নতুন নিয়োগ স্থবির
×
শেখ আবদুল্লাহ
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনাভাইরাসের কারণে যে মন্দা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার ফলে দেশের আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মী চাহিদা কমছে। দেশের শিল্প, বাণিজ্যিক ও সেবা প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মী নিয়োগ অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। এমনকি সরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বেশিরভাগ শিল্পগোষ্ঠী গত মার্চের পর থেকে নতুন নিয়োগ দিচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অথবা আংশিক চালু থাকায় নতুন কর্মীর চাহিদা নেই। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের যেসব অনলাইন সাইটে সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, সেখানকার তথ্য নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। ২০১৯ সালের এপ্রিলের তুলনায় গত এপ্রিলে মাত্র ১৩ শতাংশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে এসব সাইটে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মাদ আলী খোকন এ বিষয়ে সমকালকে বলেন, কারখানার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। রপ্তানি আদেশ নেই। স্থানীয় বাজারেও চাহিদা কমে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ। অনেকে লে-অফ করেছে। এ অবস্থায় পুরোনো কর্মীদের রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে নতুন নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ খুব কম।
বিল্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, পুরো বিশ্বে মন্দা শুরু হয়েছে। প্রচলিত সব ধরনের পণ্য ও সেবার চাহিদা কমছে। এ রকম পরিস্থিতিতে নতুন কর্মীকে কাজ করানোর সুযোগই প্রতিষ্ঠানগুলোর নেই। ফলে নিয়োগ কার্যক্রমও বন্ধ।
বাংলাদেশে বিডিজবস ডটকম, চাকরি ডটকম, জব ডটকম ডট বিডি, অলজব ডটকমসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সরকারি-বেসরকারি এবং দেশি-বিদেশি সংস্থার চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এসব জব সাইটে চাকরিপ্রত্যাশীরা নিবন্ধন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির খোঁজখবর নিয়ে থাকেন। এসব সাইটের তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, গত তিন মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ব্যাপকভাবে কমেছে। সবচেয়ে বেশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কমেছে টেক্সটাইল খাতে। এর পরই রয়েছে উৎপাদন ও শিক্ষা খাত। জাতীয় শ্রম শক্তি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ কর্মসংস্থান হয়েছে কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতে। এ ছাড়া ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায় ১৪ দশমিক ২ শতাংশ, পরিবহন ও মজুদ খাতে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ, ইউটিলিটি ও নির্মাণ খাতে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ ও শিক্ষায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কর্মসংস্থান রয়েছে।
এডিবির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিডিজবসে ৬০ হাজার চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এই বিজ্ঞপ্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫ শতাংশ বিজ্ঞপ্তি এসেছিল টেক্সটাইল খাত থেকে। এ ছাড়া অন্যান্য বেসরকারি খাত থেকে ১৫ শতাংশ, উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩ শতাংশ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান থেকে ৯ শতাংশ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। এর সব খাতেই নিয়োগ কমেছে। তবে টেক্সটাইল খাতে সবচেয়ে বেশি হারে কমেছে। গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় গত এপ্রিলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কমেছে ৯৫ শতাংশ। এর পরই রয়েছে শিক্ষা ও উৎপাদন খাতে ৯২ শতাংশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কমেছে। ইউরোপ ও আমেরিকার মতো রপ্তানি বাজারে চাহিদা না থাকায় টেক্সটাইল খাতে নতুন কর্মীর চাহিদা নেই। আর মধ্যবর্তী কাঁচামালের সংকটে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোদমে হচ্ছে না। ফলে নতুন কর্মীর প্রয়োজনীয়তা কম দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিয়োগও বন্ধ রয়েছে।
এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় অনেক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আবার কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থা জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আগের চেয়ে কম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বেশিরভাগ শিল্পগোষ্ঠী গত মার্চের পর থেকে নতুন নিয়োগ দিচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অথবা আংশিক চালু থাকায় নতুন কর্মীর চাহিদা নেই। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের যেসব অনলাইন সাইটে সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, সেখানকার তথ্য নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। ২০১৯ সালের এপ্রিলের তুলনায় গত এপ্রিলে মাত্র ১৩ শতাংশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে এসব সাইটে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মাদ আলী খোকন এ বিষয়ে সমকালকে বলেন, কারখানার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। রপ্তানি আদেশ নেই। স্থানীয় বাজারেও চাহিদা কমে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ। অনেকে লে-অফ করেছে। এ অবস্থায় পুরোনো কর্মীদের রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে নতুন নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ খুব কম।
বিল্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, পুরো বিশ্বে মন্দা শুরু হয়েছে। প্রচলিত সব ধরনের পণ্য ও সেবার চাহিদা কমছে। এ রকম পরিস্থিতিতে নতুন কর্মীকে কাজ করানোর সুযোগই প্রতিষ্ঠানগুলোর নেই। ফলে নিয়োগ কার্যক্রমও বন্ধ।
বাংলাদেশে বিডিজবস ডটকম, চাকরি ডটকম, জব ডটকম ডট বিডি, অলজব ডটকমসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সরকারি-বেসরকারি এবং দেশি-বিদেশি সংস্থার চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এসব জব সাইটে চাকরিপ্রত্যাশীরা নিবন্ধন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির খোঁজখবর নিয়ে থাকেন। এসব সাইটের তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, গত তিন মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ব্যাপকভাবে কমেছে। সবচেয়ে বেশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কমেছে টেক্সটাইল খাতে। এর পরই রয়েছে উৎপাদন ও শিক্ষা খাত। জাতীয় শ্রম শক্তি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ কর্মসংস্থান হয়েছে কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতে। এ ছাড়া ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায় ১৪ দশমিক ২ শতাংশ, পরিবহন ও মজুদ খাতে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ, ইউটিলিটি ও নির্মাণ খাতে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ ও শিক্ষায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কর্মসংস্থান রয়েছে।
এডিবির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিডিজবসে ৬০ হাজার চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এই বিজ্ঞপ্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫ শতাংশ বিজ্ঞপ্তি এসেছিল টেক্সটাইল খাত থেকে। এ ছাড়া অন্যান্য বেসরকারি খাত থেকে ১৫ শতাংশ, উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩ শতাংশ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান থেকে ৯ শতাংশ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। এর সব খাতেই নিয়োগ কমেছে। তবে টেক্সটাইল খাতে সবচেয়ে বেশি হারে কমেছে। গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় গত এপ্রিলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কমেছে ৯৫ শতাংশ। এর পরই রয়েছে শিক্ষা ও উৎপাদন খাতে ৯২ শতাংশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কমেছে। ইউরোপ ও আমেরিকার মতো রপ্তানি বাজারে চাহিদা না থাকায় টেক্সটাইল খাতে নতুন কর্মীর চাহিদা নেই। আর মধ্যবর্তী কাঁচামালের সংকটে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোদমে হচ্ছে না। ফলে নতুন কর্মীর প্রয়োজনীয়তা কম দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিয়োগও বন্ধ রয়েছে।
এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় অনেক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আবার কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থা জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আগের চেয়ে কম।