ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

লকডাউনের এলাকা চিহ্নিত হয়নি ছয় দিনেও

লকডাউনের এলাকা চিহ্নিত হয়নি ছয় দিনেও
×

প্রতীকী ছবি

অমিতোষ পাল ও বকুল আহমেদ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২০ | ১৫:৪২

করোনাভাইরাসের কারণে রেড জোন হিসেবে ঘোষিত এলাকায় জোনভিত্তিক লকডাউন বাস্তবায়ন করার জন্য গত রোববার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল কাউন্সিলরদের। বলা হয়েছিল, রেড জোন ঘোষিত এলাকাকে জোনভিত্তিক লকডাউন করতে হবে। এ জন্য তারা যেন স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি, হাউজিং সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেন। যাতে সরকারের সিদ্ধান্ত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রেড জোনগুলোতে লকডাউন শুরু করা যায়। অনেকেই সে সমন্বয় কমিটি গঠন করেনি। গত শনিবার রাজধানীর ৪৫টি এলাকাকে রেড জোন ঘোষণার পরও গতকাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকার দুই সিটির কোনো এলাকাকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দিতে পারেনি যে ওই এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়ন করতে হবে। ফলে রাজধানীর রেড জোনগুলোতে কার্যত লকডাউন কার্যক্রম ঝুলে গেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের (বসুন্ধরা এলাকা) কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ঢালী সমকালকে বলেন, 'গত বুধবার কমিটি গঠনের জন্য একটি মিটিং ডেকেছিলাম। সেই মিটিংয়েই একটা ঝামেলা হয়ে গেল। পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ম্যাপ বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আর কোনো মিটিংই করব না। করপোরেশন লকডাউন করার সিদ্ধান্ত দিলে মিটিং ডেকে তখন কমিটি করব।'

জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় নজরুল ইসলাম ঢালী মিটিং আহ্বান করার পর মিটিংয়ে কাউন্সিলরের উদ্যোগেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় লকডাউন করার সিদ্ধান্ত হয়। এলাকায় মাইকিংও করা হয়। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে এ সংবাদ প্রচারও হতে থাকে। পরে ডিএনসিসিতে খোঁজ নিলে জানা যায়, পূর্ব রাজাবাজার ছাড়া রাজধানীর আর কোথাও লকডাউন বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএনসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিএনসিসির আওতাধীন কোনো এলাকার কোন কোন অংশ রেড জোনের আওতায় তার বিস্তারিত ম্যাপিং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানোর পরই লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন এলাকা লকডাউন করা হবে, তা গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। এ এলাকার কোন কোন অংশ লকডাউন করা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। গত বুধবার ডিএনসিসির ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ঢালী বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করলে তা বাস্তবায়ন করার জন্য যেসব পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, তার জন্য তিনি সভা করেছিলেন। ওই সময় অতি উৎসাহী কেউ কেউ মাইকে লকডাউনের ঘোষণা দেন। নজরুল ইসলাম ঢালী জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝি। এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম ঢালী বলেন, 'মিটিং নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছিল। মাইকিংও হয়েছিল। তবে আপাতত আর লকডাউন হচ্ছে না। যখন ঘোষণা আসবে, তখন এক দেড়শ' পোলাপান থাকলেই লকডাউন বাস্তবায়ন করা যাবে।'

এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্তরা বলছেন, যেভাবে জোনভিত্তিক লকডাউনের আওয়াজ উঠেছিল, সেটা ঝুলে গেছে। কারণ কাউন্সিলরদেরও অনেকে লকডাউনের জন্য যেসব প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, তারা সেটা নেননি বা নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেননি। তারা কেবল চিন্তা করছেন, তার ওয়ার্ডে লকডাউন দিলে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দিতে হবে। তা না হলে ওই লকডাউন নিয়ে কাউন্সিলরদের আগ্রহ নেই। এ জন্যই অনেক ওয়ার্ডে লকডাউন বাস্তবায়নের কমিটিও গঠন করেননি কাউন্সিলররা।

অবশ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের (ওয়ারী এলাকা) কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী সমকালকে বলেন, 'রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে আমার এলাকা। যদি লকডাউনের ঘোষণা আসে সেজন্য আমি আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিম্নবিত্ত মানুষের তালিকা শুরু করেছি, যাতে লকডাউনের সময় ত্রাণ দিতে বেগ পেতে না হয়। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবীদেরও প্রস্তুত করছি।'

ডিএনসিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, পূর্ব রাজাবাজারের পর জোনভিত্তিক লকডাউন বাস্তবায়ন নিয়ে ডিএনসিসির কর্মকর্তা, কাউন্সিলর ও এলাকাবাসীর যে রকম মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হয়েছিল, হেলাফেলা করে রেড জোন ঘোষণার কারণে সেটা আর নেই। মনে হচ্ছে, রাজধানীতে জোনভিত্তিক লকডাউনের কার্যক্রম অনেকটাই ঝুলে গেছে। কারণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রেড জোনকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে গিয়েও নাকানিচুবানি খাচ্ছে। এখন হলেও পুরো ৪৫টি এলাকাকে একসঙ্গে লকডাউন করা সম্ভব হবে না। হয়তো ধাপে ধাপে দু-একটি এলাকায় লকডাউন শুরু হতে পারে। কার্যত রেড জোনগুলোতে জোনভিত্তিক লকডাউনের প্রস্তুতির কাজ স্থবির হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

×