ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সমকাল-ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল অনলাইন গোলটেবিল

রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় রোডম্যাপ চাই

রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় রোডম্যাপ চাই
×

সোমবার 'রাজনৈতিক দলে নারীর ৩৩ শতাংশ অন্তর্ভুক্তিতে করণীয়' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা - অনলাইন থেকে

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৯ জুন ২০২০ | ০২:৩২

'রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব পূরণের সময়সীমা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের চরম দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। সুযোগ থাকার পরও দলগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি না করে পিছু হটতে চাইছে তারা। এই শর্তপূরণে সময় বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে রোডম্যাপ আদায় করা উচিত। কিন্তু কোনোভাবেই সময়সীমা তুলে দেওয়া যৌক্তিক নয়। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রয়োজনেই বাধ্যবাধকতা জরুরি।'
গতকাল সোমবার সমকাল ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'রাজনৈতিক দলে নারীর ৩৩ শতাংশ অন্তর্ভুক্তিতে করণীয়' শীর্ষক এক অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইউএসএআইডি ও ইউকেএইডের যৌথ অর্থায়নে এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের 'স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ' প্রকল্পের 'নারীর জয়ে সবার জয়' ক্যাম্পেইনের আওতায় এই অনলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রারম্ভিক বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, 'গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সর্বস্তরে ৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দল এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি- এই যুক্তিতে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সভায় এই সময়সীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আরপিও'র এই ধারা বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুর্বণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে নারীবিষয়ক যে নীতি-আইন, আন্তর্জাতিক সনদ রয়েছে, সেখানেও রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণের কথা বলা আছে। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য এই ধারাটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে।'
মুস্তাফিজ শফি বলেন, 'এই আইনের বলেই এবার আওয়ামী লীগে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২৪ শতাংশেরও বেশি নারী পদ পেয়েছেন। বিএনপিতে পেয়েছেন প্রায় ১৫ শতাংশের মতো। সামনের কাউন্সিলে হয়তো এই হার আরও বাড়বে। বাম দলগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী রয়েছেন।' তিনি বলেন, 'এ বছর ডিসেম্বরে এই আইন বাস্তবায়নের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে কোনো দলই পুরোপুরিভাবে এই আইন বাস্তবায়ন করতে পারেনি। নারীরা যখন মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে শুরু করেছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতে শুরু করেছে, তখনই ইসি এই শর্ত তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়েছে।'
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'শর্ত পূরণে দলগুলোর কাছে এখনও ৬ মাস সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। ইসির উচিত সময় পার হওয়ার পরে দলগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া। কেন তারা পারেনি বা এ নিয়ে তাদের পরিকল্পনা কী- ইসি সেটাও জানতে চাইতে পারে। এসব না করে তারা শর্ত তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করে নিজেদের দুর্বলতাই প্রকাশ করেছে।'
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, 'রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে মাত্রা নির্ধারণের তুলনায় মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন প্রয়োজন।' সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিতরা রাজনীতিতে টিকতে পারছেন না এমন মন্তব্য করে আমীর খসরু বলেন, এসব আসন এখন পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এজন্য রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য নূহ্‌-উল-আলম লেনিন আরপিওতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্তে এ ধারাটি সংযোজনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, '২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র ১৩ ভাগ। সর্বশেষ কমিটিতে এই হার ২৪ ভাগ। তাই এই শর্তটি বহাল রাখতে হবে।' তিনি বলেন, 'আইনে ৩৩ ভাগের কথা বলা হলেও এটি ৫০ ভাগ হওয়া উচিত। কারণ, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। ওই সময়ে এটি করার কারণ ছিল জেন্ডার সমতা সৃষ্টি করা। তা ছিল অন্তর্বর্তী লক্ষ্য।'
তিনি বলেন, 'গত ১০-১২ বছরে শিক্ষার হারের ক্ষেত্রে নারীর বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটেছে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে সামরিক বাহিনীর উচ্চ পদে, সচিব পদে যেখানে কোনো নারী ছিলই না, সেখানে অগ্রগতি এসেছে। ৩৩ ভাগ পূরণ না হওয়া রাজনৈতিক দলের দুর্বলতা। কিন্তু সমাজে আবহ তৈরির চেষ্টায় সার্ক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন এক নম্বরে।'
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'এই আইন প্রণয়ন খুব সহজসাধ্য ছিল না। বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে তখন ইসিকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। অনেক ইসলামী দল কমিশনারদের মুরতাদ ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছিল। তিনি বলেন, সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে, ভালো পরিবর্তনগুলো যাতে নষ্ট না হয়। এই শর্ত তুলে দিলে ইসি তার নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারবে।'
সাবেক নির্বাচন কমিশনার বলেন, '২০২০ সালের মধ্যে এই শর্ত দলগুলো বাস্তবায়ন করতে না পারলে সময়সীমা পাঁচ বছর বাড়ানো যেতে পারে। ইসির উচিত ছিল, প্রতি বছর দলগুলোকে চিঠি দিয়ে বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানতে চাওয়া। তা করা হয়নি।' রাজনৈতিক দল ও নারী নেতৃত্বকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'কোনোভাবেই ইসিকে এই কাজটি করতে দেওয়া যাবে না।'
নারী প্রগতি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির বলেন, 'নির্বাচন কমিশন কেন এবং কী কারণে এ ধারাটি বাতিল করতে চায়? ইসির এই উদ্যোগের খবর শুনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এবং কয়েকজন নারী এমপির সঙ্গে আলাপ করেছি। তারাও এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।'
রোকেয়া কবির বলেন, 'সংবিধানে সবার জন্য সমান সুযোগের কথা বলা হয়েছে। যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যান, তারা এটি বাস্তবায়ন করে এই সমতা বিধান করবেন। সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, এটা ৫০ ভাগ হওয়া উচিত। এটা হচ্ছে না, কারণ দেশে কোনো প্রতিষ্ঠানের আচার-আচরণেই গণতন্ত্র নেই। সেটা রাজনৈতিক দল হোক আর বেসরকারি সংস্থা হোক।' তিনি বলেন, 'আমাদের দেশে পুরুষতান্ত্রিক পরিবারে বড় হয়ে এক ধরনের মানসিকতা তৈরি হয়। যার প্রভাবে এসব ঘটে। এটা শুধু নারীর নয়, সবার বিষয়।'
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, 'আরপিও অনুযায়ী ৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার শর্ত ইসি তুলে দিতে চাইছে। এর কারণ তারা কোনো দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে না। তাই আগে থেকেই সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।' তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিকভাবে কমিটি হচ্ছে না। সরাসরি ভোটে কমিটি গঠন করা হলেও আরও বেশি নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি হতো। সিপিবির মতো প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরেও নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বড় দল হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রধান নারী হওয়ার পরও সেগুলোতে এই শর্ত পূরণ হয়নি। কারণ দলগুলো নারীবাদী বা মানববাদী হতে পারেনি।'
মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, করোনাকালে মানুষ যখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তখন ইসির এ ধরনের উদ্যোগে তারা ক্ষুব্ধ। দীর্ঘদিনের নারী আন্দোলনের ফলে এই আইন করা হয়েছিল। এই আইন পাসের ১১ বছর পরও ৩৩ ভাগের কাছাকাছিও যাওয়া যায়নি। এটা একটি যৌক্তিক আইন। কিন্তু ইসি এর বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সক্রিয় ছিল না। ইসি কোনোভাবেই এই সময়সীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারী নেতৃত্বকে নিয়ে আসার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, এই আইন থাকার কারণেই প্রথমবার বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নারী হয়েও তিনি আসতে পেরেছেন। এর আগে বিএনপির এই পদে কোনো নারী ছিল না। আইনটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'ইসি এই আইন বাতিলের চেষ্টা করছে, এটা খুবই দুঃখজনক।' তিনি প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, 'ইসির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও বেশি চাপ প্রয়োগ করা উচিত।'
কৃষক লীগের মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার এমপি বলেন, 'পুরুষ নেতার চেয়ে নারীর যোগ্যতা বেশি থাকার পরও সুযোগ দেওয়া হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নের মৌলিক কাজগুলো করে যাচ্ছেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাইরে প্রধানমন্ত্রী ভাবেন না।' তিনি বলেন, 'কোনো দল যেহেতু এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি, তাই সময় বাড়ানো হোক। রাজনৈতিক দলের মতামত ছাড়া ইসি কিছুই করতে পারে না। আবার জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাইরে রাজনৈতিক দল কিছুই করতে পারবে না।'
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহীনুর নার্গিস বলেন, 'এই শর্ত পূরণ না করলে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা ইসির রয়েছে। এত ক্ষমতা থাকার পরও তারা বাস্তবায়নে আগ্রহী না হয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আত্মসমর্পণ করল!' তিনি বলেন, '৩৩ ভাগ পূরণ হলে নারীরা নিজেরাই এটাকে ৬০ ভাগে নিয়ে যেতে পারবে। আরও কয়েক বছর এই আইনটি বহাল রাখা হোক।'
আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য শারমীন জাহান বলেন, 'নারীর ক্ষমতায়ন ক্রমবর্ধমান। এর কারণ এই আইন ভূমিকা রাখছে।' তিনি বলেন, 'আমাদের টাকা নেই, মামা, খালু নেই। আমাদের বাবা নামকরা কেউ নন। স্বামী নামকরা কেউ নন। ক্ষমতার অপব্যবহার করি না, অবৈধ পথে টাকা আয় করি না। নেতাদের টাকা দিতে পারি না। গত নির্বাচনগুলোতে সংরক্ষিত আসনে কীভাবে এমপি নির্বাচিত হয়েছি, তা কমবেশি সবার জানা। এই আইন বাতিল হলে আমাদের কী হবে!'
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ড্যানা অলডস বলেন, 'আরপিওতে ৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার আইনটি নারীর ক্ষমতায়নে বিশাল ভূমিকা রাখছিল। এই শর্ত বাদ দেওয়ার উদ্যোগ হতাশাজনক ও অপ্রত্যাশিত। এটা সমর্থন করা যায় না। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত এই শর্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এই শর্ত তুলে দিলে নারীর ক্ষমতায়নের পথ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।' তিনি বলেন, '৩৩ ভাগ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার অর্থ এই হতে পারে না যে এই শর্ত বাতিল করে দিতে হবে।'
ডেমেক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উপপরিচালক লিপিকা বিশ্বাস তার প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, 'কেন তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন, সে বিষয়ে ইসির অবস্থান জানা প্রয়োজন।' তিনি নারী নেত্রীদের প্রতি এ ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরে ইসিতে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা বলেন। ইসির সঙ্গে সংলাপে বসে রাজনৈতিক দলের নেতাদের এই আইন বহাল রাখার প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলেন।
আলোচনায় আরও অংশ নেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি চিফ অব পার্টি লেসলি রিচার্ড এবং ইউএসএআইডির পলিটিক্যাল প্রসেস অ্যাডভাইজর লুবাইন চৌধুরি মাসুম।

আরও পড়ুন

×