রিভারাইন পিপলের অনলাইন আলোচনা
সাময়িক নয়, নদ-নদীর টেকসই মুক্তি জরুরি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২০ | ১৩:৩৭ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনা পরিস্থিতিতে কলকারখানা বন্ধ থাকায় নদ-নদীতে দূষণ সাময়িক কমলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে পারে। এছাড়া লকডাউন পরিস্থিতিতেও বালু উত্তোলন বন্ধ নেই। প্রয়োজন নদ-নদীর টেকসই মুক্তি। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে নদী বিষয়ক নাগরিক সংগঠন 'রিভারাইন পিপল' আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনায় আলোচকরা এমন মত প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এর পরিচালক নূসরাত খানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নদী বিশেষজ্ঞ বুশরা নিশাত, রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন, পরিচালক তুহিন ওয়াদুদ, এম আনোয়ার হোসেন, ও আলতাফ হোসেন রাসেল। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন দর্শকরা। আলোচনার শিরোনাম ছিল 'সময় এখন প্রকৃতির, সময় এখন নদীরও'।
আলোচনার সূত্রপাত করে শেখ রোকন বলেন, এবারেরর পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য সময় এখন প্রকৃতির। বাংলাদেশে প্রকৃতি মানে নদী। নদী ভালো থাকলে প্রতিবেশ ব্যবস্থা ভালো থাকে। এখন যদিও সাময়িক স্বস্তি এলেও এটা টেকসই করতে হলে অব্যাহতভাবে আইনের প্রয়োগ ও সামাজিক নজরদারি জরুরি। তার মতে, জেলে বা মাঝির মতো নদীনির্ভর জনগোষ্ঠী করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বুশরা নিশাত বলেন, করোনা পরিস্থিত প্রমাণ করেছে আমরা দূষণ কমালে কোন পর্যায়ে ফিরে যেতে পারে। নদীতে আবার ডলফিন দেখা যেতে পারে। বর্তমান অবস্থা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারি।
তুহিন ওয়াদুদ বলেন, নদী দখলদাররা, বালু উত্তোলনকারীরা করোনা পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা রাতের বেলা তিস্তা নদী থেকে বালু তুলছে। বালু তোলার ড্রেজারের যে দাম, এক রাতের বালু তুলে তার দ্বিগুন অর্থ আয় করে। ফলে শুধু ড্রেজার পুড়িয়ে দিয়ে লাভ নেই। তার মতো, বালু উত্তোলনকারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাহলে তা হবে টেকসই পদক্ষেপ।
আলতাফ হোসেন রাসেল বলেন, ঘনবসতি এলাকায় কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব বেশি। শহরে ঘনবসতির মূলে রয়েছে নদীর ভালো না থাকা। নদী ভাঙন হলে, নদী দূষণে মৎস্যসম্পদ বিনষ্ট হলে মানুষ নদী অববাহিকা এলাকা থেকে শহরে স্থানান্তরিত হতো। করোনা ভাইরাস এসে স্পষ্ট করেছে, নদী বিনষ্ট করে আমরা ভালো থাকতে পারবো না। রোগ-ব্যাধি, দারিদ্র থেকে ভালো থাকতে হলে নদী অর্থনীতি সচল রাখতে হবে।
এম আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে নদী হচ্ছে 'স্প্রিং অব লাইফ'। উন্নয়নের নামে নদী মেরে ফেলা যাবে না। বরং নদীকে ভালো রেখে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদে প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি বড় ক্ষেত্র হচ্ছে নদী। নদী দূষণ ও দখল অব্যাহত রেখে উন্নয়ন টেকসই হবে না। প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে নদী চিত্র দেখে রাষ্ট্র ও সরকারের শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, কীভাবে নদী রক্ষা করতে হবে।
সংগঠনটির মহাসচিব শেখ রোকন বলেন, রিভারাইন পিপল বরাবরই নদী ও পরিবেশ সংক্রান্ত দিবসগুলোতে আলোচনা সভা আয়োজন করে আসছে। এবার করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইন আলোচনা আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের আলোচনা ও মতবিনিময় অব্যাহত থাকবে।
সঞ্চালক নূসরাত খান বলেন, যারা লাইভ আলোচনা শুনতে পারেননি, তারা রিভারাইন পিপলের ফেসবুক পেজে (https://web.facebook.com/RiverinePeople/) শুনতে পারেন। বিজ্ঞপ্তি।