ভারতকে বলবো, শেখ হাসিনাকে থামান: সুব্রত চৌধুরী
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে কথা বলেন সুব্রত চৌধুরী। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫ | ১৩:৪৯ | আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:১০
ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংযত রাখার জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ভারতকে বলবো, শেখ হাসিনাকে থামান। তাকে এভাবে দিল্লীতে রেখে এবং এভাবে নানা রকম কথা বলিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক নষ্ট করবেন না। ভৌগোলিক এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কারণেই দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনি কাঠামো অপেক্ষা রাজনৈতিক সদিচ্ছা বেশি জরুরি’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনাকে বলি দিল্লীশ্বরী। শেখ হাসিনা দিল্লীতে বসে নানা রকম কথাবার্তা বলে দেশে থাকা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সাধারণ ও নিরীহ নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলছেন।
অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আপনি তো হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে চলে গেছেন। আর এখন দেশে নেতাকর্মীদের মিছিলে নামিয়ে বিপদে ফেলছেন। এগুলো করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করবেন না। জুলাই গণহত্যার দায় শেখ হাসিনার বিচার কার্যক্রম দেশের রাজনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর না করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে জুলাই যোদ্ধারা সই না করলে এটা মূল্যহীন। কারণ, জুলাই জাতীয় সড়ক জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের আখরে লেখা। তিনি বলেন, তোমরা (এনসিপি নেতারা) জুলাই যোদ্ধা হয়েও এটাতে সই না করে দর কষাকষিতে নেমে পড়েছো। তোমরা সবেমাত্র একটা দল করেছ। তোমাদের অনেক ভবিষ্যৎ সামনে। এখনই এত অস্থিরতা দেখাচ্ছ কেন?
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে করতে গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ বাজিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ৩১ দিনে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। এই চেতনা ব্যর্থ হলে রাষ্ট্র ব্যর্থ হবে, অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হবে। আর এই ব্যর্থতার দায়ভার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ কেউই এড়াতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, দেশে এখন ত্রিমুখী রাজনৈতিক লড়াই চলছে। জুলাই সনদের মাধ্যমে দেশের মানুষ চেয়েছিল ঐক্যের বাংলাদেশ। কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র মতপার্থক্যের কারণে তৈরি হচ্ছে বিভক্তির বাংলাদেশ। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে যেভাবে মন্তব্য বক্তব্য রাখছে, তাতে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাধাগ্রস্থ হবে। ফ্যাসিবাদী শক্তি ফিরে আসবে।
কিরণ বলেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভন্ডুল করার অপচেষ্টা করছে। বিভাজনের রাজনীতিকে উসকে দিচ্ছে। ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। তবে নির্বাচন মানে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা নয়। জবাবদিহিতা না থাকলে কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়।
ছায়া সংসদে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি দল।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মাদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, আসিফ সুমিত ও লামিয়া তিথি। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
- বিষয় :
- ভারত
- শেখ হাসিনা
- গণফোরাম
