনায় বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে ৪০ লাখ এবং অন্যান্য খাতে আরও ১০ লাখ টাকা ব্যায় হয়। ২০০ শয্যার একটি হাসপাতালের পরিচালন ব্যয় তাহলে কীভাবে এত হবে? এটি অবাস্তব। যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বের কোনো নামিদামি হাসপাতালেরও পরিচালনা ব্যয় এত নয় বলে জানান তিনি।
ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা করোনার চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে দরকষাকষি করেছেন। এ ধরনের একাধিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। দুর্যোগকালে তাদের এ ধরনের মনোভাব কাম্য নয়- এটি বৈঠকের সময়ও বলেছি। এখনও তাদের প্রতি আহ্বান জানাব, বাণিজ্যিক মনোভাব বাদ দিয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হোন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পারসন ও অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান সমকালকে বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো পরিচালন ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত টাকা দাবি করার বিষয়টি তার কানে এসেছে। এ কারণে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে করোনা চিকিৎসায় যুক্ত করার বিষয়টি নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া এখনই সব বেসরকারি হাসপাতালকে যুক্ত করার প্রয়োজন পড়ছে না। প্রয়োজন হলে নতুন নতুন হাসপাতালকে যুক্ত করা হবে এবং এ জন্য যৌক্তিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।
হাবিবুর রহমান খান আরও বলেন, সরকার চাইলে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে রিকুইজিশন করতে পারে। প্রয়োজন হলে সেটিও করা হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে সেবা মিলছে না :দেশে করোনা সংক্রমণের পরপরই অনেক বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান লকডাউন করা হয়। চিকিৎসক, নার্সসহ অন্য কর্মকর্তাদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালে সেবা চালু না রাখলে নিবন্ধন বাতিলের হুমকি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরপরও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া রোগী ভর্তি করছে না। এতে করে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে অনেক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের রোগীর সেবা দিতে হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দিয়ে একটি আদেশ জারি করে। ওই আদেশে বলা হয়, সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিবন্ধন বাতিল ও জরিমানা করা হবে। এরপরও অবস্থার উন্নতি হয়নি।
করোনা প্রতিরোধে সরকারের গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান সমকালকে বলেন, ছোট একেকটি ক্লিনিক থেকে বর্তমানে মেডিকেল কলেজ, হাসপাতালসহ বড় বড় হাসপাতালের মালিক হয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ একাধিক হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। ব্যবসা না হলে এগুলো গড়ে তুলতে পারতেন না। সেই ব্যবসার কিছু টাকা দিয়ে এই দুর্যোগে তারা মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু সেবার পরিবর্তে তারা ব্যবসায়িক হিসাব কষে এগোচ্ছেন। এটি অনৈতিক। সরকারের উচিত দ্রুত রিকুইজিশন করে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা হাতে নিয়ে নেওয়া। তাহলেই মানুষের সেবা নিশ্চিত হবে।