এম এন লারমার স্মরণসভায় বক্তারা
অন্তর্বর্তী সরকার পাহাড়িদের অধিকারের কথা বলছে না
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় এম এন লারমার ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। ছবি-সমকাল
রাঙামাটি অফিস, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | ২৩:১৮
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম এন লারমা) কেবল পাহাড়ি মানুষের নেতা ছিলেন না। তিনি সারাদেশের নিপীড়িত মানুষের কথা বলেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরও আদিবাসীসহ নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকার পাহাড়িদের অধিকার ও
পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলছে না। জুলাই সনদে আদিবাসীদের কথা নেই।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় এম এন লারমার ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন। মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটি এ আয়োজন করে। সভার আগে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর শোক প্রস্তাব পাঠ করেন এম এন লারমার ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা।
জাতীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. গজেন্দ্রনাথ মাহাতোর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব হিরন মিত্র চাকমা ও ত্রিজিনাদ চাকমার সঞ্চালনায় স্মরণসভা শেষে গান, কবিতা পাঠ ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। কবিতা পাঠ করেন শর্মী চাকমা ও নিশিহা ত্রিপুরা।
সভায় জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা বাহাত্তরের সংবিধানে আদিবাসীসহ মেহনতি মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি সে সময় সংসদে দাঁড়িয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন তিনি চাকমা, একজন চাকমা কোনোদিন বাঙালি হতে পারে না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, জুলাই সনদে আদিবাসী মানুষের কথা নেই, অথচ কেবল মুখে বহুত্ববাদ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলা হচ্ছে। গণঅভ্যত্থান-পরবর্তী পাহাড়ি আদিবাসীরা কমপক্ষে দুটি সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছেন।
বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের যত রাজনৈতিক দল আছে তারা অন্য জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো মানসিকতা এখনও তৈরি করতে পারেনি। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন বলেন, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা জুম্ম জাতির অধিকারের কথা ছাত্রজীবন থেকে বলেছিলেন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সহসাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ৭২-এর সংবিধানে নিপীড়িত মানুষের অধিকারের কথা বলা হয়নি। সে সময় শোষিত মানুষের বন্ধু মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা তাদের হয়ে কথা বলেছেন।
এ ছাড়া স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ তারেক, সাংবাদিক এহসান মাহমুদ ও সাইফুর রহমান তপন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা ও নারীনেত্রী শিরীন হক।
খাগড়াছড়িতে স্মরণসভা
খাগড়াছড়ির মহালছড়ির খুলারামপাড়ায় রাধামন ধনপুদি ক্রীড়া মাঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জুম্ম জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্মরণসভা হয়েছে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি জেলা সদরে মহাজনপাড়া সূর্যশিখা ক্লাব থেকে শোক র্যালি বের করা হয়। তারা চেঙ্গী স্কোয়ারে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার স্মৃতি ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর খাগড়াছড়ি সদরে তেঁতুলতলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কার্যালয়ে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
রাঙামাটিতে স্মরণসভা
রাঙামাটিতে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক শিশির চাকমা। এতে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮ বছর কেটে গেলেও এখনও কোনো আগ্রগতি হয়নি। চুক্তি বাস্তবায়ন চাইলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
- বিষয় :
- স্মরণসভা
