বিশ্ব খাদ্য দিবসে ১৫ দফা দাবি তিন সংগঠনের
ছবি- শহিদুল আলম
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | ১৬:০৭ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | ১৬:৪৯
দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করাসহ ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনসহ তিনটি সংগঠন। তারা বলেছে, খাদ্য নিয়ে চলমান আন্তর্জাতিক যড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রতিনিয়ত আমরা ভেজাল খাবার খাচ্ছি। খাদ্য শস্যে ভেজাল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশ ও মানববন্ধন থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন (বিকেএফ), এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিএমডিডি) এবং উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা)-এর যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- 'খাদ্যের অধিকার, জলবায়ু ন্যায় ও সার্বভৌম কৃষির জন্য অন্যায় করব্যবস্থা, ঋণনির্ভর নীতি ও কর্পোরেট দখল বন্ধ করতে হবে।'
সমাবেশ থেকে উত্থাপিত দাবি-দাওয়ার মধ্যে আরও রয়েছে, কৃষক ও খাদ্য শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান; নারী কৃষকের ভূমি ও বীজের অধিকার সুরক্ষিত করা; কৃষকদের জন্য স্থানীয় বীজ এবং ফসল উৎপাদনে স্বাধীনতা প্রদান; কর্পোরেট চাষ ও একক বাণিজ্য রোধ করা; জলবায়ু-সচেতন ও টেকসই কৃষি পদ্ধতি প্রয়োগ করা; ফসলের ন্যায্যমূল্য ও সহায়তা নিশ্চিত করা।
দাবিতে আরও রয়েছে- দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণে সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি; আন্তর্জাতিক খাদ্যবাণিজ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা; কৃষক ও নারীর নেতৃত্বকে প্রতিটি সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভূক্ত করা; কৃষকের অধিকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা রাখা; রাষ্ট্রকে কৃষকের বীজ ব্যবস্থাপনা, ফসলের জাত, জমি সংরক্ষণ ও স্থায়ীত্বশীল ব্যবহারের জন্য প্রযোজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ; জাতীয় পরিকল্পনায় কৃষক নির্ভর বীজ ব্যবস্থাপনা ও কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত করা; বীজ ও প্রাণবৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনায় কৃষকের অনুশীলনগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে অন্তর্ভূক্ত করা; স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃষক সংগঠন ও কৃষক নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট অন্য অংশীজনদের সাথে স্থানীয় জাতের বীজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা এবং প্রাণবৈচিত্র্য নির্ভর কৃষি ব্যবস্থা ও কৃষকের বীজ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতার আলোকে জাতীয় নীতি প্রণয়ন ও সংস্কার।
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিএমডিডি)-এর সমন্বয়ক লিডি ন্যাকপিল, উবিনীগ-এর পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জনি এবং উপদেষ্টা কৃষি গবেষক ড. এম এ সোবহান।
বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন আবুল হোসাইন, আবদুল আউয়াল, আমানুর রহমান, ইকবাল ফারুক, এএএম ফয়েজ হোসেন, শামীম আরা, সুলতান আহমেদ বিশ্বাস, লাভলী ইয়াসমীন, নাহিদুল হাসান নয়ন, আল-আমিন, শাজাহান সরকার, স্মিতা রাওম্যান, মেহনাজ মালা, সুনু রানী দাস, আল-এমরান, আশা মণি প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে বদরুল আলম বলেন, আজকের বিশ্ব খাদ্য দিবস প্রকৃতপক্ষে ‘বিশ্ব খাদ্যহীনতার' বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করছে। বাংলাদেশের কৃষক উৎপাদক হলেও খাদ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত। সরকার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মিলিতভাবে কৃষি, জ্বালানি ও খাদ্য নীতিকে কর্পোরেট মুনাফার পথে ঠেলে দিচ্ছে। খাদ্যকে পণ্য নয়, মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
লিডি ন্যাকপিল বলেন, আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক বিশ্বের ধনীতম দেশগুলোর জোট জি-৭-এর প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। যারা জলবায়ু সংকট ও ঋণ বিপর্যয়কে আরও গভীর করছে। এখনই সময় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণনির্ভর সমাধান প্রচার বন্ধ করার, বিশেষ করে ধনী দেশগুলোর কারণে সৃষ্ট জলবায়ু সংকটের মতো ইস্যুতে।
জাহাঙ্গীর আলম জনি বলেন, বীজ এখন বহুজাতিক কর্পোরেটের মালিকানাধীন। কৃষকরা প্রতিটি মৌসুমে বীজ কিনতে বাধ্য, যা তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতা হরণ করছে। আমাদের দাবি- বীজের স্বাধিকার কৃষকের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে।
অন্য বক্তারা বলেন, খাদ্য সংকট শুধু উৎপাদনের সংকট নয়। এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের ঋণনীতি, করবহুল বৈষম্যমূলক অর্থনীতি ও জলবায়ুবিনাশী উন্নয়ন মডেল এই সংকটের মূল কারণ। খাদ্য নিরাপত্তার পরিবর্তে খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে হবে। যেখানে কৃষক, নারী ও স্থানীয় সম্প্রদায় নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে, কার জন্য এবং কোন পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদিত হবে।
খাদ্য সার্বভৌমত্ব, পরিবেশ-প্রতিবেশবান্ধব কৃষি, জলবায়ু ন্যায় ও ন্যায়সঙ্গত করনীতি নিশ্চিত করতে কৃষক, শ্রমিক ও নারী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে অংশ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
- বিষয় :
- খাদ্য নিরাপত্তা
