ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা

গাড়িতে চোরাগোপ্তা আগুন, মৃত্যু

ময়মনসিংহে গভীর রাতে বাসে আগুন, ঘুমন্ত চালকের মৃত্যু

গাড়িতে চোরাগোপ্তা আগুন, মৃত্যু
×

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বাসের ভেতরে প্রাণ হারানো চালক জুলহাস উদ্দিনের মৃত্যুতে বিলাপ করছিলেন তাঁর বোন ময়না আক্তার ও মা সাজেদা আক্তার । গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কৈয়ারচালা গ্রামে -সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩০ | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

চোরাগোপ্তা আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণে জনমন আতঙ্কিত। নাশকতার ভীতি রাজধানীসহ সর্বত্র। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। এতে গাড়ির ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় চালক জুলহাস মিয়া (২৫) মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চারটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে ৯টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হলো।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অনলাইনে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবারের এই কর্মসূচির আগে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটল। সোমবার ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে ঢাকার অন্তত ১০টি জায়গায়। 

গতকাল রাত ৮টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ১১/এ সড়কে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ের সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে ককটেল ছুড়ে পালিয়েছে বলে জানায় পুলিশ। 

ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টাকালে দুই যুবলীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন ফরিদপুর সদর থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তন্ময় সাহা ও ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরহাদ। 

জানতে চাইলে গতকাল রাতে পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম সমকালকে বলেন, শুধু পুলিশ নয়; অন্য সব বাহিনী যার যার অবস্থান থেকে আগুন-সন্ত্রাস ও নাশকতা ঠেকাতে কাজ করছে। অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। আগুন ও ককটেল হামলায় কারা জড়িত– এ প্রশ্নে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, ‘হাতেনাতে অনেকে ধরা পড়ছে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আশা করি, দ্রুত তারা ব্রেকডাউন করবে। আগের মতো চাপ প্রয়োগ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব নয়। তবে যারা জড়িত, তাদের শেষ দেখে ছাড়ব।’

১৩ নভেম্বর সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্ত অবস্থানে আছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। কাউকে সন্দেহভাজন মনে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য জনগণকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

ঢাকায় কয়েকটি বাসে আগুন এবং বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘিরে জনমনে সৃষ্ট আতঙ্কের মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী। তিনি জানান, গত কয়েক দিনে ঢাকার ১৫ স্থানে ১৭টি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

সূত্র জানায়, গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আজ ঢাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্য (বিজিবি) মোতায়েনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সতর্ক অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে ৬৪ জেলার এসপিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। ঢাকার সব প্রবেশপথে থাকছে বাড়তি চেকপোস্ট। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে নিয়োজিত থাকবে অন্তত ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছে। 

এদিকে চলমান সহিংসতা ও নাশকতার প্রেক্ষাপটে দেশের সব বিমানবন্দরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করার কথা ১৩ নভেম্বর। এ মামলার প্রধান আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (রাজসাক্ষী)। 

বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে চারটি ও ময়মনসিংহে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পাঁচটি গাড়ির মধ্যে চারটি বাস ও অন্যটি প্রাইভেটকার। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন দেওয়ায় নিহত জুলহাস মিয়া কৈয়ারচালা গ্রামের আবদুল বারেক ও সাজেদা খাতুন দম্পতির ছেলে। দীর্ঘদিন বাস চালিয়ে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করছিলেন তিনি। জুলহাস বিবাহিত হলেও তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনজন বাসে আগুন দিয়েছেন। 
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রোকনুজ্জামান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুখোশ পরা তিনজন মাত্র তিন সেকেন্ডের মধ্যে বাসে আগুন দিয়ে চলে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা জুলহাসের দেহ পুড়ে গেছে। এতে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্ঠা চলছে। 

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা রাফি আল ফারুক সমকালকে জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত ঢাকায় চারটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। সূত্রাপুরে মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে কেউ হতাহত হননি। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কাজলায় রাঈদা পরিবহনের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ভোর ৪টার দিকে উত্তরায় একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া রাত ১টা ১০ মিনিটে রায়েরবাগে রাজধানী পরিবহনের বাস ও ২টা ৩৫ মিনিটে ভাটারায় পরিত্যক্ত একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়া হয়। 

রাজনৈতিক নেতারা যা বলছেন 
আগুন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কথা বলছেন তারা। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সমকালকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ফোকাস থাকা দরকার ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। কিন্তু এতে তারা মনোযোগ দেয়নি। সব অপরাধী এখন মুক্ত। আওয়ামী লীগ আমলে অনেকের হাতে অস্ত্র ছিল, তাও জব্দ করা যায়নি। এখনও যদি সরকার নড়েচড়ে না বসে, নির্বাচনের সময় আরও খারাপ পরিস্থিতি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, একটি দল নির্বাচন প্রতিহত করার ষড়যন্ত্র করছে। সেই শক্তির উত্থান হচ্ছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, নাশকতা হলে নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তারা স্বাভাবিক করতে পারেনি। ভোটের সময় কী হবে– এটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘিরে আওয়ামী লীগ নাশকতা করতে পারে– সরকারকে এটা বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে।   

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, মূলত বিএনপি তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। আবার আগামী ১৩ নভেম্বর রায় ঘিরে আওয়ামী লীগও সহিংসতা শুরু করেছে। তাই কারা এটা করছে, বোঝা মুশকিল। অভ্যুত্থানের দল হিসেবে এনসিপি আওয়ামী লীগের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করারও চেষ্টা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। 

চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি  
‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। নিয়মিত চেকপোস্ট ছাড়াও সোমবার রাত থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি পয়েন্টে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই রাতে মেস, হোস্টেল এবং আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা কয়েক দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সারাদেশ থেকে ঢাকায় নেতাকর্মীদের আসার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে জেলা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে জেলা পর্যায় থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে না পারেন। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। কর্মসূচি নিয়ে প্রচারণায় সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করায় পুলিশের সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক কাজ করছে। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো ৫০টি থানার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এ কার্যক্রমের পাশাপাশি ১৩ নভেম্বর ঘিরে রাজধানীর দারুস সালাম, দিয়াবাড়ী, শাহ আলী থানার রাইনখোলা, পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক, দয়াগঞ্জ মোড়, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, মহাখালী, ডেমরা, পল্টনের বিজয়নগরসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি পয়েন্টে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে বিশেষ চেকপোস্ট আরও বাড়ানো হবে। বিভিন্ন যানবাহনসহ সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যাতে ঝটিকা মিছিল এবং বেআইনি কোনো কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে জন্য টহল বাড়ানো হয়েছে। কোথাও ঝটিকা মিছিল হলে তাতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

পুলিশ জানায়, বিভিন্ন জেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঢাকায় প্রবেশ করলে মেস, হোস্টেল কিংবা আবাসিক হোটেলে অবস্থান করতে পারেন। এ কারণে এসব জায়গায় অভিযান শুরু হয়েছে সোমবার রাত থেকে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা ও পরিবহন টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

অভিযান ও গ্রেপ্তার
ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের আরও ২২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ডিবির মতিঝিল, গুলশান, রমনা, লালবাগ, তেজগাঁও, উত্তরা ও সাইবার ক্রাইম বিভাগের দলগুলো এসব অভিযান চালায়।

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নগরের বন্দর থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সোমবার সকালে নগরের বারিক বিল্ডিং মোড় ও গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় ঝটিকা মিছিল করা হয়। 

ঢাকার ধামরাইয়ে গোপন বৈঠক ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা এবং ধানকোড়া ইউনিয়নের নয়াডিঙ্গী এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

ঢাকায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আছেন– দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোহানুর রহমান মিশাল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য মোহাম্মদ আনিকুল ইসলাম নাঈম, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সোবহান মিয়া, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাওন, বেগমগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য আবদুর রহিম, শেরেবাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান, কাফরুল থানাধীন ৯৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক তালুকদার, ৫৯ নম্বর ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী বিলকিস আক্তার কলি, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সোহাগ, মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম লিটন। 


 

আরও পড়ুন

×