ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ঢাবির আটটি বিভাগ এখনই একীভূত হচ্ছে না

ঢাবির আটটি বিভাগ এখনই একীভূত হচ্ছে না
×

ফাইল ছবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ২০:৩৯ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ | ২১:০৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষা-সংক্রান্ত একটি সভায় আটটি বিভাগকে একীভূত করে তিনটি বিভাগে রূপান্তরের প্রস্তাব উঠেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবলই একটি প্রস্তাব এবং এখনই তা বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা বা চিন্তা তাদের নেই। অনেক বিভাগে আসন ফাঁকা থাকার প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাব এলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর অংশীজনরা ইতোমধ্যে এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।  

বিভাগগুলোর মধ্যে তিনটি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এবং পাঁচটি বর্তমানে কলা অনুষদের অধীনে রয়েছে। গত ২২ জুন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিগত পরিবর্তন ও আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটির সভায় এই বিষয়ে প্রস্তাব আসে। 

বিভাগগুলোর মধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, টেলিভিশন চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগকে একটি বিভাগে; থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ এবং সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগ নিয়ে একটি বিভাগ এবং সংস্কৃত ও পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগকে নিয়ে একটি বিভাগের প্রস্তাব এসেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘এই বিষয়ে পরবর্তী কোনো অগ্রগতি হয়নি। অনেক বিভাগে আসন ফাঁকা থাকে—সেই প্রেক্ষাপট থেকে আলোচনাটি এসেছে, সভায় শুধু প্রস্তাবনা এসেছে। বলা হয়েছে, এ বিষয়ে বিভাগের সাথে সম্ভাব্যতা কতটুকু তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে মতামত জানাতে। এটি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি সংক্রান্ত কমিটির সভায় এসেছে, এটি কোনো সিদ্ধান্তগ্রহণকারী বডি নয়।’ 

বর্তমানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান না থাকায় অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম বিভাগটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘বিভাগ একীভূত করতে হলে এটির যৌক্তিকতা, বর্তমান অবস্থা, মার্কেটের চাহিদা, মূল্যায়ন—সবকিছু যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আমরা এখন আগামী বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভাবছি, এটি এই মুহূর্তে হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’ 

কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার সমকালকে বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। কিছু আসন ফাঁকা থাকে, যেমন সংগীত বিভাগে আসন ফাঁকা ছিল। তখন প্রসঙ্গক্রমে আলোচনা এসেছে। একটা বিভাগ অনেক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খোলা হয়। অনুষদ সভা থেকে মতামত আসে, সেটা একাডেমিক কাউন্সিলে যায়। সেখানে আলোচনা হয়ে সিদ্ধান্ত হয়, তারপর সেটা সিন্ডিকেটে যায়, এরপর ইউজিসিতে অনুমোদন হয় এবং সবশেষে ডিনস কমিটিতে যায়। ফলে সেই বিভাগ আবার বন্ধ করতে হলে এই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করতে হবে, কেন বিভাগ বন্ধ করা হলো সেটিও সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে।’ 

অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার আরও বলেন, অনেক বিভাগে আসন ফাঁকা থাকে। এটার জন্য তো বিভাগ বন্ধ করা যায় না। কলা অনুষদের তিনটি বিভাগ ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বতন্ত্র নিয়ম চেয়েছে। সাধারণ ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনেকের গান গাওয়ার গলা বা দক্ষতা নেই, কিন্তু সংগীতে ভর্তি হয়। আবার যিনি পড়তে চান, তিনি হয়তো সাধারণ ভর্তি প্রক্রিয়ার জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে পারেন না। ফলে এগুলো নিয়ে ভাবা হচ্ছে। 

জানতে চাইলে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন কাজী তামান্না হক সিগমা সমকালকে বলেন, ‘আমাদেরকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রত্যেকটি বিভাগ আলাদা নিয়মে চলে, সবার পাঠ্যক্রম আলাদা। এটি একত্রে চলার কোনো উপায় নেই। যদি পারফরম্যান্স অনুষদ হয়ে সেখানে বিভাগগুলো থাকে, সে ক্ষেত্রে এটি হতে পারে। আমরা এ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র ভর্তি প্রক্রিয়া চেয়েছি, যেন যারা প্রকৃত অর্থে প্যাশনেট তারাই এখানে ভর্তি হতে পারে।’ 

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম সমকালকে বলেন, সারা পৃথিবীতে বিভাগ যুক্ত করা কিংবা বাদ দেওয়া এটি একাডেমিক ডেভেলপমেন্টের অংশ, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সভায় একজন সদস্য বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন। বিষয়টি ওই পর্যন্তই, এটি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি। আপাতত এই বিষয়ে কোনো ভাবনা নেই।

আরও পড়ুন

×