ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

ইমিউনিটি বাড়াতে যোগব্যায়ামও করছে পুলিশ

ইমিউনিটি বাড়াতে যোগব্যায়ামও করছে পুলিশ
×

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের সদস্যরা শুরু করেছেন যোগব্যায়াম এএফপি

সাহাদাত হোসেন পরশ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২০ | ১২:০০

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। নিয়মিত শরীর চর্চা বা ব্যায়াম কর্মস্পৃহা বাড়ায়। শরীর চর্চার ফলে শরীরের প্রতিটি কোষে অতিরিক্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ হয়। এতে হৃদযন্ত্র এবং রক্তনালি সচল থাকে। করোনাকালে স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আরও বেশি নজর রাখা দরকার। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি এই সময় মানসিক স্বাস্থ্যও ঠিক রাখা খুব জরুরি। যে কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখার জন্য নিয়মিত শরীর চর্চা ও প্যারেড করার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ভোরে উঠেই প্রতিটি ইউনিটের সদস্যরা শরীর চর্চা ও প্যারেড করতে মাঠে যান। এরপর যে যার কাজে যোগ দিয়ে থাকেন। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত প্রায় তিন মাস পুলিশে নিয়মিত শরীর চর্চা ও প্যারেড বন্ধ ছিল। এখন থেকে আবার নিয়মিত শরীর চর্চা ও প্যারেড শুরু করেছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। এবার শরীর চর্চার সঙ্গে যোগব্যায়ামও শুরু করেছে পুলিশ। করোনা পরিস্থিতিতে ফিটনেস ও ইমিউনিটি বাড়াতে এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের সদস্যরা গুলশানে তাদের অফিস কমপ্লেক্সের সামনে যোগব্যায়াম শুরু করে দিয়েছেন। এখন থেকে সপ্তাহে দু'দিন যোগব্যায়াম চলবে। কিছুদিনের মধ্যে ডিএমপির অন্যান্য পুলিশ বিভাগেও যোগব্যায়াম শুরু করবে। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা পুলিশ ও বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শরীর চর্চা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের ডিসি আশরাফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, 'করোনা পরিস্থিতিতে বাইরে খোলা পরিবেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শরীর চর্চা কার্যক্রম চালানো কঠিন। তাই অফিস কম্পাউন্ডে ও ঘরে বসেই যাতে শারীরিক কসরতের মাধ্যমে সুস্থ থাকা যায়, সেই লক্ষ্যে ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশন যোগব্যায়াম শুরু করেছে। বেসরকারি একটি সংস্থা থেকে ইন্সট্রাক্টর এনে ফোর্সদের যোগব্যায়াম করানো হচ্ছে। যদি দেখা যায় ফোর্সরা এতে উপকৃত হচ্ছে, তাহলে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের এসি ও ফোকাল পয়েন্ট অফিসার রাজন কুমার সাহা বলেন, 'জনগণকে অধিকতর সেবা, দেশ-জাতি ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সুস্থা থাকা জরুরি। সুস্থ থাকার ব্রত নিয়ে যোগব্যায়াম চালু করা হয়েছে।'
ডিএমপির ডিসি (ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, 'করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ সদস্যদের শরীর চর্চা ও প্যারেড কার্যত বন্ধ ছিল। এক সপ্তাহ ধরে রাজারবাগে পুনরায় তা শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন শরীর চর্চা ও প্যারেড করতে হয় পুলিশ সদস্যদের। সপ্তাহে এক দিন মাস্টার প্যারেড করার নিয়ম। শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য শরীর চর্চা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফিট থাকার জন্য এটা জরুরি। করোনাকালে পুলিশ সদস্যদের শরীর ও মন চাঙ্গা রাখতে ডিএমপিও যোগব্যায়াম চালু করার চিন্তাভাবনা করছে।'
শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, 'দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সামাজিক দূরত্ব বজায়সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার পুলিশ লাইনে শরীর চর্চা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া খেলাধুলাও শুরু করেছেন পুলিশের সদস্যরা। পুলিশ লাইন্স ছাড়াও থানা পুলিশের সদস্যদের নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যায়াম চালিয়ে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'
সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার পর্যন্ত পুলিশে ছয় হাজার ৬১২ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ডিএমপির এক হাজার ৮৫০ জন। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৮২৩ জন। কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ছয় হাজার ৪৭৪ জন। আইসোলেশনে দুই হাজার ৩২ জন।
পুলিশ হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, পুলিশের অধিকাংশ সদস্যের ইমিউনিটি অনেক ভালো। তাই তারা করোনায় আক্রান্ত হলেও সুস্থতার হারও বেশি।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই পুলিশ আক্রান্ত হতে থাকে। তবে পুলিশের সুস্থতা ও ইমিউনিটি বাড়ানোর কথা মাথায় রেখে সারাদেশেই বাহিনীর সদস্যদের মাঝে জিঙ্ক ট্যাবলেট ও সিরাপ বিতরণ করা হয়। পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, ফল, শাকসবজি, মাংস, ডিম ও মাছ খাওয়ানোর ওপর নজর দেওয়া হচ্ছে। টহল ডিউটিতে থাকার সময় সার্বক্ষণিক গরম পানি ও চায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসবের উদ্দেশ্য হলো, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।



আরও পড়ুন

×