ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শাপলা প্রতীক বরাদ্দ

সিইসি’র সঙ্গে বৈঠকে এনসিপি

সিইসি’র সঙ্গে বৈঠকে এনসিপি
×

বৈঠকে যোগ দিতে নির্বাচন ভবনে এনসিপি নেতারা 

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫ | ১৭:৫০ | আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৫ | ১৭:৫৪

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বৈঠকে বসেন। দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা এনসিপিকে বরাদ্দ দেওয়ার দাবিতেই তারা বৈঠক করছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার প্রতীক বাছাই করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পাঠানো এক চিঠির জবাবে এনসিপি জানিয়েছে, শাপলা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক পছন্দ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনকে এ কথা জানিয়েছে এনসিপি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় নাগরিক পার্টিকে দেওয়া এক চিঠিতে শাপল বাদে ৫০টি প্রতীকের একটি তালিকা থেকে নিজেদের প্রতীক বাছাই করতে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার ই-মেইলে ইসির সেই চিঠির জবাব দিয়েছে এনসিপি। 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, এনসিপি মনে করে গণমানুষের সাথে শাপলা প্রতীক কেন্দ্রীক তার গভীর সংযোগ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। শাপলা এনসিপির শুভাকাঙ্খী, সমর্থক, কর্মী, নেতৃবৃন্দকে দেশের জনগণের সঙ্গে চমৎকার বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

দেশের মানুষের ভালোবাসাকে উপেক্ষা করার শক্তি এনসিপির নাই; ফলশ্রুতিতে শাপলা ব্যতীত নির্বাচন কমিশনের পরিপ্রেরিত ৩০ সেপ্টেম্বরের চিঠির প্রেক্ষিতে বেঁধে দেওয়া তালিকা থেকে অন্য কোনো প্রতীক পছন্দ করা এনসিপির জন্য সম্ভবপর নয়।

৩০ সেপ্টেম্বর এনসিপিকে পাঠানো ইসির চিঠিতে বলা হয়, ‘এনসিপির ২২ জুন, ৩ আগস্ট ও ২৪ সেপ্টেম্বরের বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে, এনসিপি নামের দলটির নিবন্ধনের জন্য করা আবেদন প্রাথমিক পর্যালোচনায় বিবেচিত হয়েছে। আবেদনপত্রে প্রতীক হিসেবে পছন্দের ক্রম অনুযায়ী শাপলা, কলম ও মোবাইল উল্লেখ করা হয়। পরের দুটি আবেদনে তা পরিবর্তন করা হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৯(১) অনুযায়ী শাপলা প্রতীক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নেই। এ অবস্থায় প্রতীকের তালিকা থেকে বরাদ্দ হয়নি, এমন একটি প্রতীক পছন্দ করে নির্বাচন কমিশনকে ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিখিতভাবে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

এনসিপির চিঠিতে শাপলা প্রতীক দেওয়ার পক্ষে নানা ধরনের যুক্তি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, শাপলা পেতে এনসিপি প্রেরিত ৩ আগস্ট এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের দরখাস্তের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অদ্যাবধি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। অর্থাৎ ওই দরখাস্ত দু’টি অনিষ্পন্ন অবস্থায় রেখে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এনসিপি বরাবর ৩০ সেপ্টেম্বর চিঠি প্রেরণ করা বিধিসম্মত হয়নি বলে এনসিপি মনে করে। গণমানুষের সঙ্গে শাপলা প্রতীক কেন্দ্রিক তার গভীর সংযোগ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। শাপলা এনসিপির শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থক, কর্মী, নেতৃবৃন্দকে দেশের জনগণের সঙ্গে চমৎকার বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। দেশের মানুষের ভালোবাসাকে উপেক্ষা করার শক্তি এনসিপির নেই। ফলশ্রুতিতে শাপলা ব্যতীত নির্বাচন কমিশনের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বেধে দেওয়া তালিকা থেকে অন্য কোনো প্রতীক পছন্দ করা এনসিপির জন্য সম্ভবপর নয়।   

এনসিপি মনে করছে, শাপলাকে প্রতীক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করে শাপলা বরাদ্দ না দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কোনো আইনি ভিত্তি দ্বারা গঠিত নয়। বরং এনসিপির প্রতি বিরূপ মনোভাব ও স্বেচ্ছাচারী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচন কমিশনের এরূপ বৈরী আচরণ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের সদিচ্ছা ও সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

 

 

আরও পড়ুন

×