ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

করোনা উপসর্গ

চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ মৃত্যু আরও ২৫

চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ মৃত্যু আরও ২৫
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২০ | ১৫:৪২

করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে আরেক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ছাড়া গোপালগঞ্জে গতকাল শনিবার সকালে মারা যান এক স্বাস্থ্যকর্মী। এ দু'জনসহ গত ২৪ ঘণ্টায় জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে মারা গেছেন নারীসহ আরও অন্তত ২৫ জন। তাদের মধ্যে নোয়াখালীতে চারজন, বগুড়ায় চারজন, বরিশালে দু'জন, রাজশাহীতে দু'জন, চাঁদপুরে দু'জন, সিরাজগঞ্জে দু'জন এবং মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, লক্ষ্মীপুর, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কিশোরগঞ্জে একজন করে রয়েছে। এ পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে ৬৯৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সমকালের ব্যুরো ও সংশ্নিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- শুক্রবার রাতে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ডা. আরিফ হাসান। তার বাড়ি নগরের কোতোয়ালি থানার লাভলেইনে। পাহাড়তলী এলাকায় তার ব্যক্তিগত চেম্বার রয়েছে। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান ওই চিকিৎসকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে সীতাকুণ্ডে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক ব্যক্তি (৬৫) মারা গেছেন। শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান। মৃতের নমুনা সংগ্রহের আগেই পরিবারের লোকজন লাশ দাফন করে ফেলে। তবে তার বাড়ি লকডাউন করেছে প্রশাসন।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় বানিয়ারচর গ্রামের স্বাস্থ্যকর্মী রিপন বৈদ্য ওরফে নিপু (৪২) করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। গতকাল সকালে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিপু বাক্যাথলিক মিশনের চিকিৎসাকেন্দ্রের ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসাবে কর্মরত ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীসহ দু'জন শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা গেছেন। শুক্রবার মধ্যরাতে তাদের মৃত্যু হয়। ৫০ বছর বয়সী নারী জেলা শহরের সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা। মারা যাওয়া অপর ব্যক্তির (৬৫) বাড়ি সদর উপজেলায়। এ ছাড়া একই রাতে জেলার সদর উপজেলার একটি গ্রামে এবং বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরে জ্বর, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি (৫৩) কবিরহাট উপজেলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। মারা যাওয়া বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরের বাসিন্দা লোকের বয়স ৪০ বছর। স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন রাতেই গিয়ে বাড়ি থেকে তাদের নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

বগুড়া জেলার করোনা আইসোলেশন কেন্দ্র মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে শহরের ফুলবাড়ি এলাকার বৃদ্ধ (৭০) ও রাত ৯টায় শিবগগঞ্জ উপজেলার এক ব্যক্তি (৪৫), রাত ১০টায় শহরের কলোনি এলাকার আরেকজন (৫৬) এবং গতকাল সকালে পাবনার এক যুবক (৩৬) মারা যান। শহরের কলোনি এলাকার ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। সবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শুধু মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ১৬ জন মারা গেছেন বলেও জানান ডা. শফিক আমিন কাজল।

বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে দুমকী উপজেলার আন্দরিয়া গ্রামের এক ব্যক্তি (৫০) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তির কিছুক্ষণ পরই মারা যান। এ ছাড়া একই দিন সন্ধ্যায় করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন নগরীর কাউনিয়ার এক বৃদ্ধের (৬৫) মৃত্যু হয়। দু'জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোরে মারা যান নওগাঁ সদর উপজেলার সুপারিপট্টি এলাকার এক ব্যক্তি। শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা যান এক যুবক (২০)। তার বাড়ি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের ইসমাইলপুর গ্রামে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এক পাটকল শ্রমিক (৬২) ও এক দোকানির (৫৩) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে নিজেদের বাড়িতে মারা যান তারা। তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দু'জনই চট্টগ্রাম থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর শহরের কাওয়াক মহল্লার এক ব্যক্তি (৫০) করোনা উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে গতকাল সকালে নিজ বাড়িতে মারা গেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, মৃত্যুর পর ওই ব্যক্তি ও তার পরিবারের সবার নমুনা নেওয়া হয়েছে। এদিকে জ্বর ও তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে নিজ বাড়িতে মারা গেছেন তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের এক কৃষক (৭৫)।

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক তরুণ (২১) মারা গেছেন। প্রথমে তিনি কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানকার চিকিৎসক তাকে শুক্রবার রাতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। ভর্তি হওয়ার পর জরুরি বিভাগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান হাসপাতালের আরএমও ফয়ছল জামান। মৃত তরুণের বাড়ি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চিৎলিয়া গ্রামে।

পঞ্চগড়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ২২ বছর বয়সী ওই যুবকের বাড়ি জেলা শহরের রাজনগর এলাকায়। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আফরোজা বেগম রিনা বলেন, ওই যুবকের প্রবল শ্বাসকষ্ট, সর্দি, জ্বর ও কাশি ছিল, সঙ্গে পাতলা পায়খানা। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয়নি। গতকাল সকালে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা এক নারী (৫০) গতকাল নিজ বাড়িতে শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা গেছেন। সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল গফ্‌ফার জানান, বাড়িতে গিয়ে মৃতের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের গাড়াবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে করোনার উপসর্গ নিয়ে গতকাল দুপুরে এক নারী (৬০) মারা গেছেন। কয়েকদিন আগে তিনি ঢাকায় মেয়ের বাসা থেকে নিজ বাড়িতে আসেন। মৃতের ছেলের দাবি, তার মার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ওই নারীর নমুনা নেওয়া হয়েছে।

নওগাঁর বদলগাছীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক যুবকের (২৩) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত ৯ জুন উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ওই যুবক নমুনা দিয়ে আসেন। রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। তার বাড়ি উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের ইসমাইলপুর গ্রামে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের কুল্লাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে শুক্রবার রাত ১২টায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যান এক ব্যক্তি (৫০)। তিনদিন আগে ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন তিনি। আগে থেকেই তার অ্যাজমার সমস্যা ছিল।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী (৬৮) শুক্রবার বিকেলে নিজ বাড়িতে মারা যান। করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকায় গতকাল তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×