কভিড১৯ মোকাবিলায় তরুণদের উদ্যোগ নিয়ে `লেটস টক`
`সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে এই যুদ্ধ জয় করতে পারব`
সমকাল প্রতিবদেক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২০ | ১০:২৫ | আপডেট: ১৯ মে ২০২০ | ১০:৫৮
কভিড১৯ মোকাবিলায় তরুণরা যেভাবে এগিয়ে এসেছেন তার প্রশংসা করেছেন আলোচকরা। তারা বলেছেন, একসঙ্গে কাজ করলে এই যুদ্ধ জয় করা অসম্ভব কিছুই নয়।
সোমবার রাতে কভিড১৯ মোকাবিলয় তরুণদের উদ্যোগ নিয়ে অনলাইনে আয়োজিত 'লেটস টক' অনুষ্ঠানে তারা একথা বলেন। তরুণদের জোট ইয়াং বাংলা এই অনুষ্ঠানে আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উইকেটের পেছনে থাকা অতন্দ্র প্রহরী মুশফিকুর রহিম বলেন, তরুণরা কাজে এগিয়ে আসছে। আসলে এখন তাদেরই এগিয়ে আসার সময়। তাদের কাজের প্রতি আমি স্যালুট জানাই। তার বেশ যত্ন সহকারে কাজগুলো করছে। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজটা করলে এই যুদ্ধে জয় করতে পারব। না মানলে তা ঠিক হবে না।
তিনি আরো বলেন, আমরা মাঠের মানুষ, শেষ দুই মাস ঘরে বসে আছি। আসলে সবার আগে নিজের সেফটি গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য ঘরে থাকতে হবে। এটা বেশ ডিফিকাল্ট এবং চ্যালেঞ্জিং। আমরা কেউ এমন পরিস্থিতি আগে দেখিনি। কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই সরকারের নির্দেশাবলী আমাদের পালন করা উচিত। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা আছেন, নার্স ডাক্তার তারা আমাদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে হলেও আমাদের সরকারি নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।
সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে মুশফিকের কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে নেন চিরকুট ব্যান্ডের সুমি। তিনি বলেন, দেশের তরুণরা এই মহামারীর সময় যেভাবে এগিয়ে এসেছে। যেভাবে কাজ করছে তা সত্যিই অতুলনীয়। যেই দেশের প্রত্যেকটা মানুষ বয়স ভেদে বড় থেকে ছোট যোদ্ধায় পরিণত হয়ে সেই দেশের খুব বেশি ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এমন দুর্যোগ আর প্রতিকূলতা নিয়েই আমরা চলেছি। এবার হয়ত একটু বড় আকারে হচ্ছে। কিন্তু আমরা তা মোকাবেলা করতে পারব। আমাদের (শিল্পীদের) কাজ মানুষকে সাইকোলজিক্যালি ফিট রাখা। আর সে জন্যই আমরা সামনে নিয়ে আসছি 'আলোর গান'। আপনিও আপনার বাড়ির জানালার ধারে দাড়িয়ে এই গান গেয়ে পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের কাছে।
এদিকে সম্প্রতি লকডাউনে গৃহ নির্যাতনের পরিমাণ বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন নবনীতা চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। নারীরা জানেন না করোনা মোকাবেলায় জরুরি সহায়তা নিতে বা নির্যাতনের শিকার হলে কোথায় ফোন করবে। গৃহ নির্যাতনের ফলে শিশুরাও ঝুঁকির মুখে থাকছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, তরুণরা অনেক কাজে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে এখন তরুণদের দেখাতে হবে, 'আমি অকারণে বাইরে যাই না'।
তরুণদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াং বাংলার বেশ কিছু সংগঠনের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। আমি গত ২৬ মার্চ থেকেই চট্টগ্রামে। সেখানে এবং দেশের অন্যান্য স্থানে দেখেছি। তরুণরা অনেক কাজ করেছে। এই মহামারী প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পৃথিবীর কোন সরকার এর জন্য প্রস্তুত ছিলো না। প্রতি নিয়ত নতুন নতুন পরিস্থিতিতে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এটা আজকেই শেষ না। এটা কবে শেষ হবে তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলতে পারছে না। কোন বিশেষজ্ঞ জানেন না। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ১৮ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় সকল উদ্যোক্তা রয়েছেন। আমাদের যেই তরুণরা কাজ করছে এই মহামারী শেষে তাদের হয়ত আর্থিক সহায়তা দিয়ে আমরা তাদের কাজ করায় কিভাবে উৎসাহিত করতে পারি তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কর্মসংস্থান ব্যাকে ৫০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে যেখান থেকে তরুণরা জামানত বিহীনভাবে ঋণ পাবে। কীভাবে তরুণদের সহায়তা করা যায় তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। আজকের এখানে থাকা অনেক তরুণ উদ্যোক্তাই তাদের কাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা পেয়েছেন।
বর্তমান স্টার্টআপ ও উদ্যোগগুলোর অবস্থার কথা বলতে গিয়ে আলোচনায় উপস্থিত জেসিআই বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সারাহ কামাল বলেন, অবস্থা কবে স্বাভাবিক হবে তা আমরা জানি না। আর স্বাভাবিক হলেও তা কেমন স্বাভাবিক হবে তাও আমরা জানি না। আর সে কারণেই আমাদের যেমন ঝুঁকি রয়েছে তেমনি যথেষ্ট সুযোগও রয়েছে। সকল সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত।
জাগো ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা করভী রাকশান্দ তরুণদের কার্যক্রম প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের (দেশের) তরুণরা সব সময় আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল আন্দোলনে বড় ভূমিকা রেখেছে এই তরুণরা। আমি মনে করি ইয়ুথ অর্গানাইজেশনগুলোর ন্যাশনাল ম্যাপিং করা এবং সমন্বয় করার প্রয়োজন। আমাদের তরুণদের জন্য অসাধারণ একটি মন্ত্রণালয় রয়েছে, তার অধীনে কাজটি হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে আরো কথা বলেন জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী ফাহিমা খাতুন, নড়াইল ভলান্টিয়ার্সের সাদাত রহমান, অল ফর ওয়ান ফাউন্ডেশন কামরুন নেসা মীরা, নওগাঁ এনআইওয়াইএসএইচএএন সংগঠনের মাহিদুর রহমান এবং দ্যা আর্থ ফাউন্ডেশনের জাফির শাফি।