ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গবেষণা

ভিটামিন সির উৎপাদন কেন বন্ধ করল মানবদেহ

ভিটামিন সির উৎপাদন কেন  বন্ধ করল মানবদেহ
×

ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ কিছু খাবার সংগৃহীত

 তুহিন তৌহিদ

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫ | ০১:১৯ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৫ | ১৩:২৩

সুস্থতার জন্য যে শরীরে বিভিন্ন ভিটামিনের যথাযথ সরবরাহ প্রয়োজন, সেটা সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন। কারণ, এগুলোর ঘাটতিতে নানা রোগ হতে পারে। এসব ভিটামিনের মধ্যে ‘সি’ অন্যতম, যার অভাব ‘স্কার্ভি’ নামের রোগের কারণ। কিন্তু এ ভিটামিন মানবদেহ ধরে রাখতে পারে না। মানে হলো– আপনি এটা নিয়মিত গ্রহণ করবেন। শরীর তা থেকে প্রয়োজনীয়টুকু ব্যবহার করে বাকিটুকু বর্জন করবে। অথচ এক সময় আমাদের দেহেই উৎপাদন হতো ভিটামিন সি। এখন হয় না। কেন উৎপাদন হয় না, সে সম্পর্কে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে মজার তথ্য। 

পাঠ্যবইয়ের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, আমাদের প্রতিদিনের খাবারে যেসব ভিটামিন পর্যাপ্ত বিদ্যমান থাকে, শরীর সেগুলো আলাদাভাবে উৎপাদনের প্রয়োজন মনে করে না। তবে গবেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। বিভিন্ন প্রাণীর ওপর চালানো এক গবেষণা থেকে তারা জেনেছেন, কিছু সংখ্যক পরজীবীর সঙ্গে লড়াই করতে এককালে মানবদেহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ ভিটামিনের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। তারা দেখেছেন, অধিকাংশ প্রাণী ‘গুলো’ নামের এক ধরনের এনজাইম (কোষে উৎপন্ন জৈব রাসায়নিক পদার্থবিশেষ) ব্যবহার করে শরীরে ভিটামিন সি উৎপাদন করে। প্রায় ছয় থেকে সাত কোটি বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষদের শরীর এ ‘গুলো’ উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।

জীববিজ্ঞানের সাধারণ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রাণীদেহ যদি খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি নিয়মিত পায়, তাহলে শরীরে অভ্যন্তরীণভাবে এর উৎপাদন সক্ষমতা আর থাকে না। এমনটা ঘটলে বা ‘গুলো’ অ্যানজাইমের উৎপাদন বন্ধ হলে প্রাণীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা বা বংশবৃদ্ধির হার কমে যায় না। এটা প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটে, যা ক্ষতি বা উপকার– কিছুই করে না। কিন্তু ২০১৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের মিখালিস আগাথোক্লিউস প্রচলিত এ ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর  গবেষণা দল আবিষ্কার করে, সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন সির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে রক্ত গঠনের কোষের কার্যক্রম পরিচালনায়ও এর ভূমিকা রয়েছে। এটি নতুন রক্তকোষ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। প্রশ্ন হলো– ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেয়েও কিছু প্রাণী শরীরে ‘গুলো’ অ্যানজাইম উৎপাদন করে।

পশু-পাখির রক্তে অ্যানজাইমের কারণে ভিটামিন সির মাত্রা সব সময় একই থাকে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের তারতম্যের কারণে কম-বেশি হয়। গবেষকরা দেখেছেন, কিছু প্রাণী ও অণুজীব এ ভিটামিন পেলে বেশি বংশবৃদ্ধি করছে। এর মাধ্যমেই তারা নতুন একটি বিষয় জানতে পারেন, যা অতীতের প্রতিষ্ঠিত সব ধারণা থেকে একেবারেই আলাদা। তারা জানতে পারেন, কিছু পরজীবী ভিটামিন সি পেলে বেশি বংশ বৃদ্ধি করে। এগুলো ত্বক ভেদ করে প্রাণীদেহে প্রবেশ করতে ও বড় হতে সক্ষম। এ ধরনের পরজীবী ঠেকাতে মানবদেহ এক সময় এ ভিটামিনের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। 

ভার্জিনিয়া টেকের গবেষক দেবোরাহ গুড বলেন, ‘গুলো’ অ্যানজাইমের বর্জনের মাধ্যমে ভিটামিন সির উৎপাদন বন্ধ হয়েছে, এটা অনেক বিজ্ঞানীই মনে করেন। তবে পরজীবী থেকে সুরক্ষা পেতে মানবদেহ হয়তো এ কাজ করেছে। সূত্র: আর্থ ডটকম।

আরও পড়ুন

×