ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু সাড়ে সাতশ ছুঁইছুঁই

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু দুই শিশুর, উপসর্গ ৮১৮ জনের শরীরে

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু সাড়ে সাতশ ছুঁইছুঁই
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৮ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও দুই শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬৫৪ শিশু। নিশ্চিত হামে মৃত্যু ৯৩ শিশুর। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৭৪৭।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৮১৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২৮ জন। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮। এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৩ হাজার ১৯৮ রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯২ হাজার ৩১ রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৮ হাজার ৪১৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। আর হামের উপসর্গ নিয়ে যে দুই শিশু মারা গেছে, তাদের একজন ঢাকা বিভাগের, আরেকজন সিলেট বিভাগের।
এত মৃত্যুর জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘সরকারের অব্যবস্থাপনার জন্যই এত মৃত্যু হয়েছে। ব্যবস্থাপনা ভালো করা গেলে এত মৃত্যু হতো না।’ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরও হামকে মহামারি ঘোষণা করে সারাদেশে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি না করাটা সরকারের ‘বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল’ বলেও মনে করেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কথা বলছি। বর্তমান কর্তৃপক্ষও দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক, ফিল্ড হাসপাতাল, জরুরি আইসিইউ ব্যবস্থাপনা– এসব ব্যবস্থা নেওয়া খুব কঠিন কিছু নয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, হামে আক্রান্ত গুরুতর শিশুদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালের আইসিইউর একটি অংশ শিশুদের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। পাশাপাশি আইসিইউর আগের পর্যায়ের রোগীদের জন্য ‘হাই-ফ্লো’ অক্সিজেনের ব্যবস্থা চালু করার আহ্বান 
জানান তিনি।
 

আরও পড়ুন

×