বেতনের টাকায় ভিক্ষুকদের খাবার
×
ইন্দ্রজিৎ সরকার
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
'পুলিশ' বলতেই যেরকম ছবি সাধারণত মনে ভেসে ওঠে, তার সঙ্গে মনসুর হোসেন মানিকের কোনো মিলই নেই। রাজধানীর কলাবাগান থানার এই পুলিশ কর্মকর্তার পরিচিতি বরং কোমল হৃদয়ের মানুষ হিসেবে। যেদিন তিনি যে এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন, সেই এলাকার ভাসমান মানুষ, ভিক্ষুক, ভবঘুরেরা উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন। কারণ, তাদের খাবার, পানি, মাস্ক, স্যানিটাইজার কিনে দেন মানিক। শুধু তাই নয়, করোনাকালে কাউকে হাসপাতালে নেওয়া দরকার, কারও চাই ওষুধ বা নগদ টাকা- সাধ্যমতো সব চাহিদাই পূরণের চেষ্টা চালান তিনি। সবই করেন নিজের বেতনের টাকায়। একজন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তার পরিচিতি গড়ে উঠেছে। সহকর্মীসহ অনেকে এখন তাকে চেনেন 'মানবিক মানিক' নামে।
এসআই মানিক বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সমকালকে বলেন, 'করোনার দুঃসময়ে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ ও ভাসমান-ভবঘুরেরা মারাত্মক বিপদে আছেন। তাদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং প্রায় সব ইউনিট থেকে আলাদাভাবে বিভিন্ন সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলাবাগান থানাও নানারকম সহায়তা দিচ্ছে দুস্থদের। সেসব কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও কিছু করার চেষ্টা করছি।' তিনি জানান, করোনাকালে যেখানেই দায়িত্ব পালন করতে যান, প্রচুর অভাবী-অনাহারী মানুষ এসে হাত পাতেন। তাদের অনেকেই আগে ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। করোনা তাদের ভিক্ষুকের কাতারে এনে দাঁড় করিয়েছে। এসব শুনে মানিকের বুকের ভেতরটা যেন মোচড় দিয়ে ওঠে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি শুকনো খাবার কিনে দেন। এমন ঘটনা প্রায় নিয়মিত। ফলে তিনি এখন আগেই প্রস্তুতি নিয়ে ডিউটিতে যান। কোনো এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে যেদিন রাস্তায় ঘুরে বেড়ান, সেদিন সঙ্গে রাখেন বিভিন্নরকম খাদ্যসামগ্রী। ফুটপাতের বাসিন্দা, ভিক্ষুক বা ভবঘুরে কাউকে পেলেই তিনি খাবার তুলে দেন।
মানিক বলেন, 'ভাসমান মানুষদের করোনা থেকে নিরাপদ রাখতে মার্চের শেষ সপ্তাহে প্রথমবার মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করি। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হতে থাকায় সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ চালিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যেই বুঝতে পারি, অভাবী মানুষের সবচেয়ে বেশি দরকার খাবার। তাই শুরু করি খাবার বিতরণ। খুব বেশি কিছু করতে পারি, তা নয়। যখন যে এলাকায় যাই, সেখানকার ফুটপাতে থাকা মানুষের মধ্যে অন্তত ১৫-২০ জনকে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করি। আবার কলাবাগান থানার পক্ষ থেকে সহায়তা দিতে গিয়েও অন্যরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দেখা যায়, খাবার বিতরণ শেষ হওয়ার পরও কিছু মানুষ খালি হাতে অপেক্ষা করছে। তখন নিজের পকেট থেকে সহায়তা দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।'
গতকাল সোমবার দুপুরেও মানিককে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়। রাসেল স্কয়ার মোড়ে অতিদরিদ্র ১৫ জনের হাতে তুলে দিয়েছেন কিছু নগদ টাকা। এর আগে শুক্রবার রাতে পান্থপথ ও রাসেল স্কয়ার এলাকায় ফুটপাতে থাকা ২০ জনকে দিয়েছেন আপেল, পাউরুটি, বিশুদ্ধ পানি ও মাস্ক।
মানিক বলেন, 'পুলিশের কাজই হলো মানুষের সেবা করা। করোনার সময় সেই সেবা দেওয়ারই চেষ্টা করছি। সবচেয়ে বড় কথা, একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা কর্তব্য।'
এসআই মানিক বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সমকালকে বলেন, 'করোনার দুঃসময়ে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ ও ভাসমান-ভবঘুরেরা মারাত্মক বিপদে আছেন। তাদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং প্রায় সব ইউনিট থেকে আলাদাভাবে বিভিন্ন সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলাবাগান থানাও নানারকম সহায়তা দিচ্ছে দুস্থদের। সেসব কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও কিছু করার চেষ্টা করছি।' তিনি জানান, করোনাকালে যেখানেই দায়িত্ব পালন করতে যান, প্রচুর অভাবী-অনাহারী মানুষ এসে হাত পাতেন। তাদের অনেকেই আগে ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। করোনা তাদের ভিক্ষুকের কাতারে এনে দাঁড় করিয়েছে। এসব শুনে মানিকের বুকের ভেতরটা যেন মোচড় দিয়ে ওঠে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি শুকনো খাবার কিনে দেন। এমন ঘটনা প্রায় নিয়মিত। ফলে তিনি এখন আগেই প্রস্তুতি নিয়ে ডিউটিতে যান। কোনো এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে যেদিন রাস্তায় ঘুরে বেড়ান, সেদিন সঙ্গে রাখেন বিভিন্নরকম খাদ্যসামগ্রী। ফুটপাতের বাসিন্দা, ভিক্ষুক বা ভবঘুরে কাউকে পেলেই তিনি খাবার তুলে দেন।
মানিক বলেন, 'ভাসমান মানুষদের করোনা থেকে নিরাপদ রাখতে মার্চের শেষ সপ্তাহে প্রথমবার মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করি। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হতে থাকায় সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ চালিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যেই বুঝতে পারি, অভাবী মানুষের সবচেয়ে বেশি দরকার খাবার। তাই শুরু করি খাবার বিতরণ। খুব বেশি কিছু করতে পারি, তা নয়। যখন যে এলাকায় যাই, সেখানকার ফুটপাতে থাকা মানুষের মধ্যে অন্তত ১৫-২০ জনকে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করি। আবার কলাবাগান থানার পক্ষ থেকে সহায়তা দিতে গিয়েও অন্যরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দেখা যায়, খাবার বিতরণ শেষ হওয়ার পরও কিছু মানুষ খালি হাতে অপেক্ষা করছে। তখন নিজের পকেট থেকে সহায়তা দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।'
গতকাল সোমবার দুপুরেও মানিককে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়। রাসেল স্কয়ার মোড়ে অতিদরিদ্র ১৫ জনের হাতে তুলে দিয়েছেন কিছু নগদ টাকা। এর আগে শুক্রবার রাতে পান্থপথ ও রাসেল স্কয়ার এলাকায় ফুটপাতে থাকা ২০ জনকে দিয়েছেন আপেল, পাউরুটি, বিশুদ্ধ পানি ও মাস্ক।
মানিক বলেন, 'পুলিশের কাজই হলো মানুষের সেবা করা। করোনার সময় সেই সেবা দেওয়ারই চেষ্টা করছি। সবচেয়ে বড় কথা, একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোটা কর্তব্য।'