ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মহিলা পরিষদের সভা

সহিংসতা রোধে কার্যকর আইনগত সহায়তা নিশ্চিতের আহ্বান

সহিংসতা রোধে কার্যকর আইনগত সহায়তা নিশ্চিতের আহ্বান
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫ | ০১:০৯

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ও সমন্বিত আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতারা। তাদের মতে, সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এখনও বহাল থাকলেও ভুক্তভোগী নারীরা সংগঠিত হলে পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হবে।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কবি সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে করার লক্ষ্যে’ সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

সভায় বক্তারা বলেন, সহিংসতার শিকার নারীরা প্রায়ই ভয়ভীতির কারণে নীরব থাকেন। অথচ অধিকার আদায়ের জন্য সাহসী হয়ে সংগঠিত হতে হবে। আইনি সহায়তা কার্যক্রমে সেবাগ্রহীতাদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিলে প্রক্রিয়াটি আরও কার্যকর হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘নারী নীরব থাকলে কখনোই তার সমস্যার সমাধান হবে না। অধিকার চাইতে হলে নারীর সাহসী হতে হবে এবং সংগঠিত হয়ে চাপ সৃষ্টি করতে হবে।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘আইনি সহায়তা কার্যক্রম একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। ভুক্তভোগী নারীর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়াতেই এর কার্যকারিতা বাড়ছে।’

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় অনেক নারী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাই সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন।’

লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, ‘সেবাগ্রহীতারা মহিলা পরিষদেরই অংশ। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক যত মজবুত হবে, সেবার প্রক্রিয়াও তত কার্যকর হবে।’
প্রোগ্রাম অফিসার (কাউন্সেলিং) সাবিকুন নাহার লিখিত বক্তব্যে সহিংসতার ধরন, ভুক্তভোগীদের জন্য প্রদত্ত বিভিন্ন সেবা–যেমন আইনি পরামর্শ, আবেদন গ্রহণ, সালিশি কার্যক্রম, মামলা পরিচালনা ও মানসিক সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। 

আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পাড়ায় পাড়ায় সংগঠিত আইনি সহায়তাকারী দল গঠন করতে হবে। মহিলা পরিষদের সহায়তায় অনেক ভুক্তভোগী নারী আজ স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করছেন।

মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, ধর্ষণের শিকার নারীকে এখনও দোষারোপ করা হয়, আপসের জন্য চাপ এবং দুর্বল তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়। এসব বন্ধ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা, প্যানেল আইনজীবী, সেবাগ্রহণকারী নারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাডভোকেট দীপ্তি শিকদার।

আরও পড়ুন

×