ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বিশ্ব শিশু দিবস আজ 

স্কুল নয়, হাজারো শিশুর শৈশব কাটে শ্রমিক হয়ে 

স্কুল নয়, হাজারো শিশুর শৈশব কাটে শ্রমিক হয়ে 
×

ছবি-এআই দিয়ে তৈরি

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৫:৪৮

চৌদ্দ বছরের মো. সোহেল গাজীপুর শহরের একটি হোটেলে কাজ করে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চা পরিবেশন, থালাবাসন ধোয়া, ঝাড়ু দেওয়া– এগুলো তার প্রতিদিনের রুটিন। ক্লান্ত মুখে সে বলে, ‘খাওয়া পাই, থাকবার জায়গা পাই, তাতেই তো ভাগ্য। স্কুলে যাইনি, এখন তো সময় নাই।’

তবে তার স্বপ্ন আছে, একদিন নিজের একটা হোটেল হবে। কিন্তু এই স্বপ্নের আড়ালে লুকিয়ে আছে শৈশব হারানোর কষ্ট।

আজ সোমবার বিশ্ব শিশু দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিশুর কথা বলব আজ, শিশুর জন্য করব কাজ।’ কিন্তু সোহেল কিংবা তার মতো হাজারো শিশুর জীবনের বাস্তবতা এ প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলে না। 

এই শিশুদের যখন থাকার কথা ক্লাসরুমে, এখন তারা আছে হোটেলের রান্নাঘর, গাড়ির গ্যারেজ কিংবা কারখানার উত্তপ্ত পরিবেশে। দারিদ্র্য, পারিবারিক ভাঙন এবং নগর জীবনের কঠোর বাস্তবতা তাদের শৈশব কেড়ে নিয়েছে।

এদিকে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে গতকাল রোববার দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শিশুদের হাসিখুশি মুখই নতুন বাংলাদেশের আশার প্রতীক। তাদের স্বপ্ন ও সৃজনশীলতা দিয়ে গড়ে উঠবে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমাদের অঙ্গীকার হোক প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করা।

২০২৪ সালে মার্চে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৭ জন। তাদের মধ্যে ১০ লাখ ৭০ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে। বয়স অনুসারে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১২ লাখ এবং ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী ২৩ লাখ। সেবা খাতে (হোটেল, দোকান, বাসাবাড়ি) ৪২ শতাংশ, উৎপাদন ও কারখানায় ৩১ শতাংশ, কৃষি ও ইটভাটা ১৯ শতাংশ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজ (রাস্তা, বর্জ্য সংগ্রহ, নির্মাণ) ৮ শতাংশ শিশু কাজ করে। দেশে এখনও ‘শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০২১’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।

বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ছয় লাখ শিশু শ্রমে নিয়োজিত। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক ইউনিসেফের তথ্য হচ্ছে, প্রায় ৫০ লাখ শিশু শিক্ষার বাইরে রয়েছে। 

আরও পড়ুন

×