ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

নির্বাচন না হলে ভারত অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিতে পারে: মাহমুদুর রহমান

নির্বাচন না হলে ভারত অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিতে পারে: মাহমুদুর রহমান
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৭:২২ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৭:৪১

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন না হলে ভারত বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ (সিএপিএস) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনটা হওয়া দরকার। নির্বাচন না হলে ভারত বাংলাদেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে। আর নির্বাচনের আগে অবশ্যই জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হতে হবে। নির্বাচনের আগে ভারত থেকে যে হুমকি আসবে, সেটা মোকাবিলা করতে আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জায়গায় কাজ বাড়াতে হবে এবং জরুরি নানাবিধ কূটনৈতিক কৌশল নিতে হবে।

মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, আপনারা অনেকেই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে থাকেন। সমালোচনার অনেক যুক্তিও রয়েছে। কিন্তু এভাবে কোনো সরকারপ্রধান কখনও ভারতের বিপক্ষে প্রকাশ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াননি, তার এই প্রশংসাটা আমি করব। তিনি মোদির সামনে বলেছেন যে, আপনি কবে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেবেন। প্রধান উপদেষ্টার অন্যান্য ব্যর্থতা থাকতে পারে। কিন্তু ভারত প্রশ্নে তিনি গত ১৩-১৪ মাসে অনমনীয় দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।

আমার দেশ সম্পাদক বলেন, জুলাই বিপ্লব এখনও পুরোপুরি সফল হয়নি। যার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল, সেই শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অনবরত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। ভারত তাকে সমর্থন করছে, তার মানে হলো ভারত এখনও আমাদের স্বাধীনতা মানতে পারেনি। দুঃখের বিষয় হলো, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখনও ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেনি। জামায়াত কিংবা বিএনপি কেউই ভারতের বিরুদ্ধে শক্তপোক্ত অবস্থান নিতে পারেনি। এনসিপির কিছু কিছু তরুণ নেতা অবস্থান নিয়েছেন, ফলে আমি তরুণদের প্রতি আস্থা রাখছি।

মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবের দুটো প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল। একটি ছিল অভ্যন্তরীণ প্রতিপক্ষ যা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন। আর বাইরের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। কারণ শেখ হাসিনা ১৫ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল, তা সম্ভব হয়েছিল ভারতের সমর্থনের কারণে। জুলাই বিপ্লবের সময় তরুণরা অসামান্য সাহস দেখিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকার এবং ভারতের বিপক্ষে বিপ্লব করেছিল, আর এরাই এখন দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করবে।

সাবেক সচিব ও সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের (সিএসপিএস) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের (সিজেডএম) হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্নেল (অব.) মো. জাকারিয়া হোসেন। মূল প্রবন্ধে তিনি আট দফা সুপারিশ পেশ করেন। সুপারিশগুলো হলো- জাপান, আসিয়ান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে অংশীদারদের বৈচিত্রময় করা, নিরপেক্ষ কূটনীতির মাধ্যমে সার্ক/বিমসটেক পুনরুজ্জীবনে জোর দেওয়া, স্বনির্ভর বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নতকরণ এবং জাতিসংঘ ও আসিয়ানের মতো নিরপেক্ষ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কে উন্নয়ন, ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিরক্ষা এবং সচেতনতায় বিনিয়োগ করা, আঞ্চলিক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে তুরস্ক, পাকিস্তান, ইইউ ও জাপানের মতো শক্তির সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে এ খাতে বৈচিত্র আনা এবং রাজনীতি ও গণমাধ্যমে বিদেশি প্রভাব সনাক্তে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রণয়ন।  

সিএসপিএসের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিএসপিএসের ভাইস চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) আশরাফ আল দীন ও দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীরপ্রতীক, সাবেক সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেজর (অব.) জামাল হায়দার প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×