বিজিবিতে অত্যাধুনিক জলযান, চলবে ১০১ কিলোমিটার গতিতে
বিজিবিতে সংযোজিত নতুন জলযান ইন্টারসেপটোর-সংগৃহীত ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০ | ০২:৪৯ | আপডেট: ০৩ জুন ২০২০ | ০২:৫২
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) সংযোজিত হয়েছে অত্যাধুনিক ও দ্রুত গতিসম্পন্ন চারটি ইন্টারসেপটোর জলযান। এগুলো ঘণ্টায় ৫৫ নটিক্যাল মাইল বা ১০১ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। যে কোনো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চলাচলে সক্ষম এসব জলযান।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বিজিবির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জলযানগুলো বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। সিলভারক্রাফট ৪০ মডেলের রিইনফোর্সড পলিমারের তৈরি ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ৭৫০ হর্স পাওয়ারের তিন ইঞ্জিন বিশিষ্ট প্রতিটি জলযান ৩৩ জন সৈন্য ধারণে সক্ষম। এতে আছে স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান সংযুক্তির সুবিধাসহ উন্নত প্রযুক্তির স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন সিস্টেম, চতুর্থ প্রজম্মের জিপিএস, আধুনিক সোনার সিস্টেম এবং আরও অনেক অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। জলযানগুলো নিজস্ব অবস্থান থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে শত্রু জলযানের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। এতে দু’জন মুমূর্ষু রোগী পরিবহনেরও ব্যবস্থা আছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের চার হাজার ১৮৪ কিলোমিটার স্থল সীমান্তের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে ১৮০ ও মিয়ানমারের সঙ্গে ৬৩ কিলোমিটার নৌ সীমান্ত বিজিবি প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এবং টহল দেয়। এছাড়া ২০১৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থলভাগের সার্বিক নিরাপত্তায় বিজিবি নিয়োজিত হয়। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয় সীমান্তবর্তী নাফ নদী। আন্তঃদেশীয় অপরাধীদের নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন, মানবপাচার, চোরাচালান ও ইয়াবাসহ মাদকপাচারে চোরাকারবারীদের অপতৎপরতা এবং চলমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতির কারণে নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্ত কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। অপরদিকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সাতক্ষীরার নীলডুমুরের সুন্দরবন অংশের গহীন অরণ্যের বাংলাদেশ-ভারত জলসীমান্ত এলাকাতেও অনুরূপ চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এক্ষেত্রে প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত, অধিক সৈন্য বহনে সক্ষম দ্রুতগতির এই জলযান বিজিবির সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে।