বুলিংয়ের শিকার সেই শিক্ষার্থী, সুরক্ষা চাইলেন বাবা-মা
সিআরইউতে সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী ইশফাকুর রহমান গালীব। ছবি-সমকাল
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | ১৭:৫৭ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৫ | ২০:০৯
শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা থেকে সুরক্ষা চেয়ে মামলা করা সেই শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুলিংয়ে শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে মেয়েকে যেন বুলিং করা না হয় এবং সুস্থ জীবনযাপনে ফিরতে পারে, সেজন্য সুরক্ষা প্রদানের আবেদন জানিয়েছেন তার বাবা-মা।
আজ মঙ্গলবার ওই শিক্ষার্থীর আইনজীবী ইশফাকুর রহমান গালীব ঢাকার কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (সিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান।
আইনজীবী বলেন, চিঠি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর মা আমাকে জানিয়েছেন, মামলার সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মেয়ে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। বুলিংয়ের কারণে তার মেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য তাকে যেন সাইবার বুলিং করা না হয়। মেয়েকে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে তারা ফিরে পেতে চান। প্রয়োজনে মেয়েসহ তারা বাবা-মা তিনজন মিলে একসঙ্গে কাউন্সিলিং করতে চান।
এই আইনজীবী আরও জানান, বাবা-মায়ের সঙ্গে একই বাসায় পাশাপাশি রুমে থাকেন ওই শিক্ষার্থী। একই টেবিলে খাওয়া দাওয়া করেন। একই গাড়িতে চলেন। তবে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেয়ের ৫-৬ বছর কথা হয় না। মোবাইল ফোনে মেসেজে কথা হয়। তাদের মধ্যে দূরত্ব মানসিক, যা নিরসন চান দুপক্ষই।
আইনজীবী ইশফাকুর বলেন, 'শিক্ষার্থীর বাবা-মা চাকরিজীবী। এজন্য বাবা-মায়ের সঙ্গে তার একটি গ্যাপ তৈরি হয়েছে। আদালতের বাইরে এর সমাধান হয়নি। আদালত যে আদেশ দিবেন বাবা-মা তা মেনে নেবেন।'
আইনজীবীকে দেওয়া চিঠিতে ওই শিক্ষার্থীর বাবা-মা জানান, তাদের একমাত্র মেয়ে দীর্ঘদিন থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বিভিন্ন কারণে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে গত ২২ জুন বাবা ও মার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে নিজের সুরক্ষা চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন ওই শিক্ষার্থী। এরপর ১০ জুলাই বাবা-মা ও মেয়ের উপস্থিততে আদালতে শুনানি হয়। শুনানিতে ওই শিক্ষার্থী বলেন, 'আমি বাবা-মায়ের পাপেট (পুতুল) নই। আমাকে কেন গালি দেবে। আমাকে কেন তারা শারীরিক-মানসিকভাবে হেনস্তা করে। আমি আমার সুরক্ষা চাই।'
- বিষয় :
- আইনজীবী
- সংবাদ সম্মেলন
- শিক্ষার্থী
- মামলা
- বাবা
