বিশ্বকাপকে আকর্ষণীয় করেছে আফ্রিকা
ছবি: সংগৃহীত
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০০:৩৮
এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮-এ উন্নীত করে ফিফা। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়ানোয় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে। এবার গেল গেল বলে অনেক ফুটবলপ্রেমীই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের সুর তুলেছিলেন। অনেক ফুটবলবোদ্ধাও ভেবেছিলেন, বিশ্বকাপে ফুটবলের তুলনামূলক কম শক্তির দলগুলো অংশ নেওয়ায় টুর্নামেন্টের সৌন্দর্যহানি হবে। ফিফা র্যাংঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলগুলোর কাছে ‘ছোট’ দলগুলো বড় ব্যবধানে পরাজিত হবে। এতে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে আগের মতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ম্যাচের সংখ্যা কমে যাবে। কিন্তু উত্তর আমেরিকা মহাদেশের তিন দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বিপরীত চিত্রই দেখা গেছে। টুর্নামেন্টজুড়ে ফুটবল পরাশক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফিফার মান বাঁচিয়েছে আফ্রিকার দলগুলো।
বিশ্বকাপে অধিকসংখ্যক আফ্রিকান দেশকে সুযোগ দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন না অনেকেই। এমনকি ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হতে ব্যর্থ হওয়া চারবারের বিশ্বকাপ জয়ী ইতালির কোচ গেন্নারো গাত্তুসোও ফিফার সিদ্ধান্তের প্রতি আঙুল তুলেছিলেন। ৪৮ দেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত উত্তর আমেরিকার তিন দেশে আয়োজিত বিশ্বকাপে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা পাঁচ থেকে ৯-এ উন্নীত করে ফিফা। আফ্রিকার এতগুলো দেশকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া ঠিক হয়নি অভিমত জানিয়ে ইতালির ২০০৬ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য গাত্তুসো বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী আফ্রিকান দেশের সংখ্যা আরও কম হওয়া উচিত।’
তবে বাছাইপর্বের আন্তঃমহাদেশীয় লড়াইয়ে জিতে ডি.আর কঙ্গো ৫২ বছর পর চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পাওয়ায় বিশ্বকাপে আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী দেশের সংখ্যা দশ-এ দাঁড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর পর গাত্তুসোর ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে বেশি সময় লাগেনি আফ্রিকার দেশগুলোর। গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে দেখা যায়, আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে কেবল তিউনিসিয়া ছাড়া বাকি ৯টি দেশ টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। এর মধ্যে পাঁচটি দেশই গ্রুপ পর্বের রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব দেখায়। যদিও বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট ইউরোপিয়ান দেশগুলোর তুলনায় অনভিজ্ঞ আফ্রিকা নকআউট পর্বে তেমন সফলতা পায়নি। ইউরোপ থেকে সর্বাধিক ৬টি দেশ কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নেয়। এ ছাড়া আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে একটি করে টুর্নামেন্টের শেষ আটের টিকিট পায়।
নাটকীয় হারে বিদায়
টুর্নামেন্টের শেষদিকের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলোতে আফ্রিকান দলগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, শেষ মুহূর্তের গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের। মিসর ও আর্জেন্টিনা ম্যাচের কথাই বলা যাক, খেলার ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা মিসর শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে অ্যালসিলেস্তেদের কাছে পরাজিত হয়। সেনেগাল ও বেলজিয়ামের ম্যাচেও একই চিত্র দেখা যায়। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা আফ্রিকান দলটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচটিতে ৩-২ গোলে হেরে যায়।
টুর্নামেন্টে থেকে আফ্রিকার নাটকীয় বিদায়ে অনেক ফুটবল অনুরাগীর মন ভেঙেছে। যদিও টুর্নামেন্ট গভীর থেকে গভীরতর পর্যায়ে যেতেই ফুটবলে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়া ইউরোপের সঙ্গে আফ্রিকার দলগুলোর শক্তির ব্যবধান স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো ও ফ্রান্সের ম্যাচটিতে। যে ম্যাচে ফ্রান্সের পোস্ট লক্ষ্য করে প্রথম কার্যকর শটটি নিতে ৮৩ মিনিট লেগে যায় অ্যাটলাস লায়ন্সদের। আফ্রিকার দলগুলোর দুর্বলতা খুঁজে বের করেছেন টিভি ভাষ্যকার ও সাবেক ফরাসি স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি। তিনি বলেন,‘আফ্রিকার দলগুলো ম্যাচে এগিয়ে গেলেই রিলাক্স মুডে চলে যায়। ম্যাচের ফোকাস থেকে বিচ্যুত হয় তারা।’
সাবেক সুইডিশ তারকা জ্লাতন ইব্রাহিমোভিচ বলেন, ‘ম্যাচে এগিয়ে থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশকে দেখা গেছে, তারা হারার উপায় খুঁজছে। দলগুলো দুর্ভাগ্যের কারণে হারেনি, হেরেছে বাজেভাবে গেম ম্যানেজমেন্টের কারণে।’