ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শেখ হাসিনা সরকারের নজরদারি যন্ত্র ক্রয় ও ব্যবহার খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি

জানালেন প্রেস সচিব

শেখ হাসিনা সরকারের নজরদারি যন্ত্র ক্রয় ও ব্যবহার খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি
×

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি: পিআইডি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ | ২০:৫৬

শেখ হাসিনার আমলে গোয়েন্দা নজরদারির জন্য কেনা যন্ত্র ও সরঞ্জাম এবং এগুলোর ব্যবহার নিয়ে জানতে তদন্তে কমিটি গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই কমিটি খতিয়ে দেখবে যন্ত্রপাতি কীভাবে, এসব যন্ত্র কোথা থেকে, কত দাম দিয়ে কেনা হয়েছে এবং কীভাবে এর ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি-বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। দু-তিনজন কর্মকর্তাও এই কমিটিতে রয়েছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পুলিশের মারণাস্ত্র কেনা নিয়েও আরেকটি কমিটি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক এবং প্রধান উপদেষ্টার মালয়েশিয়া সফর বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, গত সরকারের অপশাসন ও পৈশাচিকতা পেরিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজে মনোযোগী বর্তমান সরকার।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, এই সরকার বেআইনি কোনও কাজ করছে না— এটুকু আমি বলতে পারি। আগের সরকার কীভাবে আড়িপাতা পদ্ধতি ব্যবহার করেছে বেআইনিভাবে, কেনাকাটা থেকে শুরু করে কীভাবে ব্যবহার হয়েছে, আপনার-আমার নাগরিক অধিকার কীভাবে খর্ব করা হয়েছে– এই পুরো বিষয়টি কমিটি দেখবে।

প্রধান উপদেষ্টার মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টার মালয়েশিয়া সফরে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছেছে। বৈঠকে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্থানীয় শ্রমিকদের সমান সামাজিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে সম্মতির কথা জানান তিনি।

৩৭ সংস্কার বাস্তবায়ন
রাষ্ট্র সংস্কারে সংস্কার কমিশনগুলোর দেওয়া আরও ২৪৬টি সুপারিশকে বাস্তবায়নের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৩৬৭টি সুপারিশের মধ্যে মোট ৩৭টি সুপারিশ এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৪টি সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আজকের বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ১০টি সংস্কার কমিশনের আরও ২৪৬টি আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ উত্থাপন করে। এর আগে ৩৭টি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। 
নতুন করে হাতে নেওয়ার সুপারিশগুলোর মধ্যে ৮২টি শ্রম বিষয়ক।এছাড়া রয়েছে নারী কমিশনের ৭১টি, স্থানীয় সরকার বিষয়ক ৩৭টি, স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিশনের ৩৩টি এবং গণমাধ্যম বিষয়ক সংস্কার কমিশনের ২৩টি। ৩১৬টি সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার মোট ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। সংবিধান সংস্কার কমিশন ছাড়া অন্য কমিশনগুলো হল জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন, সংবিধান সংস্কার কমিশন, স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন, শ্রম সংস্কার কমিশন, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন এবং গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন।

শ্রমিকনেতাদের নামে ৯০ শতাংশ মামলা প্রত্যাহার
শফিকুল আলম জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জানানো হয়— শেখ হাসিনার আমলে প্রচুর শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে অনেক হয়রানিমূলক মামলা করা হয়, তাদের অধিকার খর্ব করার জন্য। বাংলাদেশের লেবার অ্যাক্টিভিজমকে আসলে দমন করতে চাওয়া হয়েছিল। সেক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, ৯০ শতাংশ মামলা যেগুলো শ্রমিকনেতাদের বিরুদ্ধে করা হয়েছিল, সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×