ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নতুন দমনপীড়ন হচ্ছে

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নতুন দমনপীড়ন হচ্ছে
×

 সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সমর্থকদের গ্রেপ্তারে সংশোধিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, বাংলাদেশে কর্মরত জাতিসংঘের মানবাধিকার দলের উচিত নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানানো। একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা ও রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করতে কর্তৃপক্ষকে উৎসাহিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্টে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা গ্রহণ করে। ওই বিক্ষোভে নিহত হয় প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ। সংশোধিত সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করে ২০২৫ সালের ১২ মে সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। দলটির সমর্থনে সভা, প্রকাশনা ও অনলাইনে দেওয়া বক্তব্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। আওয়ামী লীগ নেতা ও অধিকারকর্মীদের গ্রেপ্তারে আইনটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কারাগারে পুরে দেওয়া হোক কিংবা শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশে বাধা দেওয়া হোক— অন্তর্বর্তী সরকারের এমন কোনো পক্ষপাতমূলক আচরণ করা উচিত নয়, যা শেখ হাসিনা সরকারের সময় বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে করা হয়েছে।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলি আরও বলেন, সরকার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষায় সহায়তার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তাদের উচিত সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করা।

এইচআরডব্লিউ প্রতিবেদনে বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের অনেকের বিরুদ্ধে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অসংখ্য ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক রাখা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসাবঞ্চিত করাসহ পুলিশ হেফাজতে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ শেখ হাসিনার শাসনামলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
গত ২৮ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’র আলোচনা সভা থেকে সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদসহ ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) কার্যালয়ে ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। হঠাৎ একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি সভায় ঢুকে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের ঘিরে ফেলে। তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের অনুগত বলে অভিযোগ করে তারা।

সভায় অংশ নিয়েছিলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না। তিনি নিরাপত্তার জন্য পুলিশকে ফোন করেন। কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তারের বদলে পুলিশ আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া ১৬ জনকে আটক করে। এর মধ্যে কয়েকজনের বয়স ছিল ৭০ থেকে ৮০ বছর। শুরুতে পুলিশ পরিবার ও আইনজীবীদের জানিয়েছিল, নিরাপত্তার খাতিরে তাদের আটক করা হয়েছে। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয়।
সরকার রক্ষণশীল মুসলিমদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকেও নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। গোষ্ঠীগুলো তাদের দাবি আদায় করতে গিয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল জনতার (মব) হামলায় অন্তত ১৫২ জন নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

×