তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো টালবাহানা নয়
রংপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে জামায়াত আমির
শফিকুর রহমান
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় ইস্যু। কাজেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো টালবাহানা চলবে না। এর বাস্তবায়ন করতে হবে। উন্নয়নবঞ্চিত রংপুরে এবারের বাজেট থেকে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।
গতকাল শনিবার বিকেলে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর করা, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ। তিস্তার বালুচরে কোদাল মেরে এ দেশের উন্নয়ন শুরু করব বলে কথা দিয়েছিলাম। তিস্তা নিয়ে এই সরকারের বাজেটে ১০ টাকাও বরাদ্দ নেই। তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাইপানাই চলবে না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে ১১ দলীয় ঐক্য সরকার গঠন করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যে জনগণ অস্থির। জনগণ চাঁদাবাজি করে না, এই দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাদের অবৈধ উৎস নেই। তারা ঘুষ-দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাদের এই দুঃখ ওই লোকেরা কেমন করে বুঝবে, যারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। সব দুর্নীতিবাজরা এক হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দুটি কথা বলেছিলেন, ‘ভোট দিবেন দুটো। একটি আমার দলকে, আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ।’ প্রথমটা রক্ষা করেছেন, দ্বিতীয়টা করেননি। আমাদের বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। আমরা জাতির সামনে বেইমানি করতে পারব না।
তিনি বলেন, সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সীমান্তে পুশইন করছে, সরকার মুখে কুলুপ দিয়ে আছে। প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য বিজিবি সৈনিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে একটা শব্দ আসেনি।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বাজেটে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। তারেক জিয়ার চীন সফরের অর্জন শূন্য। তিস্তা মহাপরিকল্পনা কিংবা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন– কোনো বিষয়েই আমরা প্রতিশ্রুতি পাইনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ইতিহাস প্রতারণার ইতিহাস। আইএমএফ বলে দিয়েছে, তারা এ সরকারকে কোনো ঋণ দেবে না।
শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, শুনলাম আগামী ডিসেম্বরে কেউ একজন আসতে পারে। তিনি ভারতের কোলে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা ফাঁসির দড়ি তৈরি রাখছি, ফাঁসির দড়ি তাঁকে পরতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
- বিষয় :
- তিস্তা