ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীর সভায় বিশিষ্টজন

ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বর্তমান প্রজন্মকে আরও সোচ্চার হতে হবে

ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বর্তমান প্রজন্মকে আরও সোচ্চার হতে হবে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২০ | ১১:৫২

ধর্মীয় মৌলবাদ, জনগোষ্ঠীর একাংশকে, ধর্মাচারের ভিত্তিতে অন্য অংশের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ও আক্রমণাত্মক ঐক্যে সংঘবদ্ধ করে, জনগণকে বিভক্ত করে, পরস্পরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। এই অশুভ মতবাদের বিরুদ্ধে যুগে যুগে মুক্তবুদ্ধির শিল্পী, সাহিত্যস্রষ্টারা প্রতিবাদ করেছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বহু লেখায় এ সমস্যাটি তুলে ধরেছেন। তবে সমকালীন শিল্পে, সঙ্গীতে এই ঘৃণ্য মতবাদটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তেমনটি উচ্চারিত হয়নি। এ ব্যাপারে বর্তমান প্রজন্মকে আরও সোচ্চার হতে হবে।

শুক্রবার শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক অনলাইন সম্মেলনে বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এই সম্মেলনের আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় এবার সম্মেলনে জাহানারা ইমাম স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন ভারতের বিশিষ্ট মরমী, বাউল ও লোকসঙ্গীত গবেষক অধ্যাপক শক্তিনাথ ঝা। বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘বাংলার লোকসঙ্গীতে ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার ঐতিহ্য’। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন লালন সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন। স্কাইপের মাধ্যমে আয়োজিত সম্মেলনে দেশে ও বহির্বিশ্বে নির্মূল কমিটির ৬৫টি শাখা ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

স্মারক বক্তৃতায় অধ্যাপক শক্তিনাথ ঝা বলেন, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা আমাদের সমাজে এক ভয়াবহ অশুভ শক্তি। অনেকে দ্বি-জাতিতত্ত্বকে স্বীকার করে নিয়েছেন অজ্ঞাতে; অনেকের জাতীয় আবেগে এ সমস্যাটির গুরুত্ব ধরা পড়েনি। বিশেষত মধ্যবিত্ত শিল্পী-স্রষ্টাদের মধ্যে নজরুলের কয়েকটি গান ও লেখা ছাড়া এর বিরুদ্ধে প্রবল সাংস্কৃতিক সংগ্রমের তথ্য আমরা পাইনি। অথচ মধ্যযুগ থেকে লোকায়ত শিল্পী গায়কদের অজস্র সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী গান লেখা হয়েছে এবং হচ্ছে। মানবধর্মের জাতীয় ঐতিহ্যের পতাকাটি তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী বহন করে চলেছেন। মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার প্রতিরোধ, প্রতিবাদ তারা করছেন গানে। নিম্নবর্গের লোকসমাজ সাম্প্রদায়িকতায় সর্বাপেক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং এর বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ স্বাভাবিক। আর জাতীয় এই বিবেককে এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের মূল্যবোধকে আবহমান কাল ধরে বহন করে চলেছেন আমাদের গ্রামীণ নিম্নবর্গের মানুষ। তারা মানুষ এবং বাঙালিজ্জ ধর্মে কেউ হিন্দু বা মুসলমান অথবা দুয়েরই বাইরে। অত্যন্ত মূল্যবান তাদের সংস্কৃতি।’ 

বিশেষ অতিথি লালনসঙ্গীত সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন লালনের মানবতাবাদী গান গেয়ে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের বিমোহিত করেন।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, চট্টগ্রামের সাংবাদিক শওকত বাঙালি, রাজশাহীর প্রভাষক কামরুজ্জামান, খুলনার ডা. শেখ বাহারুল আলম, লক্ষীপুরের সমাজকর্মী নাহিদ ফরিদা মুনমুন,ঠাকুর গাওয়ের সুচরিতা দেবনাথ, সংগঠনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার স্বীকৃতি বড়ুয়া,অল ইউরোপীয়ান শাখার তরুণ কান্তি চৌধুরী, নরওয়ের খোরশেদ আহমেদ, তুরস্ক শাখার শাকিল রেজা ইফতি প্রমুখ।

এর আগে সকাল আটটায় শহীদজননীর ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে মিরপুরে জাহানারা ইমামের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন নির্মূল কমিটির মহানগরের নেতৃবৃন্দ।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অনলাইন স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান : এদিকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় প্রেরণাদাত্রী দুই মহিয়সী নারী জননী সাহসিকা সুফিয়া কামাল ও শহীদ জননী জাহানারা ইমাম স্মরণে প্রতিবারের মতো এবারও শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও  ‘রেডিও স্বাধীন’ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় অনলাইন লাইভ অনুষ্ঠানে দুই মহিয়াসী নারীর কর্মময় জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি আসাদুজ্জামান নূর এমপি, ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব সারা যাকের। 

এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, পাশ্ববর্তী দেশ ভারতসহ  পুরো বিশ্বেই গুনি ও মহিয়সী ব্যাক্তিদের নিয়ে নির্মিত বায়োপিক অত্যান্ত জনপ্রিয়। কিন্তু আমাদের দেশে চলচিত্র জগতে একটা সংকট চলছে, তারা এ ধরনের বায়োপিক নির্মাণে সাহসী হচ্ছে না । তবে আনন্দের বিষয় হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবনীনির্ভর বয়োপিক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। যদিও করোনার কারণে বর্তমানে এ কাজ কিছুটা থমকে আছে, তবে এই বায়োপিক নির্মাণ শেষ হলে আশা করছি  এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে তরুণ প্রজন্ম আরও ভালোভাবে জানতে পারবে।

অনুষ্ঠানে সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমামের রচনা থেকে পাঠ ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন অভিনয় শিল্পী নিমা রহমান, আবৃত্তিশিল্পী নায়লা তরান্নুম চৌধুরী কাকলী এবং সঙ্গীত পরিবেশন করেন সঙ্গীতশিল্পী শারমিন সাথী ইসলাম ময়না। 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ব্যবস্থাপক ও আবৃত্তিশিল্পী রফিকুল ইসলাম। 

আরও পড়ুন

×